তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ঢাকার বার্তায় ফের প্রকাশ্যে এল দ্বিধা। এক দিকে দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি, অন্য দিকে ভারতের মাটিতে থাকা শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়াদিল্লির উপর কার্যত চাপ তৈরি করার চেষ্টা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক মন্তব্যে অন্তত তেমনই ছবি দেখা গেল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন দাবি করেছেন, তারেক রহমানের ভারত সফরের পথে প্রধান বাধা শেখ হাসিনা এবং তাঁর দলের নেতাদের কর্মকাণ্ড। তাঁর অভিযোগ, দিল্লিতে বসে হাসিনা-ঘনিষ্ঠরা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, যে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার দায় বার বার অন্যের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে, সেই দেশ কি নিজের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আদৌ সক্ষম?
ঢাকার বক্তব্য, ভারত যদি শেখ হাসিনা এবং তাঁর সহযোগীদের ‘সংযত’ রাখে, তা হলে দু’দেশের সম্পর্কে আর কোনও বড় সমস্যা থাকবে না। অর্থাৎ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দায়িত্বও যেন কার্যত ভারতের কাঁধেই তুলে দিতে চাইছে ঢাকা। ভারতের কাছ থেকে নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক নিশ্চয়তা প্রত্যাশা করলেও বাংলাদেশ নিজের মাটিতে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ভারত-বিরোধী কর্মকাণ্ড করতে দেবে না—এই বার্তাও দিতে হয়েছে হুমায়ুনকে।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনের সময় প্রায় দু’হাজার মানুষকে হত্যার অভিযোগও তোলেন বাংলাদেশের এই মন্ত্রী। তাঁকে ‘সন্ত্রাসী’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু একই সময়ে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন ঢাকা। ফলে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের ক্ষেত্রে অভিযোগ এবং কূটনৈতিক প্রয়োজন—দুইয়ের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
আর এখানেই সামনে আসে ভারতের গুরুত্ব। ভারতকে ঘিরেই যে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমীকরণ এখনও আবর্তিত হচ্ছে, হুমায়ুনের মন্তব্যে তা আরও স্পষ্ট। তাঁর দাবি, তারেক কখনও বলেননি যে তিনি ভারত সফর করবেন না। উপযুক্ত সময় এলে সফর হবে। অর্থাৎ, দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করাই যে নতুন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছে ঢাকা।
{{/usCountry}}আর এখানেই সামনে আসে ভারতের গুরুত্ব। ভারতকে ঘিরেই যে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমীকরণ এখনও আবর্তিত হচ্ছে, হুমায়ুনের মন্তব্যে তা আরও স্পষ্ট। তাঁর দাবি, তারেক কখনও বলেননি যে তিনি ভারত সফর করবেন না। উপযুক্ত সময় এলে সফর হবে। অর্থাৎ, দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করাই যে নতুন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছে ঢাকা।
{{/usCountry}}তবে ভারতের জন্য সমীকরণটি শুধুই সফর বা সৌজন্য বৈঠকের নয়। সীমান্ত নিরাপত্তা, বিচ্ছিন্নতাবাদ, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী রাজনৈতিক কার্যকলাপ—সব মিলিয়ে নয়াদিল্লির কাছে ঢাকার স্থিতিশীলতা সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গা থেকেই ভারতের অবস্থানও যে আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে। এমনকি দিল্লিকে তাঁর মতামত গুরুত্ব দেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন হুমায়ুন। কূটনৈতিক মহলের কাছে এই বার্তাও তাৎপর্যপূর্ণ—ঢাকার নতুন সরকার দিল্লির সহযোগিতা চায়, কিন্তু সেই সহযোগিতার শর্ত ও সীমারেখাও নিজের মতো করে নির্ধারণ করতে চাইছে।
সব মিলিয়ে তারেকের সম্ভাব্য ভারত সফর এখন শুধুই সৌজন্য সফর নয়, বরং ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের একটি বড় পরীক্ষা। ভারতের মাটিতে কে কী করছেন, বাংলাদেশে কী ঘটছে, এবং নতুন সরকার কতটা স্থিতিশীল—সব কিছুই বিচার করবে নয়াদিল্লি। শেষ পর্যন্ত বার্তাটা একটাই: দিল্লির প্রয়োজন বাংলাদেশে যতটা, ঢাকার প্রয়োজন ভারতের উপর তার চেয়ে কম নয়।