...
...
Next Story

Last big Maoist fugitive: একটি মাত্র ছবি ও বারবার হাতছাড়া! শেষ মাওবাদী শীর্ষ নেতা গণপতির খোঁজে অভিযান

Last big Maoist fugitive: আত্মসমর্পণকারী প্রবীণ মাওবাদী ক্যাডাররা বলছেন তাঁরা কয়েক বছর ধরে গণপতিকে দেখেননি, কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য এই অপেক্ষা অনেক বেশি দীর্ঘ—১৯৭৯ সাল থেকে।

Published on: Sep 18, 2026, 21:22:44 IST
Advertisement

Last big Maoist fugitive: গত ৪৭ বছর ধরে পলাতকের মাথার দাম কুখ্যাত মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের চেয়ে বেশি। তিনি হলেন সিপিআই মাওবাদী দলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মুপ্পালা লক্ষ্মণ রাও ওরফে গণপতি। ভারতের সবচেয়ে মারাত্মক সশস্ত্র বিদ্রোহ গড়ে তোলা, একের পর এক রাজ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া, সাধারণ গ্রামবাসীদের গেরিলা যোদ্ধায় পরিণত করা এবং মাওবাদী ক্যাডারদের একের পর এক প্রজন্মকে কীভাবে কোনও চিহ্ন না রেখে উধাও হয়ে যেতে হয় তা শেখানো প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক (সম্ভবত এখন তাঁর বয়স সত্তরের কোঠার শেষভাগে) নিজেও নিখোঁজ হয়ে গেছেন—যদিও তাঁর সেই আন্দোলন আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

শেষ মাওবাদী শীর্ষ নেতা গণপতির খোঁজে অভিযান (HT Photo)
শেষ মাওবাদী শীর্ষ নেতা গণপতির খোঁজে অভিযান (HT Photo)

যে মানুষগুলো এক সময় গণপতির অধীনে যুদ্ধ করেছিলেন, তাঁরা কেউ আত্মসমর্পণ করছেন, আবার কেউ গ্রেফতার হচ্ছেন বা বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। বুধবার রায়পুরের একটি আদালত ২০১৩ সালের ঝিরাম উপত্যকা হামলায় ১০ জন মাওবাদীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, যে হামলায় ২৭ জন নিহত হয়েছিলেন—যাঁদের বেশিরভাগই ছিলেন শীর্ষ কংগ্রেস নেতা। কয়েক ঘণ্টা পর পশ্চিমবঙ্গে প্রায় তিন দশক আত্মগোপনে থাকার পর আত্মসমর্পণ করেন সিপিআই (মাওবাদী)-র প্রাক্তন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অসীম মণ্ডল। জুলাই মাসে ঝাড়খণ্ডে নিজের গোপন আস্তানা থেকে পালানোর সময় ধরা পড়েন শেষ সক্রিয় কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা মিসির বেসরা। বেসরা এবং মণ্ডলের মতো ক্যাডারদের গণপতিই তৈরি করেছিলেন এবং ঝিরাম উপত্যকার মতো অতর্কিত হামলার নির্দেশও তিনিই দিয়েছিলেন।

৩০ মার্চ ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে নকশাল বিদ্রোহের সমাপ্তি ঘোষণার পর মাওবাদী নেতৃত্বের যা কিছু অবশিষ্ট ছিল, তাও ভেঙে দেওয়া হয়। তারপর থেকে আর কোনও মাওবাদী হামলার খবর মেলেনি; দীর্ঘ ছয় দশকে এই প্রথম ভারতের নকশাল ঘাঁটিতে বন্দুকের গর্জন সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। তবুও গোয়েন্দা সংস্থা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে একটি অভিযান এখনও অসমাপ্ত রয়ে গেছে: ভারতের দীর্ঘতম সময় ধরে ওয়ান্টেড থাকা পলাতকদের অন্যতম গণপতিকে খুঁজে বের করা। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির বিশ্বাস, আত্মসমর্পণকারী ক্যাডারদের কাছেই গণপতির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র থাকতে পারে।

আত্মসমর্পণকারী আরেক মাওবাদী কমান্ডার কান্দাগাতলা ইয়াদাগিরি ওরফে রাজমান—যিনি বস্তারের জঙ্গল থেকে প্রায় তিন দশক ধরে লড়াই চালিয়েছেন—তিনি মনে করেন গণপতি আর জঙ্গলে নেই। কারণ জঙ্গল, যা এক সময় গণপতির মূল ঘাঁটি ছিল, তা আর আগের মতো নেই। রাজমান বলেন, 'সরকার বস্তার এবং অন্যান্য রাজ্যের জঙ্গলগুলো আক্ষরিক অর্থেই ফাঁকা করে দিয়েছে। গণপতি এখন জঙ্গলে সন্ন্যাসীর মতোও থাকতে পারবে না, কারণ বাহিনী সব জায়গায় পৌঁছে গেছে। ২০২৩ সালের দিকে জঙ্গলে আমি তাকে শেষবার দেখেছিলাম, যখন ও বৈঠকের জন্য এসেছিল। তখন তিনি অবশ্য দলের প্রধান ছিলেন না।' গণপতির স্বাস্থ্য সংক্রান্ত খবরের বিপরীতে গিয়ে ইয়াদাগিরি জানান, প্রাক্তন এই মাওবাদী প্রধান শারীরিকভাবে এখনও সক্ষম। তিনি বলেন, 'মাওবাদীরা জঙ্গলে থাকা এবং ন্যূনতম রসদ নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য প্রশিক্ষিত। তাদের জীবনযাপন সম্পূর্ণ আলাদা।'

