অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতি কীভাবে চূড়ান্ত হয়েছিল, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটালেন প্রাক্তন সেনা সর্বাধিনায়ক জেনারেল অনিল চৌহান। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছিল দুই দেশের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস বা ডিজিএমও-দের সরাসরি আলোচনার পরেই। এতে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা ছিল না। অর্থাৎ, সংঘর্ষবিরতির নেপথ্যে আমেরিকা বা অন্য কোনও দেশের মধ্যস্থতার দাবি কার্যত খারিজ করে দিলেন তিনি।

মঙ্গলবার নয়াদিল্লির একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনিল চৌহান বলেন, সংঘর্ষবিরতির সময় নির্ধারণের আগে দুই দেশের ডিজিএমও ফোনে কথা বলেছিলেন। তাঁর দাবি, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাকিস্তানের ডিজিএমও-র সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ হয়। এরপর সময় নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়। পাকিস্তানের ডিজিএমও জানান, তিনি বিকেল ৩টে পর্যন্ত ব্যস্ত থাকবেন। পরে বিকেল ৩টে নাগাদ ফের দুই পক্ষের মধ্যে কথা হয়। এরপরই বিকেল ৫টার দিকে সংঘর্ষবিরতির সময় চূড়ান্ত করা হয়।
প্রাক্তন সেনাপ্রধানের কথায়, পুরো বিষয়টি ছিল দুই দেশের সামরিক কর্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের ফল। তিনি বলেন, “এর বাইরে অন্য কারও কোনও ভূমিকা নেই।” অর্থাৎ রাজনৈতিক বা বিদেশি কোনও মধ্যস্থতার পরিবর্তে ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক কর্তাদের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই সংঘর্ষ থামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর বক্তব্য।
তবে এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তাহলে আমেরিকা কীভাবে এত দ্রুত সংঘর্ষবিরতির খবর জানতে পারল? কারণ, ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা করার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে ভারত ও পাকিস্তান সংঘর্ষ থামাতে রাজি হয়েছে। সেই সময় ট্রাম্প বারবার দাবি করেছিলেন, তাঁর নেতৃত্বে এবং আমেরিকার মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি সম্ভব হয়েছে।
কিন্তু অনিল চৌহান জানিয়েছেন, এই খবর আমেরিকার কাছে কীভাবে পৌঁছেছিল, তা তাঁরও জানা নেই। তাঁর দাবি, ভারতীয় পক্ষ থেকে এই তথ্য ফাঁস করা হয়নি। দুই দেশের ডিজিএমও পর্যায়ে যে আলোচনা হয়েছিল, তা গোপন রাখা হয়েছিল। তাঁর অনুমান, সম্ভবত পাকিস্তানের দিক থেকেই কোনওভাবে তথ্যটি বাইরে চলে গিয়েছিল।
{{/usCountry}}কিন্তু অনিল চৌহান জানিয়েছেন, এই খবর আমেরিকার কাছে কীভাবে পৌঁছেছিল, তা তাঁরও জানা নেই। তাঁর দাবি, ভারতীয় পক্ষ থেকে এই তথ্য ফাঁস করা হয়নি। দুই দেশের ডিজিএমও পর্যায়ে যে আলোচনা হয়েছিল, তা গোপন রাখা হয়েছিল। তাঁর অনুমান, সম্ভবত পাকিস্তানের দিক থেকেই কোনওভাবে তথ্যটি বাইরে চলে গিয়েছিল।
{{/usCountry}}এই মন্তব্যের ফলে সংঘর্ষবিরতির তথ্য ফাঁস নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সর্বাধিনায়কের বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার বিষয়টি দুই পক্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার কথা ছিল। তাই তৃতীয় কোনও দেশের কাছে দ্রুত সেই তথ্য পৌঁছে যাওয়ার ঘটনায় পাকিস্তানের ভূমিকাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
অপারেশন সিঁদুরের পর থেকেই সংঘর্ষবিরতিকে ঘিরে ভারত ও আমেরিকার বক্তব্যে পার্থক্য দেখা গিয়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছিলেন, তাঁর হস্তক্ষেপেই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ থেমেছিল। অন্যদিকে ভারত সরকারের তরফে বারবার বলা হয়েছিল, সংঘর্ষবিরতি ছিল সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথনে স্পষ্ট করেছিলেন যে, কোনও তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতায় নয়, দুই দেশের সামরিক স্তরের আলোচনার মাধ্যমেই সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হয়েছিল।
এবার জেনারেল অনিল চৌহানের বক্তব্য সেই ভারতীয় অবস্থানকেই আরও স্পষ্ট করল। একই সঙ্গে এতদিনের একটি বড় রহস্যেরও নতুন ব্যাখ্যা পাওয়া গেল—ভারতীয় পক্ষ থেকে তথ্য ফাঁস না হলে, কীভাবে ট্রাম্প আগে থেকেই সংঘর্ষবিরতির খবর জানলেন। প্রাক্তন সেনাপ্রধান সরাসরি কারও নাম না করলেও তাঁর বক্তব্যের ইঙ্গিত পাকিস্তানের দিকেই। ফলে অপারেশন সিঁদুরের সংঘর্ষবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।