...
...
Next Story

Nepal Latest Update: ভয়াবহ বন্যার পর নেপালের পাশে ভারত, প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ

ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রকের অনুমোদন অনুযায়ী, নেপালকে মূলত দু’টি গুরুত্বপূর্ণ লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। এর মধ্যে মুজফ্‌ফরপুর-ঢলকেবার ৪০০ কেভি ট্রান্সমিশন লাইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৬০০ মেগাওয়াট এবং টনকপুর-মহেন্দ্রনগর ১৩২ কেভি লাইনের মাধ্যমে আরও ৫৪ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে।

Published on: Sep 15, 2026, 09:39:01 IST
Advertisement

ভয়াবহ বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে বিপর্যস্ত নেপালকে এবার জরুরি বিদ্যুৎ সহায়তা দিচ্ছে ভারত। দেশের একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে নয়াদিল্লি। ভারত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নেপালকে প্রতিদিন প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। এই বিশেষ বিদ্যুৎ সহায়তা ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে এবং চলবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

ভয়াবহ বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে বিপর্যস্ত নেপালকে এবার জরুরি বিদ্যুৎ সহায়তা দিচ্ছে ভারত। (REUTERS)
ভয়াবহ বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে বিপর্যস্ত নেপালকে এবার জরুরি বিদ্যুৎ সহায়তা দিচ্ছে ভারত। (REUTERS)

ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রকের অনুমোদন অনুযায়ী, নেপালকে মূলত দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। এর মধ্যে মুজফ্‌ফরপুর-ঢলকেবার ৪০০ কেভি ট্রান্সমিশন লাইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৬০০ মেগাওয়াট এবং টনকপুর-মহেন্দ্রনগর ১৩২ কেভি লাইনের মাধ্যমে আরও ৫৪ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। ফলে মোট ৬৫৪ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে নেপালের জন্য।

জানা গিয়েছে, প্রতিদিন রাত ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। বন্যার কারণে নেপালের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা যখন বড় ধাক্কা খেয়েছে, তখন এই সিদ্ধান্ত সেদেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ভারতীয় দূতাবাসও জানিয়েছে, এই অনুমোদন নেপালের কঠিন সময়ে বিদ্যুতের প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করবে এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

গত ২৬ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকায় বিপুল পরিমাণ জল ও মাটি নেমে এসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চলে হঠাৎ জলপ্রবাহ ও মাটির ধসের কারণে বহু জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর জেরে নেপালের একাধিক চালু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি হিসাবে, এর ফলে প্রায় ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহে বাধা তৈরি হয়েছে।

কিন্তু ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নেপালকে নির্ধারিত সময়ের আগেই ভারতের বিদ্যুতের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের জরুরি বিদ্যুৎ সহায়তা নেপালের শিল্প, ব্যবসা, হাসপাতাল এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন পরিষেবা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে বন্যায় নেপালে প্রাণহানিও ভয়াবহ। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৩৪৪-এ পৌঁছেছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। শিশু-সহ বহু নাগরিকের খোঁজ মেলেনি। হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। ধ্বংসস্তূপ সরানো, নিখোঁজদের খোঁজ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনর্বাসনের কাজ এখনও চলছে।

এই ভয়াবহ দুর্যোগের সময়ে ভারতের বিদ্যুৎ সহায়তা শুধু তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর পদক্ষেপ নয়, বরং দুই প্রতিবেশী দেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা ও পারস্পরিক নির্ভরতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। নেপাল যখন বন্যার ক্ষত সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন ভারতের এই বিদ্যুৎ সহায়তা সেই পুনর্গঠনের পথে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে পারে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks