...
...
Next Story

Nepal flash flood: নেপালে হড়পা বানে মহাপ্রলয়! মৃত্যুমিছিল, নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়, আতঙ্ক সীমান্ত এলাকায়

Nepal flash flood: তিব্বত সীমান্ত লাগোয়া রাসুয়া জেলার স্যাফ্রুবেশি ও টিমুরে এলাকায় এই হড়পা সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব চালিয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা নাগাদ ওই অঞ্চলের ভোতে কোশি (Bhote Koshi) নদীর জল হঠাৎ করেই মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়।

Updated on: Aug 26, 2026, 16:32:52 IST
Advertisement

Nepal flash flood: তিব্বত সংলগ্ন নেপালের (Flash flood) পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বানে নেমে এল বিপর্যয়। বুধবার সকালে উত্তর নেপালের ভোতে কোশি নদীতে ভয়াবহ হড়পা বান দেখা দেয়। যার জেরে তিব্বত সীমান্তের কাছে রসুয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নদীর আকস্মিক জলস্ফীতি ও কাদাস্রোতে ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি, যানবাহন, সেতু এবং বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্প। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। নেপালের পর্যটন দফতর জানিয়েছে, অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ। এঁদের মধ্যে ১০৫ জনই ভারতীয়।

নেপালে হড়পা বানের তাণ্ডব (Handout )
নেপালে হড়পা বানের তাণ্ডব (Handout )

নেপাল প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তিব্বত সীমান্ত লাগোয়া রাসুয়া জেলার স্যাফ্রুবেশি ও টিমুরে এলাকায় এই হড়পা সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব চালিয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা নাগাদ ওই অঞ্চলের ভোতে কোশি (Bhote Koshi) নদীর জল হঠাৎ করেই মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিব্বতের দিক থেকে এই বন্যার জল প্রবেশ করে থাকতে পারে। ধ্বংসলীলার পরিমাণ এতটাই ব্যাপক যে প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব এখনও মেলা সম্ভব নয়। কারণ, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে এখনও বিভিন্ন দল গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে এবং তথ্য সংগ্রহ করছে। রসুয়া জেলার প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার জানিয়েছেন, কয়েকটি গ্রাম এবং পরিকাঠামো প্রকল্পের এলাকা জলের তোড়ে ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাপক প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। তবে এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, নেপালের পর্যটন দফতর জানিয়েছে, অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। এঁদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়-সহ ২৯১ জন বিদেশি। নেপালের নাগরিক ৯৩ জন। অন্তত ২৬ জন পুলিশ কর্মীও নিখোঁজ। ১৭টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গিয়েছে একাধিক মোবাইল টাওয়ার। উত্তরগয়া গ্রামীণ পুরসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান চামেলি গুরুং জানান, স্যাফ্রুবেশি, বেত্রাবতী, মাইলুং, সল্লেতার, শান্তিবাজার, পাইরেবেসি, খালতি বস্তি, সোলে, ত্রিশুলি এবং বাত্তার-সহ প্রায় এক ডজন গ্রাম ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। ফলে বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা। বানের তোড়ে স্থানীয় হেলিপ্যাডটি ভেসে যাওয়ায় উদ্ধারে যাওয়া সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার জরুরি অবতরণ করতে পারেনি, ফলে উদ্ধারকাজ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এছাড়া বানের তোড়ে চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প-সহ (Chilime Hydropower Project) স্থানীয় বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে। ফলে পুরো জেলায় নেমে এসেছে অন্ধকার। যা বিপদের আশঙ্কা আরও বাড়াচ্ছে।

এদিকে, সীমান্তের ওপারে চিনের তিব্বতের গিয়রং (Gyirong) কাউন্টিতেও এই ভূমিধসের জেরে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। চিনের সরকারি বার্তা সংস্থা শিনহুয়া জানিয়েছে, রাস্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে সর্বাত্মক উদ্ধারকাজের নির্দেশ দিয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ (Balendra Shah) জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ ও সেনা বাহিনীকে নামানো হয়েছে। হড়পার জেরে নেপালের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দেশের মোট জলবিদ্যুৎ ক্ষমতার প্রায় ১২ শতাংশের বেশি। প্রশাসন সূত্রে খবর, ভোতে কোশি নদীর উৎপত্তি তিব্বতে, যা পরবর্তীতে নেপালের ত্রিশূলী নদীর সঙ্গে মিশে ভারতে গণ্ডক নদী হিসেবে প্রবেশ করেছে। গত বছরও একই নদীতে হড়পার জেরে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং ভারত-চিন সংযোগকারী মৈত্রী সেতু ভেসে গিয়েছিল। গ্লেসিয়ার লেক বা হিমবাহের হ্রদ ফেটে যাওয়ার ফলেই এই ধরনের বিপর্যয় ঘটছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। জলস্তর না কমা পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়ানোয় প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ বেড়েছে।

অপরদিকে, নেপালের এই প্রলয়ঙ্করী হড়পার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে ভারতীয় সীমান্তেও। নেপালের এই নদীগুলি ভারতে গণ্ডক নদী হিসেবে প্রবেশ করায়, বিহারের প্রশাসন সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিহারের মুখ্যসচিব প্রত্যয় অমৃত সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির প্রশাসনকে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe