NEET PG 2026: চলতি বছরে নিট ইউজি-র প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে ঘিরে উত্তাল হয় দেশের রাজনীতি। সম্প্রতি এই ইস্যুতেই দিল্লির রাস্তায় ছাত্র বিক্ষোভের পর পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এর পর সংসদেও পাশ হয় প্রশ্ন ফাঁস বিরোধী আইন। এই আবহে 'নিট-পিজি ২০২৬' পরীক্ষার নিয়মে একাধিক বড় পরিবর্তনের ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। পরীক্ষার্থীদের সুবিধা, স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।
'নিট-পিজি ২০২৬' পরীক্ষার নিয়মে বড় পরিবর্তন

আগামী ৩০ অগস্ট হতে চলা এই পরীক্ষায় আসন নির্বাচন, সময়ের ছাড় এবং নিরাপত্তায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নানা নিয়ম। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল, এবার একটি মাত্র শিফটে পরীক্ষা হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের আবেদন করার সময় তিনটি রাজ্য পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পছন্দের তালিকায় দিতে হবে। এর মধ্যে তাঁদের নিজের রাজ্য বাধ্যতামূলকভাবে প্রথম পছন্দ হিসেবে রাখতে হবে। এতে প্রার্থীরা নিজের বাড়ির কাছাকাছি পরীক্ষা কেন্দ্র পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর আগে পরীক্ষাকেন্দ্র ‘ফার্স্ট কাম, ফার্স্ট সার্ভ’ ভিত্তিতে বরাদ্দ হওয়ায় অনেক পরীক্ষার্থীকে অন্য রাজ্যে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ৩০ অগস্ট পরীক্ষার প্রায় তিন সপ্তাহ আগে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার শহরের নাম জানিয়ে দেওয়া হবে। এতে যাতায়াত ও থাকার ব্যবস্থা করার জন্য পর্যাপ্ত সময় মিলবে।
ন্যাশনাল বোর্ড অফ এক্সামিনেশনস ইন মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এনবিইএমএস) পরীক্ষার ধরনেও পরিবর্তন এনেছে। এবারের পরীক্ষায় মোট প্রশ্নের সংখ্যা ২০০ থেকে কমিয়ে ১৮০ করা হয়েছে। তবে মোট সময় আগের মতোই ২১০ মিনিট (৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট) থাকছে। এর ফলে পরীক্ষার্থীরা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য একটু বাড়তি সময় পাবেন। এর আগে পরীক্ষায় ২০০টি এমসিকিউ থাকত, যার মোট নম্বর ছিল ৮০০। শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা পরীক্ষার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে 'নিরাপদ, স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং পরীক্ষার্থী-বান্ধব ব্যবস্থা' নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পরীক্ষা কেন্দ্রে জালিয়াতি রোধ করতে আধার ভিত্তিক বায়োমেট্রিক যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আঙুলের ছাপ না মিললে চোখ বা 'আইরিস' স্ক্যান করা হবে। এছাড়া সিসিটিভি নজরদারি, সিগন্যাল জামার এবং প্রশ্নপত্রের ডিজিটাল এনক্রিপশনের বিশেষ ব্যবস্থা থাকছে। এছাড়া, ভুয়ো পরীক্ষার্থী, দালালচক্র বা অন্য কোনও অনিয়মের অভিযোগ জানানোর জন্য এনবিইএমএস একটি বিশেষ ই-মেল আইডিও চালু করেছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ২,৭৩,১৮৩ জন পরীক্ষার্থী নিট-পিজি ২০২৬-এর জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় ১২.৫ শতাংশেরও বেশি। দেশের প্রায় ৩৪০টি শহরের ১,৩০০-রও বেশি পরীক্ষাকেন্দ্রে এক শিফটে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা পরিচালনার জন্য ৬০ হাজারেরও বেশি পরীক্ষাকর্মী মোতায়েন করা হবে।
বড় উদ্যোগ এনটিএ-র
{{/usCountry}}কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ২,৭৩,১৮৩ জন পরীক্ষার্থী নিট-পিজি ২০২৬-এর জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় ১২.৫ শতাংশেরও বেশি। দেশের প্রায় ৩৪০টি শহরের ১,৩০০-রও বেশি পরীক্ষাকেন্দ্রে এক শিফটে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা পরিচালনার জন্য ৬০ হাজারেরও বেশি পরীক্ষাকর্মী মোতায়েন করা হবে।
