পশ্চিম এশিয়ায় বিগত কয়েক মাসের সামরিক সংঘাতের আবহে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ ছড়িয়েছিল। তবে অবশেষে স্বস্তির ইঙ্গিত মিলল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা হতে চলেছে বলে ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প নিজে। এহেন পরিস্থিতিতে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একইসঙ্গে চাঙ্গা হয়ে ওঠে বিশ্বের বিভিন্ন শেয়ারবাজারও। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনের সম্ভাবনা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তারই সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে।
তেলের দামে বড় পতন
সোমবার মার্কিন ক্রুড অয়েলের জুলাই ডেলিভারির ফিউচার মূল্য প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮০.৮৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দামও প্রায় ৪ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৩.৭৭ ডলারে পৌঁছায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক মাস ধরে মার্কিন-ইরান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে যে অতিরিক্ত ঝুঁকির মূল্য যুক্ত হয়েছিল, এই সমঝোতার ফলে তার বড় অংশই বাজার থেকে বেরিয়ে যেতে শুরু করেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন।
ট্রাম্পের নাটকীয় ঘোষণা
পরিস্থিতির মোড় ঘোরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেএর একাধিক ঘোষণার পর। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উভয় দেশ অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্প আরও জানান, হরমুজ প্রণালী টোলমুক্তভাবে পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে। একটি পোস্টে তিনি লেখেন, বিশ্বের জাহাজগুলো, ইঞ্জিন চালু করো। তেল আবার প্রবাহিত হতে দাও। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী?
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি করিডরগুলির অন্যতম হল হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত, ইরাক এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ থেকে রপ্তানিকৃত বিপুল পরিমাণ তেল এই পথেই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু হলে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং মূল্যবৃদ্ধির চাপ অনেকটাই কমবে।
ঊর্ধ্বমুখী বিশ্ববাজার
{{/usCountry}}বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি করিডরগুলির অন্যতম হল হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত, ইরাক এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ থেকে রপ্তানিকৃত বিপুল পরিমাণ তেল এই পথেই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু হলে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং মূল্যবৃদ্ধির চাপ অনেকটাই কমবে।
ঊর্ধ্বমুখী বিশ্ববাজার
{{/usCountry}}শুধু তেলের বাজার নয়, মার্কিন-ইরান সমঝোতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। মার্কিন বাজারে ডাও জোন্স ফিউচার প্রায় ০.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার ০.৯ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ন্যাসড্যাক-১০০ ফিউচার ১.৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা কমে গেলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাও শক্তিশালী হবে।
এশিয়ার বাজারেও লাফ
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনায় এশিয়ার শেয়ারবাজারেও ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান সূচক কোসপি ৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। জাপানের নিক্কেই-২২৫ সূচক প্রায় ৩.৬ শতাংশ লাফ দেয়। অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ সূচকও ১.৩ শতাংশ পর্যন্ত উপরে উঠে যায়।