বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে গত ১৩ এপ্রিল নয়ডার রাস্তা অবরোধ করে প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক। সেই ঘটনায় ৩০০ জনের মতো বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নয়ডায় এই বিক্ষোভের জেরে গুরুত্বপূর্ণ সব সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। নয়ডার প্রায় ৮০ জায়গায় একযোগে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। পরে সেই বিক্ষোভ হিংসাত্মক আকার ধারণ করে। পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে। নয়ডার ফেজ ২ এবং সেক্টর ৬৩-তে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে বিক্ষোভকারীদের। এই পরিস্থিতিতে বিক্ষোভের সঙ্গে পাকিস্তানি যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, হরিয়ানা সরকার সম্প্রতি ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করে। এরপরই উত্তরপ্রদেশের নয়ডাতে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পথে নামেন হাজার হাজার শ্রমিক। বিক্ষোভের মুখে আজ, ১৪ এপ্রিল উত্তরপ্রদেশ সরকারও ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি করেছে। তবে এই হিংসাত্মক বিক্ষোভ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে যে, শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখিয়ে চলে যায়। এরপর কিছু ‘বহিরাগত’ নয়ডায় অশান্তি উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
গৌতম বুদ্ধ নগর পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মী সিং বলেন, শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে চলে যায়। এরপরে জেলার বাইরে থেকে একটি দল আসে নয়ডার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে। তারা উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং সহিংসতা উস্কে দেওয়ার চেষ্টায় ঘোরাঘুরি করতে শুরু করে। আমরা এই দলের কয়েকজন সদস্যকে হেফাজতে নিয়েছি এবং বাকিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।' এদিকে উত্তরপ্রদেশের শ্রমমন্ত্রী অনিল রাজভর বলেছেন, নয়ডার অস্থিরতার ঘটনায় পাকিস্তানের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে সন্ত্রাস-সংক্রান্ত মামলায় একাধিক গ্রেফতারি হয়েছে। এই আবহে কোনও জঙ্গি যোগ এই হিংসাত্মক বিক্ষোভের নেপথ্যে ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।