Nepal Flash Flood Death Toll Update: হিমালয়ের কোলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপাল ও তিব্বত। মঙ্গলবার পর্যন্ত দুই অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা ১,০০০ পেরিয়ে গিয়েছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু নেপালেই এখনও পর্যন্ত ৯৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩,৯১৬ জন, তাঁদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক। অন্যদিকে, চিনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী তিব্বতে মৃতের সংখ্যা ১৬।

বিপর্যয়ের পর জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। নেপাল সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১১,৮১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় রাস্তা ও সেতু ভেঙে যাওয়ায় বহু গ্রাম ও জনপদ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আটকে পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছতে হেলিকপ্টার-সহ বিভিন্ন ধরনের বিমান ব্যবহার করছে উদ্ধারকারী দল।
গত ২৬ অগস্ট হিমালয়ের উচ্চভূমিতে একের পর এক প্রাকৃতিক ঘটনার মধ্য দিয়ে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত। একটি হিমবাহ ভেঙে বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ ও গলিত জল নীচের উপত্যকায় নেমে আসে। তার জেরে তৈরি হয় প্রবল জলস্রোত। সেই জল ও ধ্বংসাবশেষ দ্রুত নেমে আসে তিব্বত ও নেপালের বিভিন্ন নদীতে। মুহূর্তের মধ্যে নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়।
উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণকারী বিজ্ঞানীদের মতে, হিমবাহের নীচে থাকা শিলাস্তরের একটি অংশ ভেঙে পড়ার ফলেই এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। এতটাই শক্তিশালী ছিল এই ধস যে, সেটি ৫.২ মাত্রার ভূকম্পনজনিত ঘটনা হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে বহু বাড়ি, রাস্তা, সেতু ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত নদীপথ ধরে বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, নেপালি সেনা গত সপ্তাহের ভোতেকোশি নদীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ২৭৯ জনকে উদ্ধার করেছে। বেশ কয়েকটি প্রকল্প এলাকায় এবং সুড়ঙ্গের ভিতরেও এখনও তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির সংগঠন আইপিপ্যান জানিয়েছে, ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী করিডরের বন্যাকবলিত ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৮৯৪ জনের এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
{{/usCountry}}বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, নেপালি সেনা গত সপ্তাহের ভোতেকোশি নদীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ২৭৯ জনকে উদ্ধার করেছে। বেশ কয়েকটি প্রকল্প এলাকায় এবং সুড়ঙ্গের ভিতরেও এখনও তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির সংগঠন আইপিপ্যান জানিয়েছে, ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী করিডরের বন্যাকবলিত ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৮৯৪ জনের এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
{{/usCountry}}এদিকে নেপালে আটকে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধারে তৎপর হয়েছে ভারতও। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত ১৫৮ জন ভারতীয় নাগরিককে নেপাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতীয় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল কাঠমান্ডুতে নেপাল পুলিশের ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার এবং ত্রাণকার্যেও ভারতীয় দল সহযোগিতা করছে।
নেপালের বন্যায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বিদেশি নাগরিকদের একাংশ। কেরলের নোরকা রুটস জানিয়েছে, বিদেশি নাগরিকত্ব থাকা ছয় কেরলবাসীর এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি। তাঁদের মধ্যে চারজন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক, একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং ৫৯ বছরের মার্কিন নাগরিক কৃষ্ণকুমার রাঘবন রয়েছেন। তাঁদের সকলেরই কেরলের সঙ্গে পারিবারিক যোগ রয়েছে এবং বন্যার সময় তাঁরা চিন-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও দুর্গম ভূপ্রকৃতি, ধ্বংস হয়ে যাওয়া যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নিখোঁজের বিপুল সংখ্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।