জম্মু-কাশ্মীরে শাসকদল ন্যাশনাল কনফারেন্সের অন্দরে বিদ্রোহের জল্পনা। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ নিয়ে ক্ষুব্ধ দলের একাধিক বিধায়ক। তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত আসরে নামলেন দলের সভাপতি তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা। শুক্রবার শ্রীনগরে নিজের বাসভবনে ১৫ জন অসন্তুষ্ট বিধায়কের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও। বৈঠকের পর দল ভাঙার সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ফারুকের স্পষ্ট বার্তা, ‘ন্যাশনাল কনফারেন্সকে কেউ ভাঙতে পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না।’ তাঁর দাবি, দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে বলে যে প্রচার চলছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

গত ২৭ অক্টোবর জম্মু-কাশ্মীরের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। নতুন করে চার জন মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হয়। এর ফলে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা বেড়ে সর্বোচ্চ ন'জনে পৌঁছয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তেই দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের প্রবীণ নেতা ও ছ'বারের বিধায়ক মুবারক গুল-সহ কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় জায়গা না দেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ে। দলের একাধিক বিধায়ক প্রকাশ্যেই নিজেদের অসন্তোষের কথা জানান। এর পরেই একাধিকবার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন তাঁরা। দলের নেতৃত্বের কাছে নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরার সিদ্ধান্তও নেন।
শুক্রবার ফারুক ও ওমরের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ১৫ জন অসন্তুষ্ট বিধায়ক। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মুবারক গুল, বশির আহমেদ ভিরি, আবদুল মাজিদ ভাট লারমি, নাজির আহমেদ গুরেজি এবং জাভেদ মিরচাল-সহ একাধিক নেতা। বৈঠকে নিজেদের দাবিদাওয়া লিখিত ভাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পেশ করেন তাঁরা।
কী দাবি ক্ষুব্ধ বিধায়কদের? তাঁদের মূল দাবি তিনটি। প্রথমত, গোটা মন্ত্রিসভার নতুন করে পুনর্বিন্যাস করতে হবে। বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন করে মন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা নাসির আসলাম ওয়ানিকে পদ থেকে সরাতে হবে। তৃতীয়ত, দলের বিধায়কদের যথাযথ সম্মান দিতে হবে। তাঁদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শোনার জন্য দলের ভিতরে নির্দিষ্ট ব্যবস্থাও তৈরি করতে হবে। বিধায়কদের একাংশের অভিযোগ, ২০২৪ সালে সরকার গঠনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছে তাঁরা অবহেলা ও অসম্মানের শিকার হচ্ছেন।
{{/usCountry}}কী দাবি ক্ষুব্ধ বিধায়কদের? তাঁদের মূল দাবি তিনটি। প্রথমত, গোটা মন্ত্রিসভার নতুন করে পুনর্বিন্যাস করতে হবে। বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন করে মন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা নাসির আসলাম ওয়ানিকে পদ থেকে সরাতে হবে। তৃতীয়ত, দলের বিধায়কদের যথাযথ সম্মান দিতে হবে। তাঁদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শোনার জন্য দলের ভিতরে নির্দিষ্ট ব্যবস্থাও তৈরি করতে হবে। বিধায়কদের একাংশের অভিযোগ, ২০২৪ সালে সরকার গঠনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছে তাঁরা অবহেলা ও অসম্মানের শিকার হচ্ছেন।
{{/usCountry}}বৈঠকের পর ফারুক জানান, প্রত্যেকের বক্তব্য শোনা হয়েছে। বিধায়কদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিছু বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে। অন্য বিষয়গুলির সমাধান ধাপে ধাপে করা হবে। দলের সংগঠন এবং সরকারকে আরও শক্তিশালী করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া এবং ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেছেন ফারুক। তাঁর বক্তব্য, এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।
উল্লেখ্য, দলের অন্দরের এই অসন্তোষের মধ্যেই শ্রীনগরের সাংসদ আগা রুহুল্লা মেহদিও ন্যাশনাল কনফারেন্স ছাড়ার কথা জানিয়েছেন। সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি। ফলে একাধিক দিক থেকে চাপের মুখে ওমর আবদুল্লার নেতৃত্বাধীন দল।
ফারুকের আশ্বাসে আপাতত ক্ষুব্ধ বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনার পথ খুলেছে। তবে তাঁদের দাবি কতটা মেনে নেওয়া হবে, সেটাই এখন দেখার। আপাতত দল ভাঙার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেও ন্যাশনাল কনফারেন্সের অন্দরের অসন্তোষ যে পুরোপুরি মিটে গিয়েছে, তা বলার সময় এখনও আসেনি।