Nasik TCS Sexual Harassment: ধর্মান্তরকরণ চক্র এবং যৌন হেনস্থার অভিযোগে জেরবার টিসিএস। সংস্থার নাসিক অফিসের বেশ কয়েকজন টিম লিডারকে এই চক্র চালানোর অভিযোগে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এরই মাঝে এবার বিস্ফোরক সেই অফিসে কাজ করা এক প্রাক্তন নারী কর্মচারী। টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)-এর একজন প্রাক্তন কর্মী এনডিটিভিকে জানিয়েছেন যে, সংস্থাটির নাসিক অফিসের টিম লিডাররা তাদের ডেস্ক দাপ্তরিক কাজের জন্য নয়, বরং নারী সহকর্মীদের মানসিকভাবে ও নৈতিকভাবে শোষণ করার জন্য ব্যবহার করত। সেই প্রাক্তন কর্মচারীটি বলেন, অভিযুক্তরা নারী কর্মীদের টিম লিডারদের ডেস্কে ডাকার সময় অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করত।

এনডিটিভিকে সেই প্রাক্তন কর্মী বলেন, এই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত তৌসিফ আত্তার নাকি হিন্দুদের উৎসবের সময় মহিলারা শাড়ি বা টিপ পরলে উলটোপালটা কথা বলত। এদিকে সেই নারী আরও দাবি করেন, তাঁদের সেই অফিসে কৃষ্ণা নামে এক ব্যক্তি চাকরি করতেন। তিনি পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নেন। এদিকে এই প্রাক্তন কর্মচারী আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন দানিশ এবং রাজা নামে দুই অভিয়ুক্তের বিরুদ্ধে। এই দু'জন নাকি সপ্তাহান্তে হোটেল এবং রিজর্টে ঘর বুক করত এবং নারী কর্মচারীদের তাদের সাথে সেখানে যেতে বাধ্য করত। এই গোটা অফিসের সংস্কৃতি খুব 'টক্সিক' ছিল বলে অভিযোগ সেই নারীর।
উল্লেখ্য, নাসিকে তথ্য প্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসে মহিলা কর্মীদের যৌন হেনস্থা এবং ধর্মান্তরিত করার অভিযোগের ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। শ্লীলতাহানি ও ধর্মান্তরণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার টিসিএস কর্মীরা হল- আসিফ আনসারি, শফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন, তৌসিফ আত্তার এবং অশ্বিন চাইনানি। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সি টিসিএস-এর একাধিক মহিলা কর্মীরা এফআইআর করেছেন এই ঘটনায়। অভিযোগ, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে তাঁদের উপর নির্যাতন চলেছে। সংস্থায় কর্মরত অভিযুক্তরা প্রথমে অত্যন্ত সুকৌশলে ওই তরুণীদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং বৈবাহিক জীবনের নানা সমস্যার কথা জেনে নিত। এরপর সেই তাদের সেই ব্যক্তিগত দুর্বল বিষয়গুলিকেই হাতিয়ার করা হত। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত মহিলাদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেল করা হত এবং ভয় দেখানো হত কিংবা প্রেমের ফাঁদে ফেলা হত। এরপর দিনের পর দিন ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থা চলত। তাঁদের ধর্মীয় ভাবাবেগেও আঘাত করা হত বলে অভিযোগ করেছেন মহিলা কর্মীরা। পরে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য ব্রেনওয়াশ করা হত তাঁদের।