নেপালে ভয়াবহ বন্যার মধ্যে মিলল কিছুটা স্বস্তির খবর। শনিবার সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হল এক চিনা কর্মীকে। তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে। এরপর তাঁকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এটি ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় তৃতীয় সফল উদ্ধার অভিযান। এর আগে শুক্রবার একই প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় দুই নেপালি কর্মীকে। নেপালের সেনা জানিয়েছে, শনিবারের উদ্ধার অভিযান চালানো হয় যৌথ ভাবে। সেনার সদস্যদের সঙ্গে ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার বিপর্যয় মোকাবিলা বিশেষজ্ঞরা। প্রায় ২২৫ মিটার দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে ওই চিনা কর্মীকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। সেনার প্রকাশ করা ছবিতে দেখা গিয়েছে, হেলিকপ্টারে করে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সঙ্গে ছিলেন এক সেনা চিকিৎসক। চিনের সরকারি সম্প্রচার সংস্থা CCTV-ও উদ্ধার অভিযানের ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যায়, দুই উদ্ধারকারী ওই কর্মীকে সুড়ঙ্গের বাইরে নিয়ে আসছেন।
তবে শুধু জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নয়। নুওয়াকোট শহরেও শনিবার বড়সড় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির ভিতর থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এক মহিলাকে। নেপালের সেনার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওই মহিলাকেও চিকিৎসার জন্য দ্রুত কাঠমান্ডু নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের ছবিতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁকে ধূসর কম্বলে মুড়ে বাইরে নিয়ে আসছেন উদ্ধারকারীরা।
কিন্তু স্বস্তির খবরের পাশাপাশি বাড়ছে উদ্বেগও। নেপালের ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এখনও প্রায় ৯০০ কর্মীর কোনও খোঁজ নেই। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বিভিন্ন সুড়ঙ্গে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। সুড়ঙ্গগুলিতে আটকে থাকা কর্মীদের দ্রুত বের করে আনার চেষ্টা চলছে। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ধ্বংসস্তূপের কারণে কাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।
{{/usCountry}}কিন্তু স্বস্তির খবরের পাশাপাশি বাড়ছে উদ্বেগও। নেপালের ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এখনও প্রায় ৯০০ কর্মীর কোনও খোঁজ নেই। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বিভিন্ন সুড়ঙ্গে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। সুড়ঙ্গগুলিতে আটকে থাকা কর্মীদের দ্রুত বের করে আনার চেষ্টা চলছে। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ধ্বংসস্তূপের কারণে কাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।
{{/usCountry}}গত ২৬ অগস্ট নেপালে ভয়াবহ বন্যা শুরু হয়। একটি হিমবাহ ধসে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধস, বন্যা এবং জলস্রোতে বিপর্যস্ত হয়েছে জনজীবন।
নেপালের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত অন্তত ১,৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৫,০০০-এরও বেশি মানুষ। এর মধ্যেই একের পর এক উদ্ধার অভিযানে মিলছে জীবিত মানুষের সন্ধান। ফলে নিখোঁজদের নিয়ে আশা পুরোপুরি ছাড়ছে না প্রশাসন। সুড়ঙ্গ, ধ্বংসস্তূপ এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন সেনা ও বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরা।
নেপালের এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে তাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য একটাই। যত বেশি সম্ভব মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে চাপ। কিন্তু সুড়ঙ্গ থেকে একের পর এক জীবিত মানুষ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন উদ্ধারকারীরা।