...
...
Next Story

নয়া আরশোলার প্রযুক্তি খোঁজ মিলল ভারতে! ডিএনএ প্রযুক্তিতেই মুশকিল আসান

জেডএসআইয়ের পুনে এবং চেন্নাই অফিস প্রফেসর রামকৃষ্ণ মোরে আর্টস, কমার্স অ্যান্ড সায়েন্স কলেজ-এর সঙ্গে যৌথভাবে এই গবেষণা চালিয়েছে।

Published on: Mar 24, 2026, 12:30:25 IST
Advertisement

চোখের সামনেই ঘুরে বেড়িয়েছে। তবে, এতদিন বিজ্ঞানীরা লক্ষ করেননি। এক বিশেষ প্রজাতির খোঁজে দাক্ষিণাত্যের মালভূমি অঞ্চলে অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন জ়ুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (জেডএসআই) গবেষকরা। সেই সূত্রেই মহারাষ্ট্রের পুনের নাথাচিওয়াড়ি এলাকায় কৃষিজমিতে আরশোলার একটি নতুন প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। আর নতুন এই প্রজাতিটির বিজ্ঞানসম্মত নাম দেওয়া হয়েছে নিওলোবোপটেরা পেনিনসুলারিস। ভারতে এই প্রথম ডিএনএ বার কোডিং পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে আরশোলার নতুন কোনও প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গেল। এই আরশোলাকে নতুন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ডিএনএ বারকোডিং ছাড়াও বাহ্যিক গঠন ও বৈশিষ্ট্যের বিশদ পর্যবেক্ষণ, জননাঙ্গের গঠন ও ফাইলোজেনেটিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি কাজে লাগানো হয়েছে।

দাক্ষিণাত্যে খোঁজ মিলল আরশোলার নয়া প্রজাতির (সৌজন্যে টুইটার)
দাক্ষিণাত্যে খোঁজ মিলল আরশোলার নয়া প্রজাতির (সৌজন্যে টুইটার)

এ দেশে আরশোলা নিয়ে গবেষণা, পর্যবেক্ষণের শুরু ১৭৫৮ সাল থেকে। তবে গত ২৬৮ বছরে এই প্রথমবার আরশোলার একটি নতুন প্রজাতিকে ‘সমন্বিত শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি’ (ইন্টিগ্রেটিভ ট্যাক্সোনমিক অ্যাপ্রোচ) ব্যবহার করে বর্ণনা করা হয়েছে বলে জানাচ্ছে জেডএসআই। এই আবিষ্কারের আগে, ভারতে এই বংশের মাত্র দুটি প্রজাতি জানা গিয়েছিল, যা ১৮৬৫ ও ১৯৯৫ সালে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর ফলে ভারতে আরশোলা প্রজাতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৯০। এটা সারা বিশ্বে মেলা আরশোলার বৈচিত্র্যের ৩.৮ শতাংশ। এটি ভারতের জীব বৈচিত্র্য নথিভুক্ত করার পদ্ধতির পথে ঐতিহাসিক পরিবর্তন বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। জেডএসআইয়ের পুনে এবং চেন্নাই অফিস প্রফেসর রামকৃষ্ণ মোরে আর্টস, কমার্স অ্যান্ড সায়েন্স কলেজ-এর সঙ্গে যৌথভাবে এই গবেষণা চালিয়েছে।

শবনম আনসারি এবং কে পি দিনেশ-কে প্রধান লেখক হিসেবে রেখে এম সেনরাজ, সাহিল শিকালগার ও রশ্মি মোরে-র যে গবেষক দলটি এই নতুন প্রজাতির খোঁজ পেয়েছে, তাঁদের পূর্ণাঙ্গ গবেষণাপত্রটি ইতিমধ্যেই রেকর্ডস অফ দ্য জ়ুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সারা পৃথিবীতে মেলা ৫০০০ প্রজাতির আরশোলার মাত্র ১ শতাংশই হল ক্ষতিকর। বাকিরা কোনও না কোনওভাবে পরিবেশের উপকার করে। বহু আরশোলা প্রজাতিই মাটির পুষ্টিবর্ধনে বিশেষ উপযোগী। এতদিন পেনিনসুলারিস জাতের দুটি আরশোলাই দাক্ষিণাত্যে নথিভুক্ত ছিল। এবার তার সংখ্যা আরো একটি বাড়ল। বলা হয়ে থাকে, ভারতে যত প্রজাতির আরশোলা মেলে, তার ৫০ শতাংশই পৃথিবীর অন্যত্র আর পাওয়া যায় না। জেডএসআই পুনের প্রধান, বাসুদেব ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, এটা শুরু মাত্র। এরপরে ১০০টি নতুন বারকোড প্রকাশ করা হবে। ফলে, জীববৈচিত্র্য আরো সমৃদ্ধ হবে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe