FCRA New Amendment Bill: ছাত্রছাত্রীদের একাধিক ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের পর, এবার সংসদে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে। কারণ, ইন্ডিয়া জোটের একটি অংশ ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন সংশোধনী বিল ২০২৬ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহী, অন্যদিকে জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক দল সমাজবাদী পার্টি রাম মন্দিরের অনুদান কেলেঙ্কারির অভিযোগে প্রতিবাদ জারি রাখতে চায়।

বৃহস্পতিবার সংসদের রণকৌশল ঠিক করতে আয়োজিত বিরোধীদের বৈঠকে কংগ্রেস, বাম এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মতো কয়েকটি দলের নেতারা এফসিআরএ সংশোধনী বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন বলে সূত্রের খবর। সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য এখনও স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি যে তারা বিলটি আলোচনার জন্য তুলবে কিনা। চলতি বছরের মার্চ মাসে বিলটি পেশ করা হলেও প্রতিবাদের মুখে তা স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে বুধবার হিন্দুস্তান টাইমসকে এক বিরোধী নেতা জানিয়েছেন, আগামী সোমবার এই বিলটি সংসদে আলোচনার জন্য তোলা হতে পারে।
এফসিআরএ বিলে আলোচনার দাবি বিরোধীদের
সংশোধনী বিলটিতে বলা হয়েছে, কোনও সংস্থার এফসিআরএ শংসাপত্র বা লাইসেন্স বাতিল বা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে, সেই সংস্থার সমস্ত বিষয়-সম্পত্তি ও মূলধন দেখভালের জন্য একটি নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করা হবে। সেই নির্দিষ্ট সংস্থাটি চাইলে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করতে পারবে কিংবা কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের কোনও মন্ত্রক, দফতর বা এজেন্সির অধীনে হস্তান্তর করতে পারবে। সিপিএম-এর এক প্রবীণ নেতা এই বিষয়ে বলেন, 'এই বিলটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধীদের কোনও প্রতিরোধ ছাড়াই সরকার এই বিল পাস করিয়ে নেবে-তা আমরা হতে দিতে পারি না। আমাদের মতামত ও আপত্তি স্পষ্টভাবে জানানো দরকার এবং এই বিষয়ে সংসদে যে আলোচনা হবে, তাতে আমাদের অবশ্যই অংশগ্রহণ করতে হবে।' অন্যদিকে, কংগ্রেসের এক শীর্ষ নেতা জানান, 'এই বিলটির কারণে এনজিও এবং নাগরিক সমাজের ওপর সুদূরপ্রসারী ও ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। তাই যথাসম্ভব এই বিলটির বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হওয়া এবং জোরালো প্রতিবাদ জানানো প্রয়োজন।'
রাম মন্দির ইস্যুতে অটল সমাজবাদী পার্টি
ফৈজাবাদের সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অবধেশ প্রসাদ সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, মন্দির ট্রাস্টের অনুদান কারচুপির ওপর আলোচনাই এই মুহূর্তে তাঁদের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'আমরা রাম মন্দিরের ‘অনুদান কারচুপি’ নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা চাই। সরকার এই বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এটা দেশের কোটি কোটি মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়।' এদিকে বাম শিবিরের এক নেতা জানান, সমাজবাদী পার্টিকে এড়িয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়, তাই একটি ভারসাম্যপূর্ণ রণকৌশল নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, 'এসপি সব সময় আমাদের পাশে থেকেছে। আমরা জোর করে নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে সমাজবাদী পার্টিকে তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ দাবি স্থগিত রাখতে বলতে পারি না। তা ছাড়া, আগামী বছরের শুরুতেই উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির মুখোমুখি হতে চলেছে সমাজবাদী পার্টি।'
{{/usCountry}}ফৈজাবাদের সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অবধেশ প্রসাদ সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, মন্দির ট্রাস্টের অনুদান কারচুপির ওপর আলোচনাই এই মুহূর্তে তাঁদের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'আমরা রাম মন্দিরের ‘অনুদান কারচুপি’ নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা চাই। সরকার এই বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এটা দেশের কোটি কোটি মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়।' এদিকে বাম শিবিরের এক নেতা জানান, সমাজবাদী পার্টিকে এড়িয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়, তাই একটি ভারসাম্যপূর্ণ রণকৌশল নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, 'এসপি সব সময় আমাদের পাশে থেকেছে। আমরা জোর করে নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে সমাজবাদী পার্টিকে তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ দাবি স্থগিত রাখতে বলতে পারি না। তা ছাড়া, আগামী বছরের শুরুতেই উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির মুখোমুখি হতে চলেছে সমাজবাদী পার্টি।'
{{/usCountry}}আবার কংগ্রেসের এক নেতা জানান, এফসিআরএ বিলে অংশ নেওয়া এবং রাম মন্দির ইস্যু—দুটোকেই পাশাপাশি ব্যালেন্স করতে হবে। তিনি বলেন, 'দয়া করে ভাববেন না যে রাম মন্দিরের অনুদান কেলেঙ্কারির বিষয়টি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। সরকারের কাছ থেকে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কংগ্রেসও সমপরিমাণ গুরুত্ব দিয়ে এই প্রশ্ন তুলতে চায়।' আগামী সপ্তাহের সংসদীয় কর্মকাণ্ড ও রণকৌশল চূড়ান্ত করতে সোমবার বৈঠকে বসবেন বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতারা, যেখানে জোড়া ইস্যু নিয়ে চূড়ান্ত পরিকল্পনা স্থির হতে পারে।