...
...
Next Story

Nepal Flash Flood: তিব্বত থেকে হঠাৎ জলস্রোত, নেপালের রাসুয়ায় ভয়াবহ হড়পা বান, ভেসে গেল বাজার ও বিদ্যুৎ প্রকল্প

স্থানীয় সূত্রের খবর, বুধবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে আচমকাই নদীতে ভয়ঙ্কর জলস্রোত দেখা যায়। কয়েকটি এলাকায় বন্যার জল এত দ্রুত ঢুকে পড়ে যে মানুষজন নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ারও সময় পাননি। টিমুরে বাজারের বিস্তীর্ণ অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Published on: Aug 26, 2026, 13:26:39 IST
Advertisement

Nepal Flash Flood: তিব্বত সীমান্ত থেকে হঠাৎ নেমে আসা প্রবল জলস্রোতে ভয়াবহ বন্যার কবলে নেপালের রাসুয়া জেলা। বুধবার সকালে ভোটে কোশি নদীতে আচমকা জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় টিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাজার, বাড়িঘর, রাস্তা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হওয়ায় ভোটে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর নীচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

বুধবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে আচমকাই নদীতে ভয়ঙ্কর জলস্রোত দেখা যায়। (REUTERS)
বুধবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে আচমকাই নদীতে ভয়ঙ্কর জলস্রোত দেখা যায়। (REUTERS)

স্থানীয় সূত্রের খবর, বুধবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে আচমকাই নদীতে ভয়ঙ্কর জলস্রোত দেখা যায়। কয়েকটি এলাকায় বন্যার জল এত দ্রুত ঢুকে পড়ে যে মানুষজন নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ারও সময় পাননি। টিমুরে বাজারের বিস্তীর্ণ অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাসুয়া সীমান্ত শুল্ক দফতর এলাকাতেও বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে। গাড়ি-সহ বিভিন্ন সামগ্রীও জলের তোড়ে ভেসে যাওয়ার প্রাথমিক খবর রয়েছে।

বন্যার উৎস নিয়ে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয় প্রশাসন। তিব্বতের দিক থেকে বিপুল পরিমাণ জল নেপালে ঢুকে ভোটে কোশি নদীতে নেমে আসার পরই এই বিপর্যয় ঘটে। উপরের এলাকায় কোনও হিমবাহ হ্রদ ফেটে যাওয়া, অস্থায়ী জলাধার বা বাঁধ ভেঙে যাওয়া অথবা প্রবল বৃষ্টির কারণে এই আচমকা জলস্রোত তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাসুয়ার প্রধান জেলা আধিকারিকও জানিয়েছেন, বন্যার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

বন্যার জল নীচের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকাতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে জলস্তর বাড়তে পারে। সম্ভাব্য বিপদ মোকাবিলায় নিরাপত্তাকর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে এবং নীচু এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

উদ্ধারকাজ শুরু হলেও পরিস্থিতির কারণে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলকে। টিমুরেতে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের জন্য অল্টিটিউড এয়ারের একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বন্যার জলে স্থানীয় হেলিপ্যাড সম্পূর্ণ ভেসে যাওয়ায় সেখানে নামতে পারেনি সেটি। পাইলটের বর্ণনা অনুযায়ী, আকাশ থেকে টিমুরে এলাকা প্রায় বন্যার জল ও ধ্বংসাবশেষে ঢাকা দেখা যায়। ফলে হেলিকপ্টারটি শেষ পর্যন্ত কাঠমান্ডুতে ফিরে যায়।

এরপর নেপাল সেনাবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার চিকিৎসক ও জরুরি উদ্ধারকারী দল নিয়ে বন্যাকবলিত এলাকার দিকে রওনা হয়েছে। ধুনচে ও ত্রিশূলী থেকেও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আরও হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে টিমুরে ও স্যাফ্রুবেশির সঙ্গে যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, বহু মানুষ নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন এবং অনেকে এখনও উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন। সশস্ত্র পুলিশের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে, তিব্বত সীমান্ত থেকে আসা আচমকা জলস্রোত নেপালের রাসুয়ায় বড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে। বাজার ও বসতিগুলির পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নীচের দিকে বন্যার জল এগিয়ে যাওয়ায় নুয়াকোট ও ধাদিংয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe