...
...
Next Story

সীমান্তে অপরাধ দমনে ভারত-নেপাল যৌথ উদ্যোগ, অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে সুধন গুরুং

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলিকে নিয়ে আয়োজিত প্রথম বিমসটেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকেই দুই নেতার এই আলোচনা হয়। সীমান্ত পরিচালনা, অপরাধ দমনে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে কথা হয়েছে তাঁদের মধ্যে।

Published on: Oct 14, 2026, 10:34:52 IST
Advertisement

সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করা থেকে শুরু করে আন্তর্দেশীয় অপরাধ দমন, একাধিক বিষয়ে সহযোগিতা বাড়াতে একমত হল ভারত ও নেপাল। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করলেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুধন গুরুং। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলিকে নিয়ে আয়োজিত প্রথম বিমসটেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকেই দুই নেতার এই আলোচনা হয়। সীমান্ত পরিচালনা, অপরাধ দমনে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে কথা হয়েছে তাঁদের মধ্যে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও মজবুত করার উপরেও জোর দিয়েছেন তাঁরা। বুধবার এই খবর প্রকাশ করেছে দ্য ইকনমিক টাইমস।

সীমান্ত নিরাপত্তায় বাড়তি নজর

মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করলেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুধন গুরুং। (@AmitShah X)
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করলেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুধন গুরুং। (@AmitShah X)

ভারত ও নেপালের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের নাগরিকদের যাতায়াত এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে সীমান্তের দুই পারেই অপরাধমূলক কাজকর্ম, পাচার এবং অপরাধীদের এক দেশ থেকে অন্য দেশে পালিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও রয়েছে। সেই কারণে সীমান্তের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা নিয়ে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকে সীমান্ত পরিচালনা আরও উন্নত করা, অপরাধ দমনে দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত তথ্য আদানপ্রদান এবং একসঙ্গে কাজ করার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করার উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকের পরে অমিত শাহ সমাজমাধ্যমে জানান, ভারত ও নেপালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে শক্তিশালী করার বিষয়ে তাঁরা একমত হয়েছেন। আঞ্চলিক শান্তি, উন্নতি এবং সমৃদ্ধির জন্য এই সহযোগিতা জরুরি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বন্যায় সাহায্যের জন্য ভারতকে ধন্যবাদ

নেপাল ও ভারতের একাধিক সীমান্ত এলাকায় বন্যা এবং ভূমিধসের প্রভাব পড়ে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট এবং সীমান্তবর্তী মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বিপর্যয়ের আগাম খবর আদানপ্রদান, উদ্ধারকাজ এবং জরুরি সহায়তার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।

বিমসটেক বৈঠকে সন্ত্রাস দমনেও জোর

ভারত-নেপাল দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি নয়াদিল্লিতে প্রথম বিমসটেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার এবং থাইল্যান্ড এই গোষ্ঠীর সদস্য। বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসে অর্থ জোগান, মাদক পাচার, মানব পাচার, সাইবার অপরাধ এবং সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে গৃহীত যৌথ ঘোষণায় তথ্য আদানপ্রদান, আইনি সহযোগিতা, অপরাধীদের প্রত্যর্পণ এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দক্ষতা বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে অপরাধের জাল ছড়িয়ে পড়া আটকাতে সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন বলেও জানানো হয়েছে।

বাণিজ্যেও সহযোগিতার বার্তা

নিরাপত্তার পাশাপাশি বাণিজ্যিক সম্পর্কের বাধা দূর করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে নেপালের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ভারতীয় বাজারে নেপালের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে বিএইএস শংসাপত্র সংক্রান্ত কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা অমিত শাহকে জানান গুরুং। এ বিষয়ে ভারতের তরফে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলে নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর।

সব মিলিয়ে, সীমান্তের নিরাপত্তা, অপরাধ দমন, বিপর্যয় মোকাবিলা এবং বাণিজ্যিক সমস্যা দূর করা—একাধিক ক্ষেত্রে ভারত ও নেপালের সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং দ্রুত পদক্ষেপের ব্যবস্থা গড়ে উঠলে সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দুই ক্ষেত্রেই সুফল মিলতে পারে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks