NCPI MP Kakoli in NDA Meeting: জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা উসকে দিল বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) সংসদীয় দলের বৈঠক। মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডার সঙ্গে একই সারিতে বসার সুযোগ পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন নেত্রী তথা ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর মুখ্যসচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই আসন বিন্যাসই দিল্লির শাসকজোটে এনসিপিআই-এর ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্রের খবর, সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডানদিকে পঞ্চম আসনে বসানো হয় কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। সাধারণত এই সারিতে এনডিএ-র শীর্ষ নেতৃত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ শরিক দলের প্রতিনিধিরাই বসেন। ফলে কাকলির এই অবস্থান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা শুরু হয়েছে। বৈঠকে এনসিপিআই-এর আর এক সাংসদ শতাব্দী রায়ও উপস্থিত ছিলেন।
এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হল, যখন নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধীদের তীব্র আক্রমণের মুখে। সোমবার লোকসভায় প্রশ্নফাঁস রুখতে একটি কঠোর বিল পেশ করেছে কেন্দ্র। তবে বিরোধীদের হট্টগোলের জেরে সেই বিল নিয়ে আলোচনা শুরু করা সম্ভব হয়নি। এর পাশাপাশি আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিলেও প্রয়োজনীয় সংশোধন করে তা ফের সংসদে আনার প্রস্তুতি চলছে। এই পরিস্থিতিতে মোদী-শাহের উপস্থিতিতে এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠক রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে সোমবার রাতে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন এনসিপিআই-এর লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে জানা গিয়েছিল, মঙ্গলবার দিল্লিতে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু অন্য কর্মসূচির কারণে তাঁর দিল্লি সফর বাতিল হয়। তার আগেই নবান্নে গিয়ে সুদীপের সঙ্গে তাঁর বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই গঠনের সময় থেকেই দলের নেতারা ঘোষণা করেছিলেন, তাঁরা সংসদে এনডিএ-কে সমর্থন করবেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎও করেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ১৯ জুলাই এনসিপিআই-এর সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকের পরেও তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, সংসদে তাঁদের দল এনডিএ-র পাশেই থাকবে। একইসঙ্গে তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার সমস্যা নিয়ে তাঁরা সরাসরি কেন্দ্রের দ্বারস্থ হবেন না; সেই বিষয়গুলি মুখ্যমন্ত্রীর কাছেই তুলে ধরবেন।
{{/usCountry}}তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই গঠনের সময় থেকেই দলের নেতারা ঘোষণা করেছিলেন, তাঁরা সংসদে এনডিএ-কে সমর্থন করবেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎও করেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ১৯ জুলাই এনসিপিআই-এর সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকের পরেও তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, সংসদে তাঁদের দল এনডিএ-র পাশেই থাকবে। একইসঙ্গে তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার সমস্যা নিয়ে তাঁরা সরাসরি কেন্দ্রের দ্বারস্থ হবেন না; সেই বিষয়গুলি মুখ্যমন্ত্রীর কাছেই তুলে ধরবেন।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এনডিএ বৈঠকে প্রথম সারিতে বসা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। দলের সাংসদ সৌগত রায় বলেন, এনসিপিআই-এর সাংসদেরা তৃণমূলের প্রতীক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভোটে জয়ী হয়েছেন। বিজেপির বিরোধিতা করে নির্বাচিত হওয়ার পর এখন বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটকে সমর্থন করা ভোটারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে এনডিএ-র বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের প্রথম সারিতে বসা শুধু প্রোটোকলের বিষয় নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে এনসিপিআই-এর অবস্থান ও গুরুত্ব নিয়েই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।