ISRO privatisation: শুধু ইসরোয় সীমাবদ্ধ না থেকে ভারতের মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্র বেসরকারি সংস্থাগুলির জন্য খুলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২০ সাল থেকে লাগাতার মহাকাশ গবেষণায় উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তা হলে দেশের মহাকাশ গবেষণার অন্যতম মুখ ইসরো (ISRO) কী তবে ধীরে ধীরে বেসরকারি হাতে চলে যাচ্ছে? রকেট ও স্যাটেলাইট তৈরির মতো মূল কাজগুলো কী তুলে দেওয়া হবে বেসরকারি সংস্থাগুলির হাতে? এই সংস্থা কী আর গবেষণা চালাবে? কর্মীদেরই বা পরিণতি কী হবে? এমনই উদ্বেগের নিরসন ঘটাতে এবং সরকারি নীতির স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে ইসরো চেয়ারম্যান ভি নারায়ণনকে (ISRO Chaiman V Narayanan) যৌথ চিঠি পাঠাল ৯টি কর্মী সংগঠন।

গত ৪ সেপ্টেম্বর ইসরোর চেয়ারম্যান তথা ডিপার্টমেন্ট অফ স্পেস (ডিওএস)-এর সচিব ভি নারায়ণনকে চিঠি দেয় কর্মীদের সংগঠনগুলি। সম্প্রতি চিঠিটির বিষয় প্রকাশ্যে এসেছে। সূত্রের খবর, চিঠিতে কর্মীরা জানতে চেয়েছেন, মহাকাশ গবেষণার বেসরকারিকরণ নিয়ে সরকারের নীতি ঠিক কী? ভবিষ্যতে কী আর কর্মী নিয়োগ করবে সংস্থা? যাঁরা চাকরি করছেন, তাঁদেরই বা কী হবে? বলে রাখা প্রয়োজন, ইসরো থেকে বহু কর্মী চাকরি ছেড়েছেন। গত ১২ বছরে প্রায় ৭০০ কর্মী ইসরো ছেড়ে চলে গিয়েছেন বলে সংগঠনগুলির তরফে দাবি করা হয়েছে। সেই চাকরি ছাড়ার কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এবার ইসরোর কর্মীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন।
এই চিঠিতে ইসরো স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন, শার এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন, আইস্যাক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন, ইসরো স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন-এলপিএসসি, ইসরো স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন-বিবিইউ, এনআরএসএ এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন, স্পেস এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন-বিবিইউ, ইসরো স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন-আইপিআরসি এবং এসএসি এমপ্লয়িজ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন স্বাক্ষর করেছে। সম্প্রতি জিএসএলভি এফ-১৭ (GSLV F17) রকেটের মাধ্যমে ইওএস-০৫ (EOS-05) উপগ্রহের সফল উৎক্ষেপণের পরেই কর্মী সংগঠনগুলির তরফে এই চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে মূলত ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রোমোশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সেন্টার (ইন-স্পেস)-এর চেয়ারম্যান পবন কুমার গোয়েঙ্কার (IN-SPACe Pawan Goenka) একটি বিতর্কিত বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক কর্মসূচিতে তিনি বলেন, ‘ক্রমে ইসরো আর কোনও উৎক্ষেপণ যান তৈরি করবে না। সেগুলি তৈরি করবে বেসরকারি ক্ষেত্র বা পিএসইউ।’
ইতিমধ্যে বেসরকারি সংস্থা স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (এসএসএলভি) তৈরি করছে। পবন কুমারের কথায়, ‘বেসরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে প্রযুক্তি হস্তান্তর করবে ইসরো। এর উপর ভিত্তি করে তৈরি হবে উৎক্ষেপণ যান ও অতি সাধারণ কৃত্রিম উপগ্রহ। সেই পরিবর্তন শুরু হয়েছে স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল দিয়ে। নিলাম করে এর প্রযুক্তি ও উৎপাদনের স্বত্ব রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের (হ্যাল) হাতে তুলে দিয়েছে তারা।’ ক্রমে বেসরকারি সংস্থাগুলিও পিএসএলভি তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, পবনের দাবি, এর পরবর্তী ধাপ আরও আকর্ষণীয় হতে চলেছে। তাতে পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (পিএসএলভি) এবং লঞ্চ ভেহিকল মার্ক-৩ (এলভিএম-৩)-এর প্রযুক্তি এবং উৎপাদন স্বত্ব ছেড়ে দেবে ইসরো। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ইসরোর প্রায় ১২০ ধরনের প্রযুক্তি একাধিক বেসরকারি সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফলে উৎক্ষেপণযান ও উপগ্রহ তৈরির মতো কাজের কতটা ভবিষ্যতে ইসরোর হাতে থাকবে, সেটিই এখন কর্মী সংগঠনগুলির অন্যতম বড় প্রশ্ন।
{{/usCountry}}ইতিমধ্যে বেসরকারি সংস্থা স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (এসএসএলভি) তৈরি করছে। পবন কুমারের কথায়, ‘বেসরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে প্রযুক্তি হস্তান্তর করবে ইসরো। এর উপর ভিত্তি করে তৈরি হবে উৎক্ষেপণ যান ও অতি সাধারণ কৃত্রিম উপগ্রহ। সেই পরিবর্তন শুরু হয়েছে স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল দিয়ে। নিলাম করে এর প্রযুক্তি ও উৎপাদনের স্বত্ব রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের (হ্যাল) হাতে তুলে দিয়েছে তারা।’ ক্রমে বেসরকারি সংস্থাগুলিও পিএসএলভি তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, পবনের দাবি, এর পরবর্তী ধাপ আরও আকর্ষণীয় হতে চলেছে। তাতে পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (পিএসএলভি) এবং লঞ্চ ভেহিকল মার্ক-৩ (এলভিএম-৩)-এর প্রযুক্তি এবং উৎপাদন স্বত্ব ছেড়ে দেবে ইসরো। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ইসরোর প্রায় ১২০ ধরনের প্রযুক্তি একাধিক বেসরকারি সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফলে উৎক্ষেপণযান ও উপগ্রহ তৈরির মতো কাজের কতটা ভবিষ্যতে ইসরোর হাতে থাকবে, সেটিই এখন কর্মী সংগঠনগুলির অন্যতম বড় প্রশ্ন।
{{/usCountry}}চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ওই সংক্রান্ত বিবৃতি ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু মহাকাশ বিভাগের তরফে এই নিয়ে তাদের কর্মীদের সঙ্গে কোনও কথাই বলা হয়নি। তাদের এই সংক্রান্ত নীতি, আইনি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা, ভবিষ্যতের কর্মী নিয়োগের বিষয়ে জানানো হয়নি।’ সংগঠনগুলি এ-ও জানিয়েছে, যে ভাবে ইসরো উৎক্ষেপণ যন্ত্র, উপগ্রহ তৈরি থেকে সরে যাচ্ছে, তাতে কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের মনে অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয়েছে, এই উৎক্ষেপণ যান, উপগ্রহ তৈরি আদতে সংস্থার দক্ষতা, কৌশলগত ক্ষমতা প্রকাশ করে, যা ক্রমে বন্ধ করা হচ্ছে। তা হলে সংস্থার কী ভবিষ্যৎ, তা নিয়েই কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে খবর। সব মিলিয়ে, মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপের পাশাপাশি এখন নজর থাকবে ইসরোর তরফে এই চিঠির কী জবাব আসে, সেদিকেও।