TCS Religious Conversion Case Update: মহারাষ্ট্রের নাসিকে টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)-এর ধর্মান্তরকরণ সংক্রান্ত বহুল আলোচিত মামলায় বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। আদালতের একাধিক সমন অগ্রাহ্য করায় ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর কর্পোরেটর মতিন প্যাটেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা নাগাদ তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাসিকে নিয়ে যায় পুলিশ। একইসঙ্গে তাঁর বাড়ি ও অফিসে বুলডোজার অভিযানও শুরু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, টিসিএসের প্রাক্তন কর্মী নিদা খানকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মতিন প্যাটেলের বিরুদ্ধে। নিদা খান এই ধর্মান্তরকরণ মামলার অন্যতম অভিযুক্ত। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত চলাকালীন আদালত বারবার হাজিরার নির্দেশ দিলেও তিনি উপস্থিত হননি। এরপর আদালতের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই মামলার সূত্রপাত হয় টিসিএসের নাসিক ইউনিটের এক মহিলা কর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে। অভিযোগকারী জানান, তাঁর সহকর্মী দানিশ শেখ ২০২২ সালে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, দানিশ শেখ আগে থেকেই বিবাহিত। তদন্তে উঠে আসে, দানিশের বোন নিদা খানও অভিযোগকারীর উপর ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিলেন এবং তাঁর ধর্ম সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন।
পুলিশের দাবি, নিদা খান অভিযোগকারীকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে প্ররোচিত করার জন্য বোরখা ও ধর্মীয় বইপত্র উপহার দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, তাঁর মোবাইল ফোনে ইসলাম-সংক্রান্ত বিভিন্ন অ্যাপ ইনস্টল করে দেন, বাড়িতে গিয়ে নামাজ পড়ার নিয়ম শেখান এবং হিজাব পরার পদ্ধতিও দেখিয়ে দেন। তদন্তকারীদের মতে, এটি পরিকল্পিতভাবে ‘ব্রেনওয়াশ’-এর অংশ ছিল।
এই ঘটনায় টিসিএসের নাসিক ইউনিটে কর্মরত মহিলা কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক নিগ্রহ, জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টা, শ্লীলতাহানি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মোট নয়টি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ সেই সমস্ত অভিযোগের তদন্ত করছে।
{{/usCountry}}এই ঘটনায় টিসিএসের নাসিক ইউনিটে কর্মরত মহিলা কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক নিগ্রহ, জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টা, শ্লীলতাহানি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মোট নয়টি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ সেই সমস্ত অভিযোগের তদন্ত করছে।
{{/usCountry}}প্রায় ২৫ দিন পলাতক থাকার পর চলতি বছরের ৭ মে ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে নিদা খানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণ দেখিয়ে আদালতে জামিনের আবেদন করেন। গত মাসে নাসিকের একটি স্থানীয় আদালত তাঁর আবেদন মঞ্জুর করে। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, কারাগারে সন্তানের জন্ম দেওয়ার মানসিক যন্ত্রণা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। বিচারক এই প্রসঙ্গে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মের ঘটনাও উল্লেখ করেন।
এদিকে, টিসিএস ইতিমধ্যেই এই মামলায় অভিযুক্ত কর্মীদের সাময়িক বরখাস্ত করেছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, জোরজবরদস্তি বা যে কোনও ধরনের চাপ সৃষ্টি করার বিরুদ্ধে তাদের দীর্ঘদিনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতিন প্যাটেলের গ্রেফতারের পর তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের মধ্যে আর কারা এই ঘটনায় জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মামলাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।