ভয়াবহ বন্যা ও হড়পা বানের পর এবার বন্যাকবলিত এলাকায় বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশ ও সংবাদ সংগ্রহ নিয়ে কড়া নিয়ম জারি করল নেপাল সরকার। বোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী-সংলগ্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করতে হলে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের এবার বাধ্যতামূলক ভাবে প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন এবং জার্নালিস্ট আইডি কার্ড নিতে হবে। নেপালের তথ্য ও সম্প্রচার দপ্তরের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় এই নিয়মের কথা জানানো হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি সাংবাদিকদের নির্দিষ্ট অনলাইন পরিষেবার মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে বৈধ ভিসা বা প্রবেশ অনুমতিপত্র-সহ পাসপোর্টের কপি জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে যে সংবাদমাধ্যমের হয়ে সাংবাদিক কাজ করছেন, সেই প্রতিষ্ঠানের সুপারিশপত্রও দিতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের দেশের দূতাবাস, কনস্যুলার অফিস অথবা বিদেশমন্ত্রকের সুপারিশপত্রও প্রয়োজন হবে। সব নথি যাচাইয়ের পর নেপালের তথ্য ও সম্প্রচার দপ্তরের ডিজি অ্যাক্রেডিটেশন ও পরিচয়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন। এই অনুমতিপত্রের মেয়াদ থাকবে ১৫ দিন।
শুধু বিদেশি সাংবাদিকদের জন্যই নয়, বন্যাকবলিত এলাকায় সাংবাদিকদের কাজের ক্ষেত্রেও নতুন নিরাপত্তা প্রোটোকল জারি করেছে নেপাল। রিপোর্টারদের বৈধ প্রেস পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে এবং উদ্ধারকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশ মেনে চলতে হবে। নির্দিষ্ট রুট ও চলাচলের বিধিনিষেধ মানার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে প্রশাসনের দেওয়া সরিয়ে যাওয়ার নির্দেশও মেনে চলতে হবে। সক্রিয় উদ্ধারকাজের এলাকায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ, উদ্ধারকাজে বাধা দেওয়া কিংবা নিষিদ্ধ অপারেশনাল এলাকায় ঢোকার উপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার না হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
নেপাল সরকারের এই সিদ্ধান্ত সামনে এল ২৬ অগস্টের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর। হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে পড়ে বোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে প্রবল জলরাশি ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভেসে যায় বাড়িঘর, সেতু, রাস্তা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও।
{{/usCountry}}নেপাল সরকারের এই সিদ্ধান্ত সামনে এল ২৬ অগস্টের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর। হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে পড়ে বোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে প্রবল জলরাশি ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভেসে যায় বাড়িঘর, সেতু, রাস্তা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও।
{{/usCountry}}বিপর্যয়ের পর থেকেই উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালাচ্ছে নেপাল সরকার। বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দলও কাজে যোগ দিয়েছে। ভারতের পাশাপাশি চিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার দলও উদ্ধারকাজে নেপালকে সহযোগিতা করছে। বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন এবং বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে থাকা কর্মীদের উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চলছে।
এই পরিস্থিতিতে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের জন্য পৃথক অনুমতিপত্রের ব্যবস্থা ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। সরকার যে কারণ দেখিয়েছে, তা মূলত নিরাপত্তা ও উদ্ধারকাজের সঙ্গে যুক্ত। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নদীর গতিপথ এখনও অনিশ্চিত, বিভিন্ন জায়গায় ধস ও ধ্বংসাবশেষের ঝুঁকি রয়েছে। ফলে সাংবাদিকদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই প্রোটোকলের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ অ্যাক্রেডিটেশন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তাৎপর্য নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
নির্দেশিকায় বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য একটি হেল্প ডেস্ক রাখার কথাও জানিয়েছে নেপাল সরকার, যাতে আবেদন ও অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যায়।
এদিকে, বিপর্যয়ের ব্যাপকতা এখনও স্পষ্ট হচ্ছে। ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সূত্রে নেপালে মৃতের সংখ্যা ১,২৯৪-এর বেশি এবং নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৫,০৫৩ বলে উল্লেখ করা হয়েছে; পরবর্তী রিপোর্টে মৃতের সংখ্যা আরও বেড়েছে।
অর্থাৎ, একদিকে হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ, অন্যদিকে উদ্ধারকাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। তার মধ্যেই বন্যাকবলিত অঞ্চলে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশে কড়া সরকারি অনুমতি বাধ্যতামূলক করল নেপাল। এখন দেখার, এই নতুন নিয়ম বিপর্যয়কবলিত এলাকার নিরাপত্তা ও উদ্ধারকাজকে কতটা সহজ করে এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মাঠপর্যায়ের রিপোর্টিংয়ে এর কী প্রভাব পড়ে।