আত্মসমর্পণকারী প্রবীণ মাওবাদী ক্যাডাররা বলছেন তাঁরা কয়েক বছর ধরে গণপতিকে দেখেননি, কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য এই অপেক্ষা অনেক বেশি দীর্ঘ—১৯৭৯ সাল থেকে। গণপতি যখন মাওবাদী পার্টির সম্পাদক ছিলেন, তখন ৭০ জন সশস্ত্র গেরিলা তাঁকে পাহারা দিত। তাঁর উচ্চতা মাঝারি। ১৯৯৫ সালে তিনি প্রথমবার বড় ধরনের হামলা সংগঠিত করেন। তাতে এক ডিএসপি-সহ ২৫ জন পুলিশকর্মী মারা যান। ২০০৬ সালে সালওয়া জুড়ুম অভিযান পরাজিত করার জন্য তাঁর নেতৃত্বে ৩৫ জন আদিবাসীকে খুন করা হয়। সেই বছরেই মাওবাদীরা উপালমেটা ক্যাম্প বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয়। ১৪ নাগা সৈনিক নিহত হন। ২০১৪ সালে তাঁর নেতৃত্বে সিআইএসএফের হিরোলি মাইনস ক্যাম্পে হামলা করে মাওবাদীরা। আটজন নিহত হন।

সিআরপিএফ-এর অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল (ADG) এইচ আর সিং—যিনি তিন দশকের কর্মজীবনে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় একাধিক মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন—তাঁর কাছে গণপতির নাম মানেই বারবার খুব কাছ থেকে ফস্কে যাওয়ার স্মৃতি। এইচ আর সিং বলেন, 'কমান্ড্যান্ট হিসেবে জঙ্গলে ব্যাটেলিয়ন পরিচালনার সময় এমন বহুবার ঘটেছে যখন আমরা তাকে ধরতে গিয়েও অল্পের জন্য ফস্কে গেছি। আমার মনে আছে একবার একটি রেল স্টেশনে তার উপস্থিতি সম্পর্কে আমাদের কাছে খবর ছিল। আমাদের দল যখন সেখানে পৌঁছায়, ট্রেনটি তখনই এসে থামে। মাওবাদীরা নিশ্চয়ই কোনও গোলযোগ আঁচ করতে পেরেছিল এবং স্থানীয় লোকজনকে দিয়ে স্টেশন ভরিয়ে ফেলে সেই বগিটির চারপাশে ভিড় জমিয়ে দেয়, যেখান থেকে সে নেমেছে বলে আমাদের ধারণা ছিল। স্থানীয়দের সমর্থন তার সঙ্গে ছিল, যারা তাকে পালাতে সাহায্য করেছিল।' সিং জানান, বিদ্রোহের চরম সময়ে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় কাজ করেছেন এমন প্রায় প্রত্যেকের কাছেই গণপতির কোনও না কোনও গল্প রয়েছে। তিনি বলেন, 'আমাদের মতো বহু মানুষ বছরের পর বছর তাকে এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের ট্র্যাক করেছেন। আমার সময়ে কিষেণজির [২০১১ সালে নিহত এক কুখ্যাত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য] মতো বহু প্রবীণ নেতা নিকেশ হলেও গণপতি বারবার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।'

এদিকে জগদলপুরে বসে রূপেশ দেখেছেন কীভাবে তাঁর পুরনো সংগঠন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে—একের পর এক গ্রেফতার, আত্মসমর্পণ, প্রাক্তন কমরেডদের মৃত্যু এবং এখন ফাঁসির সাজা। কিন্তু গণপতির অবস্থান এখনও তাঁর কাছেও এক রহস্য। সরকারি রেকর্ডে এই ব্যক্তির ১০টি আলাদা ছদ্মনাম রয়েছে এবং রয়েছে কেবল একটিই ছবি। রূপেশ বলেন, 'গণপতি সংগঠনকে তৈরি করেছিল এবং সবাইকে শিখিয়েছিল কীভাবে লুকিয়ে থাকতে হয় আর ধরা পড়তে না হয়। তিনি কেবল তখনই ধরা পড়বে যদি ও সক্রিয় থাকে। আজ তিনি শুধুই লুকিয়ে রয়েছেন। এর জন্যই তিনি প্রশিক্ষিত এবং এতেই তিনি সবচেয়ে দক্ষ। ভারত একটি বিশাল দেশ। তিনি যে কোনও জায়গায় থাকতে পারেন, এমনকী কোনও শহরে আপনার পাশেই হয়তো নতুন কোনও নাম নিয়ে বেঁচে আছেন।'

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks