NEET Exam Cancelled: দেশের সবথেকে বড় চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি ২০২৬ বাতিল করার ঘোষণা করল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। গতকালই নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। প্রশ্নপত্র ছাপানোর আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। তাই গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া এই পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে আবার নতুন করে পরীক্ষা দিতে হবে। একই সঙ্গে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে সিবিআই-এর হাতে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ক

রাজস্থানের শিকর জেলায় প্রাকটিস প্রশ্নপত্রের সঙ্গে নিট পরীক্ষার আসল প্রশ্নপত্রের একটা বড় অংশ মিলে গিয়েছে। সোমবারই এই খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। রাজস্থান স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ সূত্রের খবর, গত ৩ মে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ৭২০ নম্বরের মধ্যে ৬০০ নম্বরের প্রশ্নই মিলে গিয়েছিল। তারপর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, নিছকই ওই প্রশ্নপত্র মিলে গিয়েছে নাকি সত্যিই পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র লিক হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হয়। তদন্তের পরই জানা যায় প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগেই ফাঁস হয়েছে। তারপরই পুরো পরীক্ষাই বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ামক সংস্থা এনটিএ।
ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে পাওয়া বেশ কিছু তথ্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে যে, পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় আপস করা হয়েছিল। স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার স্বার্থে এই পরীক্ষা বাতিল করা ছাড়া আর কোনও পথ ছিল না বলে জানিয়েছে এনটিএ। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিবিআই খতিয়ে দেখবে কীভাবে পরীক্ষার আগেই এই প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়েছিল এবং এর পিছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে কিনা। এনটিএ জানিয়েছে, তারা সিবিআই-কে সমস্ত ডেটা ও নথি দিয়ে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
ফের কবে হবে পরীক্ষা?
এনটিএ নিশ্চিত করেছে যে নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা আবার নেওয়া হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পরীক্ষা বাতিল সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে এনটিএ। সেখানে বলা হয়েছে, সমস্ত প্রমাণ খতিয়ে দেখার পর পরীক্ষাটি বাতিল করতে হচ্ছে। পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার জন্য এই পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। পরীক্ষার নতুন তারিখ খুব শীঘ্রই অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। যদিও এর ফলে ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের কিছুটা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে, তবে দীর্ঘমেয়াদী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে দাবি করা হয়েছে।
নতুন করে পরীক্ষা দিতে গেলে কী কী করতে হবে?
{{/usCountry}}এনটিএ নিশ্চিত করেছে যে নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা আবার নেওয়া হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পরীক্ষা বাতিল সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে এনটিএ। সেখানে বলা হয়েছে, সমস্ত প্রমাণ খতিয়ে দেখার পর পরীক্ষাটি বাতিল করতে হচ্ছে। পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার জন্য এই পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। পরীক্ষার নতুন তারিখ খুব শীঘ্রই অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। যদিও এর ফলে ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের কিছুটা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে, তবে দীর্ঘমেয়াদী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে দাবি করা হয়েছে।
নতুন করে পরীক্ষা দিতে গেলে কী কী করতে হবে?
{{/usCountry}}নতুন করে পরীক্ষা দিতে গেলে যে বিষয়গুলি নজর রাখতে হবে, সেগুলি হল-
১. নতুন রেজিস্ট্রেশন নয়: পরীক্ষার্থীদের আবার নতুন করে আবেদন করতে হবে না। পুরনো রেজিস্ট্রেশন ম্বরেই পরীক্ষা দিতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা।
২. পরীক্ষা কেন্দ্র: আগে নির্বাচিত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোই বহাল থাকবে। অর্থাৎ আগে যে কেন্দ্রগুলিতে পরীক্ষা দিয়েছিলেন পরীক্ষার্থীরা, সেই কেন্দ্রেই পরীক্ষা দিতে পারবেন।
৩. কোনও ফি লাগবে না: নতুন পরীক্ষার জন্য বাড়তি কোনও ফি দিতে হবে না। এমনকী আগের দেওয়া ফি রিফান্ড বা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হবে।
৪. নতুন অ্যাডমিট কার্ড: পরীক্ষার আগে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর জন্য নতুন অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করা হবে।
এনটিএ-র পক্ষ থেকে পরীক্ষার্থীদের অনুরোধ করা হয়েছে যেন তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কোনও গুজবে কান না দেন। সঠিক তথ্যের জন্য শুধুমাত্র এনটিএ-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছে। নতুন তারিখ ঘোষণার আগে ছাত্রছাত্রীদের নিজেদের প্রস্তুতি পুনরায় শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বলে রাখা ভালো, মোট ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী নিট পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় আবার নতুন করে এত লক্ষ পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে হবে। এদিকে, নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শুধুমাত্র রাজস্থানেই এখনও পর্যন্ত ৪৫ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এরমধ্যে ভারতের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষা নিয়ে এমন অভিযোগ সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। তবে সরকার এবং এনটিএ-র এই কঠোর অবস্থান এবং সিবিআই তদন্তের নির্দেশ কার্যত প্রমাণ করে, যে কোনও প্রকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে।