...
...
Next Story

IndiGo: আকাশে ভ্রমণে মহাপ্রলয়! রেকর্ড জ্বালানির দাম, বিমান ভাড়া বাড়ানোর ইঙ্গিত ইন্ডিগো সিইও-র

IndiGo: সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর লোকসান গত বারের তুলনায় ২৭.২ শতাংশ কমে ১৮৭৯.১০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বিমান জ্বালানির অতিরিক্ত দাম এবং টাকার অবমূল্যায়ন সংস্থার আর্থিক ফলের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

Updated on: Oct 29, 2026, 19:43:27 IST
Advertisement

IndiGo: বিমানের জ্বালানি বা এটিএফ-এর (Aviation Turbine Fuel) অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কায় বিমানভাড়া বাড়ানো ছাড়া আর কোনও উপায় নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন ইন্ডিগোর সিইও উইলিয়াম ওয়ালশ। তিনি জানিয়েছেন, ফুয়েল বিলের 'অত্যন্ত বড়সড়' বৃদ্ধির মুখে পড়ে বিমান সংস্থাটির কাছে 'ভাড়া বাড়ানো ছাড়া আর কোনও পথ খোলা নেই।' ইন্ডিগোর মূল সংস্থা ‘ইন্টারগ্লোব এভিয়েশন লিমিটেড’ (InterGlobe Aviation Ltd) টানা তৃতীয় ত্রৈমাসিকে আর্থিক লোকসানের মুখ দেখার পরই এই কড়া বার্তা সামনে এল। বিমান ভাড়ার সুবাদে আয় বাড়লেও জ্বালানির বিপুল খরচের ধাক্কায় তা কার্যত ঢাকা পড়ে গেছে।

বিমান ভাড়া বাড়ানোর ইঙ্গিত ইন্ডিগো সিইও-র (REUTERS)
বিমান ভাড়া বাড়ানোর ইঙ্গিত ইন্ডিগো সিইও-র (REUTERS)

জেট ফুয়েলের টানা মূল্যবৃদ্ধির আবহে দেশের বৃহত্তম এই বিমান সংস্থা ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক উভয় রুটেই ফুয়েল চার্জ বা জ্বালানি শুল্ক সংশোধন করেছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর লোকসান গত বারের তুলনায় ২৭.২ শতাংশ কমে ১৮৭৯.১০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বিমান জ্বালানির অতিরিক্ত দাম এবং টাকার অবমূল্যায়ন সংস্থার আর্থিক ফলের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গত বছরের এই একই ত্রৈমাসিকে সংস্থার নিট লোকসান ছিল ২৫৮২.১০ কোটি টাকা। তবে উইলিয়াম ওয়ালশ জানান, জ্বালানির এই চড়া দাম থেকে এখনই স্বস্তি পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা তাঁরা দেখছেন না। তিনি বলেন, 'আমরা আগামী বেশ কিছু সময়ের জন্য জ্বালানির চড়া মূল্যের একটি পর্ব প্রত্যক্ষ করতে চলেছি।' তবে এই বাড়তি খরচের বোঝা সামাল দিতে অভ্যন্তরীণ স্তরে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ চালিয়ে যাওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। তাঁর কথায়, 'আমাদের খরচের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সামাল দিতে অভ্যন্তরীণভাবে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, আমরা তার প্রতিটি খতিয়ে দেখব।'

ফুয়েল চার্জ বাড়াল ইন্ডিগো

সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী, দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে ঘরোয়া উড়ানে ইন্ডিগোর ফুয়েল চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭৫ থেকে ১,৩০০ টাকা পর্যন্ত। প্রতিটি সেক্টরে এই চার্জ ১০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক উড়ানের ক্ষেত্রে গন্তব্য অনুযায়ী এই মাশুল রাখা হয়েছে ১,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত। ইউরোপের ফ্লাইটে ফুয়েল চার্জ ধার্য করা হয়েছে ১০,০০০ টাকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল ও পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশের ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এই চার্জ করা হয়েছে ৫,৫০০ টাকা।

লোকসান কমলেও লাফিয়ে বেড়েছে জ্বালানি খরচ

ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে ইন্টারগ্লোব এভিয়েশন ১,৮৭৯ কোটি টাকার নিট লোকসান নথিভুক্ত করেছে। তবে এই ক্ষতি গত বছরের চেয়ে কম এবং ব্লুমবার্গের সমীক্ষায় বিশেষজ্ঞদের অনুমিত ২,০৬৩ কোটি টাকার ক্ষতির তুলনায় কিছুটা কম। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নথি অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ইন্ডিগোর মূল সংস্থা ‘ইন্টারগ্লোব এভিয়েশন’-এর মোট আয় বেড়ে ২৪,৩১১.৯০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৯,৫৯৯.৫০ কোটি টাকা। তবে, সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে সংস্থার মোট ব্যয় বেড়ে ২৬,১৮৮.৪০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে বিমান জ্বালানির (এটিএফ) বাবদ ব্যয় ৬৭.২ শতাংশ বেড়ে ৯৯৬৬.৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

সংস্থার আর্থিক বিবরণীতে ওয়ালশ জানান, পর্যটন ও বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে মন্দা থাকা সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে অপ্রত্যাশিত চড়া জ্বালানি খরচ এবং বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়েছে সংস্থাকে। তিনি বলেন, 'মৌসুমিভাবে দুর্বল সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে আমরা নজিরবিহীন চড়া জ্বালানি খরচ এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখোমুখি হয়েছি।' তিনি আরও যোগ করেন, সংস্থার নেওয়া পদক্ষেপগুলি আয় বাড়াতে সাহায্য করলেও তা খরচের এই বিপুল বৃদ্ধিকে কেবল আংশিকভাবেই মেটাতে পেরেছে। সাধারণত ভারতে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে অভ্যন্তরীণ বিমান ভ্রমণের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকে। তবে আসন্ন উৎসবের মরসুমে যাত্রীচাপ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বিমান সংস্থাগুলিকে কিছুটা আর্থিক স্বস্তি এনে দিতে পারে।

যাত্রীসংখ্যা হ্রাস ও উড়ান সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ

এই ত্রৈমাসিকে ইন্ডিগো মোট ২ কোটি ৭৫ লক্ষ (২৭.৫ মিলিয়ন) যাত্রী বহন করেছে, যা গত বছরের চেয়ে ৪.৫ শতাংশ কম। খরচ কমাতে সংস্থাটি তাদের পরিষেবার ক্ষমতাও (Capacity) ১ শতাংশ কমিয়েছে। ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, যাত্রী প্রতি গড় আয় (Passenger yield) বার্ষিক ভিত্তিতে ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিমানের আসন ভরার হার (Passenger load factor) গত বছরের ৮২.৫ শতাংশ থেকে কমে ৮০.৩ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, আগের ত্রৈমাসিকের তুলনায় সংস্থার ঋণ ৭.১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭,৩০৩ কোটি টাকায়। ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে সংস্থার পরিষেবা বৃদ্ধির হার সীমিত রাখারই পরিকল্পনা রয়েছে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks