Pahalgam terror attack: জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে গত বছরের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ যোগের বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনল এনআইএ। এই নৃশংস হামলা চালিয়েছিল তিন জঙ্গি। তারা ২৬ জন নাগরিক, যাদের মধ্যে ২৫ জন পর্যটক এবং একজন ঘোড়াচালককে হত্যা করে। তদন্তকারী সংস্থার পেশ করা চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, হামলার পুরো ছক পাকিস্তানে বসেই কষা হয়েছিল এবং হামলার দিন লাহোর থেকে ‘রিয়্যাল টাইম’ নির্দেশ দিয়ে গোটা অপারেশন পরিচালনা করা হয়। এই হামলার মূল চক্রী হিসেবে এনআইএ চিহ্নিত করেছে পাকিস্তানি জঙ্গি সইফুল্লা ওরফে সাজিদ জাট ওরফে ‘ল্যাংড়া’-কে।

পহেলগাঁও হামলার পর ভারতীয় সেনা উপত্যকাজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে, যার নাম দেওয়া হয়েছিল 'অপারেশন মহাদেব।' এই অভিযানে পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে যুক্ত তিন জঙ্গিকে খতম করা হয়। নিহত জঙ্গিদের ডেরা থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ঘিরেই তদন্তে উঠে আসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এনআইএ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অন্তত দু’টি মোবাইল পাকিস্তান থেকে কেনা হয়েছিল। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে জানা যায়, একটি মোবাইল অনলাইনে কিনে লাহোরের ‘কায়েদ-ই-আজম ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট’-এর একটি ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। অন্য মোবাইলটি কেনা হয়েছিল করাচির একটি এলাকা থেকে।
তদন্তকারীদের দাবি, ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা জঙ্গি সইফুল্লা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা এবং তার ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্টেন্স ফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা। এদিকে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, লাহোরে বসেই উপত্যকার জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করত সইফুল্লা। হামলার আগে গত বছরের ১৫ ও ১৬ এপ্রিল তিন জঙ্গি-ফয়জল জাট ওরফে সুলেমান, হাবিব তাহির ওরফে ছোটু এবং হামজা আফগানিকে দিয়ে পহেলগাঁও এলাকায় রেইকি করানো হয়েছিল। তিন জঙ্গি এই নৃশংস হত্যালীলা চালানোর আগে গাছের নীচে বসে মধ্য়াহ্নভোজ সেরেছিল। হামলার দিন জঙ্গিরা কোথায় অবস্থান নেবে, কোন পথে হামলা চালাবে এবং অপারেশনের পর কীভাবে এলাকা ছাড়বে, সেই সমস্ত নির্দেশ সরাসরি পাকিস্তান থেকেই দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি এনআইএ-র।
২১ এপ্রিল, বিকেল ৫টা
ফইজল জাট ওরফে সুলেমান শাহ, হাবিব তাহির ওরফে জিবরান ও হামজা আফগানি নামক তিন পাক জঙ্গি কাশ্মীরের স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ আহমেদের কুড়েঘরে পৌঁছয়। তারা জল চায়। তারপর জানায় যে অনেক পথ পেরিয়ে এসেছে। রাতে যেন তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়। পারভেজ নামক এক সহিস (ঘোড়াচালক) এনাইএ-র তদন্তকারীদের বয়ানে বলেন, 'আমার মামা এসে বলেন যে আমরা সবাই যেন চুপ করে থাকি। এরপর ওঁ বাইরে যান এবং কয়েক সেকেন্ড পর ফেরত আসেন। তাঁর সঙ্গে তিন বন্দুকধারী ব্যক্তি ছিল। ওঁরা বসে, আমায় জল দিতে হবে। জানায় যে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে তারা।' উল্লেখ্য, এই পারভেজ ও তাঁর মামা জোথারকে এনআইএ গত বছরের ২২ জুন গ্রেফতার করেছিল তিন জঙ্গিকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য।
২২ এপ্রিল
{{/usCountry}}ফইজল জাট ওরফে সুলেমান শাহ, হাবিব তাহির ওরফে জিবরান ও হামজা আফগানি নামক তিন পাক জঙ্গি কাশ্মীরের স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ আহমেদের কুড়েঘরে পৌঁছয়। তারা জল চায়। তারপর জানায় যে অনেক পথ পেরিয়ে এসেছে। রাতে যেন তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়। পারভেজ নামক এক সহিস (ঘোড়াচালক) এনাইএ-র তদন্তকারীদের বয়ানে বলেন, 'আমার মামা এসে বলেন যে আমরা সবাই যেন চুপ করে থাকি। এরপর ওঁ বাইরে যান এবং কয়েক সেকেন্ড পর ফেরত আসেন। তাঁর সঙ্গে তিন বন্দুকধারী ব্যক্তি ছিল। ওঁরা বসে, আমায় জল দিতে হবে। জানায় যে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে তারা।' উল্লেখ্য, এই পারভেজ ও তাঁর মামা জোথারকে এনআইএ গত বছরের ২২ জুন গ্রেফতার করেছিল তিন জঙ্গিকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য।
২২ এপ্রিল
{{/usCountry}}এই দিনেই বৈসরণে হামলা চালায় পাক জঙ্গিরা। এনআইএ চার্জশিটে জানা গিয়েছে, বৈসরণ উপত্যকার ওই পার্কে ঢোকার আগে জঙ্গিরা গাছের নীচে বসে লাঞ্চ সেরেছিল। নিজেদের গায়ে কম্বল জড়িয়ে নিয়েছিল সঙ্গে থাকা বন্দুক ঢাকতে এবং বাকি পর্যটকদের সঙ্গে মিশে যেতে। দুই জঙ্গি পাহাড়ি নদীর কাছে যায় পর্যটকদের গতিবিধির উপরে নজর রাখতে এবং হামলার ছক কষতে। নিজেদের ব্যাগগুলি রেখে তারা পার্কের রেলিংয়ের কাছে যায়। জানা গিয়েছে, এক জঙ্গির মাথায় হেলমেট পরা ছিল, তাতে গোপ্রো অ্যাকশন ক্যামেরা বসানো ছিল নৃশংস হত্যালীলা রেকর্ড করার জন্য। দুই জঙ্গি মেইন গেটের দিকে যায়, আরেক জঙ্গি জিপলাইনের দিকে গিয়ে দাঁড়ায়। এমনভাবেই দাড়িয়েছিল তারা যে ‘কিল জোন’ থেকে যেন কেউ পালাতে না পারে।
২টো ২৩ মিনিটে প্রথম গুলি চলে এম-৪ কার্বাইন রাইফেল থেকে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বাকি দুই জঙ্গিও একে-৪৭ রাইফেল নিয়ে সামনের খাবারের স্টল ও পাহাড়ের ঢালে ঘুরে বেড়ানো পর্যটকদের উপরে গুলি চালাতে শুরু করে। পর্যটকদের ধরে ধরে কলমা জিজ্ঞাসা করা হয়, যারাই বলতে পারেননি, তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘোড়া চালক সইদ আদিল হুসেন শাহ জঙ্গিদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে, তাঁকেও গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। পালানোর সময়ও জঙ্গিরা তিনজনকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে, যারা গাছের পিছনে আশ্রয় নিয়েছিল। এরপর পার্ক থেকে বেরিয়ে তারা উল্লাসে শূন্যে গুলি চালায়।
পাকিস্তানের হাত
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামলার পর ‘কাশ্মীর ফাইট’ নামে একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে হামলার দায় স্বীকার করেছিল টিআরএফ। পরে অবশ্য সংগঠনটি দাবি করে, তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল ‘হ্যাক’ করা হয়েছিল এবং হামলার সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু এনআইএ-র সাইবার বিশেষজ্ঞদের তদন্তে সেই দাবি টেকেনি। আইপি অ্যাড্রেস ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ওই টেলিগ্রাম চ্যানেলটি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাট্টাগ্রাম এলাকা থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। পাশাপাশি রাওয়ালপিন্ডি থেকে পরিচালিত আরও একটি সন্দেহভাজন চ্যানেলের সন্ধান মিলেছে, যা ভারতবিরোধী প্রচারে ব্যবহার করা হত বলে অভিযোগ। সব মিলিয়ে, পহেলগাঁও কাণ্ডে যে ইসলামাবাদের যোগসূত্র কতটা নিবিড়, এনআইএ-র চার্জশিট তা আরও একবার আন্তর্জাতিক মহলে প্রমাণ করে দিল।