বড় উদ্যোগ এনটিএ-র
{{/usCountry}}নিট ইউজি-র প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর এবার পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় উদ্যোগ নিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। সংস্থার সদর দফতর, আঞ্চলিক কার্যালয় এবং বাকি স্পর্শকাতর জায়গাগুলিতেও ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই কাজের জন্য প্রায় ৭.৫ কোটি টাকার একটি টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি, পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে 'হাউসকিপিং' এবং প্রশ্নপত্রের নিরাপদ মুদ্রণ পরিষেবার জন্যও আলাদা দরপত্র চাওয়া হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৫ জুলাইয়ের টেন্ডার অনুসারে, নির্বাচিত সংস্থাকে দিল্লির মিন্টো রোডে অবস্থিত এনটিএ-র সদর দফতর, ওখলা আঞ্চলিক কার্যালয়-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকতে হবে। সংস্থার আধিকারিক, কর্মীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি গোপন পরীক্ষা সামগ্রী, সার্ভার রুম, স্ট্রং রুম, ওয়্যারহাউস এবং রেকর্ড রুমের নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাবেন রক্ষীরা। নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তির মেয়াদ থাকবে প্রথমে দু'বছর। যা কর্মীদের কাজের উপর নির্ভর করে আরও দু'বছর পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। ১৭ অগস্ট বিকেল ৩টে পর্যন্ত আগ্রহী সংস্থাগুলি আবেদন করতে পারবে। ওই দিনই টেক আবার টেকনিক্যাল বিড খোলা হবে। গভর্মেন্ট ই-মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে নিরাপত্তা ও হাউসকিপিংয়ের টেন্ডার জমা দেওয়ার শেষ দিনও ১৭ অগস্ট। অন্যদিকে, মুদ্রণ পরিষেবার টেন্ডার জমা দেওয়ার শেষ দিন ২০ অগস্ট।
জানা গেছে, নিরাপত্তা সংস্থা বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এবার নিয়ম বদলাচ্ছে এনটিএ। সবচেয়ে কম দর দেওয়া সংস্থাকে কাজ দেওয়ার প্রচলিত প্রথার বদলে এবার ‘কোয়ালিটি অ্যান্ড কস্ট বেসড সিলেকশন’ (কিউসিবিএস) পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ সংস্থার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে কারিগরি যোগ্যতার জন্য ৭০ শতাংশ এবং খরচের হিসেবে ৩০ শতাংশ নম্বর বরাদ্দ থাকবে। আবেদনকারী সংস্থার নিরাপত্তা পরিষেবার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। গত তিন বছরে গড়ে ১০ কোটি টাকার বার্ষিক লেনদেন এবং কোনও কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, বিমানবন্দর বা মেট্রোর মতো উচ্চমাত্রার নিরাপত্তাবেষ্টনীতে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। যে সংস্থাকে বাছাই করা হবে, তাকে ১৫ লক্ষ টাকার 'ইএমডি' এবং চুক্তিমূল্যের ৫ শতাংশ নিরাপত্তার স্বার্থে জমা রাখতে হবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আবশ্যিক রাখা হয়েছে। নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য জিপিএস-ভিত্তিক গার্ড পেট্রোলিং ব্যবস্থা, বায়োমেট্রিক হাজিরা, মেটাল ডিটেক্টর এবং কঠোর পরিচয়পত্র পরীক্ষার পরই অফিসে প্রবেশের অনুমতি মিলবে। এছাড়া পরীক্ষার সমস্ত তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে।
উল্লেখ্য, নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিতর্ক তৈরির পর সংসদে পাস হয় অ্যান্টি-পেপার লিক আইন। সেই ঘটনার পর পরীক্ষার্থীদের আস্থা ফেরাতে এবং অনিয়ম ঠেকাতে এবার পরীক্ষা পরিচালনার প্রতিটি ধাপে নজরদারি বাড়াল এনটিএ।