Chola-era copper plates: সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক এক পদক্ষেপ হিসেবে, ভারতকে একাদশ শতাব্দীর চোল যুগের দুর্লভ তাম্রলিপির সংগ্রহ ফিরিয়ে দিল নেদারল্যান্ডস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইউরোপ সফরে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শতাব্দী-প্রাচীন আনাইমঙ্গলম তাম্রলিপিগুলি ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়। নেদারল্যান্ডসে ‘লাইডেন প্লেটস’ নামে পরিচিত এই তাম্রপত্রগুলি চোল রাজবংশের নিদর্শন হিসাবে টিকে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল।

দীর্ঘদিনের নয়া দিল্লির কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে এই প্রত্যর্পণকে ভারত-নেদারল্যান্ডস সম্পর্কের নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউরোপে ‘লাইডেন প্লেটস’ নামে পরিচিত এই তাম্রলিপিগুলি চোল সাম্রাজ্যের ইতিহাস, প্রশাসন, ধর্মীয় সহাবস্থান এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত। ভারত ২০১২ সাল থেকেই এই ঐতিহাসিক নিদর্শন দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছিল। বর্তমানে সুইডেন, নরওয়ে ও ইতালি-সহ পাঁচ দেশের সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি যাত্রার পর শুক্রবার তিনি নেদারল্যান্ডসে পৌঁছন।
‘প্রত্যেক ভারতীয়ের জন্য আনন্দের মুহূর্ত’
শনিবার ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন-এর উপস্থিতিতে নেদারল্যান্ডসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই চোল আমলের তাম্রপত্র ভারতের হাতে প্রত্যর্পণ করা হয়। এই ঘটনাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘প্রত্যেক ভারতীয়ের জন্য এক আনন্দের মুহূর্ত’ বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্স বার্তাটি তিনি জানিয়েছেন, এই তাম্রলিপি শুধু প্রত্নসম্পদ নয়, বরং ভারতের হাজার বছরের সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জীবন্ত সাক্ষ্য।
আনাইমঙ্গলম তাম্রলিপির ইতিহাস ও গুরুত্ব
তামিল ইতিহাসে এই তাম্রলিপির গুরুত্ব অপরিসীম। এগুলি চোল সাম্রাজ্যের শক্তিশালী সম্রাট রাজরাজা চোলা প্রথমের আমলের, যার শাসনকাল ৯৮৫ থেকে ১০১৪ খ্রিস্টাব্দ। ইতিহাসবিদদের মতে, বিদেশে রক্ষিত চোল যুগের শিলালিপির মধ্যে এটি অন্যতম সেরা এবং তামিল সংস্কৃতি বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। প্রায় ৩০ কেজি ওজনের এই সংগ্রহে রয়েছে ২১টি তাম্রফলক, যা একটি ব্রোঞ্জের বলয়ের মাধ্যমে একত্রে বাঁধা। বলয়টিতে চোল সাম্রাজ্যের রাজকীয় সিলমোহর খোদাই করা আছে। মূল অনুদানপত্রটি রাজরাজা চোলের সময় জারি হলেও, ইতিহাসবিদদের মতে তাঁর পুত্র রাজেন্দ্র চোলা ১ পরে তা স্থায়ী সংরক্ষণের জন্য তাম্রফলকে খোদাই করার নির্দেশ দেন। শিলালিপির কিছু অংশ সংস্কৃত ভাষায় এবং বাকিগুলি প্রাচীন তামিলে লেখা। নথিগুলিতে নাগাপত্তনমের একটি বৌদ্ধ বিহারের জন্য জমি ও অনুদান প্রদানের বিবরণ রয়েছে। গবেষকদের মতে, এগুলি সেই সময়ের ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, বাণিজ্যিক সমৃদ্ধি এবং দক্ষিণ ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সমুদ্রপথের যোগাযোগ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরে।
ডাচ হেফাজত থেকে কূটনৈতিক প্রত্যাবর্তন
{{/usCountry}}তামিল ইতিহাসে এই তাম্রলিপির গুরুত্ব অপরিসীম। এগুলি চোল সাম্রাজ্যের শক্তিশালী সম্রাট রাজরাজা চোলা প্রথমের আমলের, যার শাসনকাল ৯৮৫ থেকে ১০১৪ খ্রিস্টাব্দ। ইতিহাসবিদদের মতে, বিদেশে রক্ষিত চোল যুগের শিলালিপির মধ্যে এটি অন্যতম সেরা এবং তামিল সংস্কৃতি বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। প্রায় ৩০ কেজি ওজনের এই সংগ্রহে রয়েছে ২১টি তাম্রফলক, যা একটি ব্রোঞ্জের বলয়ের মাধ্যমে একত্রে বাঁধা। বলয়টিতে চোল সাম্রাজ্যের রাজকীয় সিলমোহর খোদাই করা আছে। মূল অনুদানপত্রটি রাজরাজা চোলের সময় জারি হলেও, ইতিহাসবিদদের মতে তাঁর পুত্র রাজেন্দ্র চোলা ১ পরে তা স্থায়ী সংরক্ষণের জন্য তাম্রফলকে খোদাই করার নির্দেশ দেন। শিলালিপির কিছু অংশ সংস্কৃত ভাষায় এবং বাকিগুলি প্রাচীন তামিলে লেখা। নথিগুলিতে নাগাপত্তনমের একটি বৌদ্ধ বিহারের জন্য জমি ও অনুদান প্রদানের বিবরণ রয়েছে। গবেষকদের মতে, এগুলি সেই সময়ের ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, বাণিজ্যিক সমৃদ্ধি এবং দক্ষিণ ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সমুদ্রপথের যোগাযোগ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরে।
ডাচ হেফাজত থেকে কূটনৈতিক প্রত্যাবর্তন
{{/usCountry}}অষ্টাদশ শতাব্দীতে ফ্লোরেন্টিয়াস ক্যাম্পার নামে এক ডাচ পণ্ডিত ও মিশনারি এই তাম্রলিপিগুলি নেদারল্যান্ডসে নিয়ে যান। সে সময় নাগাপত্তনম ডাচদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরে প্রত্নবস্তুগুলি নেদারল্যান্ডসের লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহে সংরক্ষিত হয় এবং ‘লাইডেন প্লেটস’ নামে পরিচিতি পায়। দীর্ঘ সময় ধরে এগুলি মূলত গবেষক ও শিলালিপি বিশেষজ্ঞদের জন্য সীমিতভাবে উন্মুক্ত ছিল। তবে বিখ্যাত তামিল ঐতিহাসিক উপন্যাস পন্নিইন সেলভান এবং পরবর্তীতে নির্মিত চলচ্চিত্রের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই তাম্রলিপির পরিচিতি ব্যাপকভাবে বাড়ে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে ডাচ সরকার ও লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এই তাম্রফলক ফেরত আনার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ২০২২ সালে নেদারল্যান্ডস ঔপনিবেশিক আমলের নিদর্শন ফেরত দেওয়ার নীতি চূড়ান্ত করার পর ভারতের প্রচেষ্টা গতি পায়। ২০২৩ সালে ইউনেস্কো-এর আন্তঃসরকার কমিটি ভারতকে উৎস দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, আহ্বান জানায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনার। শেষমেশ মিলল ফল।