পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন অব্যাহত। কয়েকবছর আগেও উত্তরপূর্বের রাজ্যে নিজেদের ডালপালা বিস্তার করতে চেয়েছিল তৃণমূল। সেই তৃণমূল আজ নিজেদের সাংসদ ও বিধায়কদের ধরে রাখতে পারছে না। এই আবহে অসমে তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা অভিজিৎ মজুমদার একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের ভিতরে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ জমা হচ্ছিল, নেতৃত্বের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছিল এবং সেই কারণেই দলের একাংশ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে হাঁটছে।

অভিজিৎ মজুমদারের কথায়, 'অসমে আমরা যা দেখেছিলাম, এখন গোটা দলেই সেই একই পরিস্থিতি। কাউকে সম্মান দেওয়া হত না। সাংসদ, বিধায়করা পর্যন্ত দিদির সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। তাঁদের কথা শোনার কোনও ব্যবস্থা নেই।' তাঁর আরও দাবি, এই পরিস্থিতির জেরেই দলের একাধিক সাংসদ দল ছেড়েছেন এবং ভবিষ্যতে একটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে, যেখানে তৃণমূলের বিদ্রোহী অংশ আলাদা সত্তা গড়ে এনডিএ-কে সমর্থন করতে পারে।
প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন এবং এখনও রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর নেতৃত্বেই দল আন্দোলন থেকে ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছেছে। কিন্তু বিরোধীদের পাশাপাশি এখন দলের প্রাক্তন নেতাদের একাংশও অভিযোগ করছেন যে, দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কয়েকজন শীর্ষ নেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। সাংসদ, বিধায়ক কিংবা জেলা স্তরের নেতাদের মতামত পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠছে। অভিজিৎ মজুমদারের বক্তব্যে সেই ক্ষোভই যেন নতুন করে সামনে এসেছে। তাঁর মতে, দলের ভিতরে মতবিনিময়ের পরিসর ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নিচুতলার নেতৃত্ব কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের বাইরে নিজেদের বিস্তার ঘটানোর জন্য গত কয়েক বছরে বিশেষ জোর দিয়েছিল। গোয়া, ত্রিপুরা, মেঘালয়, অসম—সব জায়গাতেই সংগঠন তৈরির চেষ্টা হয়েছিল। অসমে এই দায়িত্বের অন্যতম মুখ ছিলেন অভিজিৎ মজুমদার। কিন্তু তাঁর দাবি, শুরু থেকেই স্থানীয় নেতৃত্বকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, রাজ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার পরিবর্তে অধিকাংশ সিদ্ধান্ত বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া হত। ফলে সংগঠন শক্তিশালী হওয়ার বদলে কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত বহু নেতা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন বা দল ছেড়ে চলে যান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অসমে তৃণমূলের ব্যর্থতা শুধুমাত্র সাংগঠনিক দুর্বলতার ফল নয়; বরং জাতীয় স্তরে দল পরিচালনার কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল।
{{/usCountry}}তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের বাইরে নিজেদের বিস্তার ঘটানোর জন্য গত কয়েক বছরে বিশেষ জোর দিয়েছিল। গোয়া, ত্রিপুরা, মেঘালয়, অসম—সব জায়গাতেই সংগঠন তৈরির চেষ্টা হয়েছিল। অসমে এই দায়িত্বের অন্যতম মুখ ছিলেন অভিজিৎ মজুমদার। কিন্তু তাঁর দাবি, শুরু থেকেই স্থানীয় নেতৃত্বকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, রাজ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার পরিবর্তে অধিকাংশ সিদ্ধান্ত বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া হত। ফলে সংগঠন শক্তিশালী হওয়ার বদলে কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত বহু নেতা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন বা দল ছেড়ে চলে যান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অসমে তৃণমূলের ব্যর্থতা শুধুমাত্র সাংগঠনিক দুর্বলতার ফল নয়; বরং জাতীয় স্তরে দল পরিচালনার কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল।
{{/usCountry}}