জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সরকার কি বড়সড় রাজনৈতিক সংকটের মুখে? শাসকদল ন্যাশনাল কনফারেন্সের অন্দরে বিদ্রোহের জল্পনা ঘিরে উত্তপ্ত উপত্যকার রাজনীতি। দলের প্রায় ২৫ জন বিধায়ক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে খবর। তাঁদের দাবি, সরকার এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে একাধিক পরিবর্তন করতে হবে। দাবিগুলি না মানা হলে রাজভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে সমর্থন প্রত্যাহারের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও বিধায়ক প্রকাশ্যে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেননি। ন্যাশনাল কনফারেন্সের একাধিক নেতাও বিদ্রোহের জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন।

‘ইন্ডিয়া টুডে’-র প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ‘লাইভ হিন্দুস্তান’ জানিয়েছে, ক্ষুব্ধ বিধায়কেরা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ১৪ দিনের সময়সীমা দিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে দলের নেতৃত্বের দূরত্ব আরও বেড়েছে শ্রীনগরে বিধায়ক কায়সার জামশেদ লোনের বাড়িতে একটি বৈঠকের পর। ওই বৈঠকেই বিদ্রোহের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জল্পনা ছড়ায়।
কী কী দাবি বিধায়কদের?
সূত্রের দাবি, ক্ষুব্ধ বিধায়কদের সামনে মোট পাঁচটি দাবি রয়েছে। প্রথমত, সরকারের বর্তমান মন্ত্রিসভার সব সদস্যকে সরিয়ে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টাকেও বদল করতে হবে। তৃতীয়ত, নতুন করে নিরপেক্ষ ভাবে মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে। চতুর্থত, নতুন মন্ত্রী নিয়োগের আগে বিধায়ক দলের বৈঠক ডাকতে হবে। পঞ্চমত, সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫এ ধারা ফেরানোর দাবিতে সরকারকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
গত ২৭ অক্টোবর মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের পর থেকেই দলের অন্দরে অসন্তোষ বেড়েছে বলে খবর। ওই দিন ন্যাশনাল কনফারেন্সের চার বিধায়ক আলি মহম্মদ সাগর, মীর সইফুল্লা, শামিমা ফিরদৌস এবং আলতাফ আহমেদ ওয়ানিকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেন ওমর। কিন্তু অনেক প্রবীণ বিধায়ক মন্ত্রিত্ব না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হন। ছ'বারের বিধায়ক এবং প্রাক্তন বিধানসভার স্পিকার গুল ও আবদুল মজিদ লারমি প্রকাশ্যেই নিজেদের অসন্তোষের কথা জানান।
এই অসন্তোষের আবহে আরও একটি ঘটনা ওমরের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। দলের সাংসদ আগা সৈয়দ রুহুল্লা মেহদি ন্যাশনাল কনফারেন্স এবং সাংসদ পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বর পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে ৩৭০ ধারা ফেরানো, বন্দিদের মুক্তি এবং জম্মু ও কাশ্মীরের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি পালনে পিছিয়ে গিয়েছে নেতৃত্ব। দল নিজের আদর্শ থেকে সরে এসেছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
{{/usCountry}}এই অসন্তোষের আবহে আরও একটি ঘটনা ওমরের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। দলের সাংসদ আগা সৈয়দ রুহুল্লা মেহদি ন্যাশনাল কনফারেন্স এবং সাংসদ পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বর পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে ৩৭০ ধারা ফেরানো, বন্দিদের মুক্তি এবং জম্মু ও কাশ্মীরের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি পালনে পিছিয়ে গিয়েছে নেতৃত্ব। দল নিজের আদর্শ থেকে সরে এসেছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
{{/usCountry}}তবে বিদ্রোহের জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের বিধায়ক হিলাল আকবর লোন। তাঁর বক্তব্য, দলের এক নেতার বাড়িতে বৈঠককে অন্য ভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। দল বা নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনও ইচ্ছা তাঁর নেই। পদ বা ক্ষমতার লোভে দলের প্রতি আনুগত্য বদলাবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
৯০ আসনের জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় ন্যাশনাল কনফারেন্সের বিধায়ক সংখ্যা ৪১। কংগ্রেসও জোট সরকারে রয়েছে। ফলে ২৫ বিধায়কের বিদ্রোহের জল্পনা সত্যি হলে ওমর সরকারের পক্ষে তা বড় ধাক্কা হতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত সরকার পড়ে যাওয়ার কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আপাতত দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ কতটা সামাল দিতে পারেন ওমর, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।