...
...
Next Story

‘চাকরির দাবিতে বিক্ষোভ’, ভুল পোস্টে জয়রাম রমেশকে পাল্টা তোপ নির্মলার

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বক্তব্য চলাকালীন দর্শকাসনে সাময়িক গোলমালের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ভিডিয়ো তুলে ধরে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের দাবি ছিল, অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষ চাকরির দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন।

Published on: Oct 5, 2026, 11:41:57 IST
Advertisement

অন্ধ্রপ্রদেশে একটি সরকারি অনুষ্ঠানের ভিডিয়ো ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বক্তব্য চলাকালীন দর্শকাসনে সাময়িক গোলমালের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ভিডিয়ো তুলে ধরে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের দাবি ছিল, অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষ চাকরির দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। সেই পোস্টেরই তীব্র প্রতিবাদ করলেন নির্মলা। তাঁর দাবি, ভিডিয়োটির সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে কোনও বিক্ষোভই হয়নি।

৩০ সেকেন্ডের ভিডিয়ো ঘিরেই গোলমাল

অন্ধ্রপ্রদেশে একটি সরকারি অনুষ্ঠানের ভিডিয়ো ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। (PTI)
অন্ধ্রপ্রদেশে একটি সরকারি অনুষ্ঠানের ভিডিয়ো ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। (PTI)

ঘটনাটি ২ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশের মদনাপল্লেতে। নির্মলা সীতারামন সেখানে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন। সেই সময়ের প্রায় ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিয়োয় দেখা যায়, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু দর্শকদের সঙ্গে কথা বলছেন। পরে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ সেই ভিডিয়ো নিজের সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে দাবি করেন, ভিড়ের মধ্যে চাকরির দাবিতে মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছিল। তাঁর অভিযোগ, পরিস্থিতি সামলাতে মুখ্যমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পরেই অন্ধ্রপ্রদেশের শাসক জোটের তরফে পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়।

‘অবিশ্বাস্য’, জয়রাম রমেশকে বললেন নির্মলা

জয়রাম রমেশের পোস্টের জবাব দিতে গিয়ে নির্মলা সীতারামন সরাসরি তাঁকেই নিশানা করেন। তিনি লেখেন, বিষয়টির এমন ব্যাখ্যা করা ‘অবিশ্বাস্য’। তাঁর দাবি, ভিডিয়ো দেখে এত দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া উচিত হয়নি।

নির্মলার বক্তব্য, সেখানে তেলুগু দেশম পার্টি এবং জনসেনা পার্টির কর্মী সমর্থকেরা তাঁদের নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু এবং পবন কল্যাণের সঙ্গে দেখা করতে চাইছিলেন। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরে তাঁদের সঙ্গে কথা বলার জন্য মুখ্যমন্ত্রীই অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। তাঁর দাবি, পুরো ঘটনাটির মধ্যে এটুকুই ছিল।

চন্দ্রবাবু নাইডুর পাল্টা আক্রমণ

নাইডুর বক্তব্য, অনুষ্ঠানে মানুষের সাড়া ছিল অত্যন্ত উৎসাহী। বিপুল উৎসাহের কারণেই তিনি সাময়িক ভাবে হস্তক্ষেপ করেছিলেন, যাতে অনুষ্ঠানটি স্বাভাবিক ভাবে এগিয়ে যায়। সাধারণ মানুষের উৎসাহকে ক্ষোভ হিসেবে দেখানো বাস্তব পরিস্থিতির সম্পূর্ণ বিপরীত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

‘তথ্য যাচাই না করেই প্রচার’

অন্ধ্রপ্রদেশের মন্ত্রী নারা লোকেশও কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলে কোনও প্রতিবাদ হয়নি। একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মসূচির কিছু অংশ কেটে নিয়ে সেটিকে সম্পূর্ণ অন্য অর্থে প্রচার করা হয়েছে।

লোকেশের বক্তব্য, সমাজমাধ্যমে কোনও ভিডিয়ো দেখলেই তার সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা জুড়ে দেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে কোনও নেতার বিরুদ্ধে জনরোষের দাবি করার আগে ঘটনার বাস্তবতা যাচাই করা প্রয়োজন।

রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক

ঘটনা ছোট হলেও তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা বড় আকার নিয়েছে। এক দিকে কংগ্রেসের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে মানুষের মধ্যে চাকরি নিয়ে ক্ষোভ ছিল। অন্য দিকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের দাবি, পুরো ঘটনাই ভুল ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

ফলে একটি ছোট ভিডিয়ো ক্লিপ এখন পরিণত হয়েছে কংগ্রেস বনাম এনডিএর নতুন রাজনৈতিক সংঘাতে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েক সেকেন্ডের কোনও দৃশ্য কত দ্রুত সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক বার্তায় বদলে যেতে পারে, মদনাপল্লের এই ঘটনাই যেন তার নতুন উদাহরণ। আর সেই কারণেই জয়রাম রমেশের পোস্ট ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠছে, ভিডিয়ো দেখার আগে সত্যিই কি তার প্রেক্ষাপট যাচাই করা হয়েছিল?

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks