ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের কাছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত চার ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ছিলেন কেরলের ২৬ বছরের অখিল জয়ন। মাত্র তিন মাস আগে তাঁর বাগদান হয়েছিল। আর দু'মাস পরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই যুদ্ধ কেড়ে নিল তাঁর প্রাণ। অখিলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে কেরলের কাসারগোড় জেলার ভেলারিক্কুন্ডুর ছোট্ট গ্রামে।

রবিবার ওডেসা বন্দর থেকে রওনা দেওয়ার সময় গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি গোল্ডেন লিও-তে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। ওই হামলায় মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজন ভারতীয় নাবিক। আহত হয়েছেন আরও এক ভারতীয়, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অখিল জয়ন ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান। তাঁর বাবা একটি বৈদ্যুতিক সামগ্রীর দোকান চালাতেন এবং মা বীমা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। সম্প্রতি অনেক কষ্ট করে নতুন বাড়ি তৈরি করেছিলেন তাঁরা। পরিবারের প্রধান ভরসা ছিলেন অখিলই। তাঁর উপার্জনের উপরই অনেকটাই নির্ভর করত সংসার।
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য শোভি জোসেফ জানিয়েছেন, আলাপ্পুঝার এক তরুণীর সঙ্গে অখিলের বাগদান হয়েছিল তিন মাস আগে। মাত্র এক মাস আগে তিনি আবার জাহাজে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। সব ঠিক থাকলে আর দু'মাস পরেই বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন যুদ্ধের আগুনে শেষ হয়ে গেল।
জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট শিপিং সংস্থার একটি ই-মেলের মাধ্যমে পরিবারের কাছে অখিলের মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। খবর পাওয়ার পর থেকেই শোকে ভেঙে পড়েছেন তাঁর বাবা-মা। ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁরা স্থানীয় সাংসদ ও বিধায়কের সাহায্য চেয়েছেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে মার্চেন্ট নেভিতে যোগ দিয়েছিলেন অখিল। দীর্ঘ সাত বছর ধরে সমুদ্রপথে কাজ করছিলেন তিনি। পরিবারের স্বপ্ন ছিল, ছেলের বিয়ের পর নতুন জীবন শুরু হবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল।
{{/usCountry}}জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট শিপিং সংস্থার একটি ই-মেলের মাধ্যমে পরিবারের কাছে অখিলের মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। খবর পাওয়ার পর থেকেই শোকে ভেঙে পড়েছেন তাঁর বাবা-মা। ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁরা স্থানীয় সাংসদ ও বিধায়কের সাহায্য চেয়েছেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে মার্চেন্ট নেভিতে যোগ দিয়েছিলেন অখিল। দীর্ঘ সাত বছর ধরে সমুদ্রপথে কাজ করছিলেন তিনি। পরিবারের স্বপ্ন ছিল, ছেলের বিয়ের পর নতুন জীবন শুরু হবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল।
{{/usCountry}}জাহাজটি পরিচালনা করছিল মুম্বই-ভিত্তিক ওশেন গ্রেস শিপিং লিমিটেড। ইউক্রেনের অভিযোগ, ওডেসা বন্দর ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই জাহাজটিকে লক্ষ্য করে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হামলার জেরে জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং বহু নাবিক প্রাণ হারান। ঘটনার পর কেরল সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর দফতর নরকা (NORKA)-কে রাশিয়ার কনস্যুলেট এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয়দের সব ধরনের সাহায্য করার চেষ্টা করছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আহত ভারতীয় নাবিকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে কেন্দ্র।
যুদ্ধের বলি হওয়া অখিল জয়নের মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল, যুদ্ধ শুধু সীমান্তেই নয়, নিরীহ সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বপ্নও কেড়ে নেয়। দু'মাস পর যে যুবকের মাথায় বিয়ের পাগড়ি ওঠার কথা ছিল, আজ তাঁর বাড়িতে শুধুই শোকের মাতম।