Pak Occupied Kashmir Election: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) দীর্ঘদিনের বিক্ষোভ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সংঘর্ষের আবহেই শুরু হল তথাকথিত আইনসভার নির্বাচন। রবিবার প্রথম দফার ভোটগ্রহণের মাধ্যমে শুরু হয়েছে এই নির্বাচন, যা আগামী ১০ অগস্ট পর্যন্ত তিন দফায় চলবে। নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পাকিস্তান সরকার। ইতিমধ্যেই পঞ্জাব প্রদেশ থেকে প্রায় ১৪ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে পিওকের বিভিন্ন এলাকায়।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের তথাকথিত আইনসভায় মোট ৫৩টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫টি আসনে সরাসরি নির্বাচন হয়, বাকি আটটি আসন মহিলা, প্রযুক্তিবিদ ও ধর্মীয় প্রতিনিধিদের জন্য সংরক্ষিত। পিওকের নির্বাচন কমিশনার গুলাম মুস্তাফা মুঘলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জুলাই মিরপুর বিভাগের ১৩টি আসনে ভোট হচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় ২ অগস্ট মুজাফফরাবাদ বিভাগের ৯টি আসন এবং শরণার্থী কোটা-সংক্রান্ত ১২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। শেষ দফার ভোট হবে ১০ অগস্ট, পুঞ্চ বিভাগের ১১টি আসনে।
নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মোতায়েন করা ১৪ হাজার পুলিশকর্মীর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ আগ্নেয়াস্ত্র বহন করছেন, আর বাকি ৭০ শতাংশকে দাঙ্গা মোকাবিলার বিশেষ সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, ভোট চলাকালীন নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
গত প্রায় দুই মাস ধরে পিওকে জুড়ে যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-র নেতৃত্বে তীব্র আন্দোলন চলেছে। সংগঠনটির মূল দাবি ছিল শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিল করা। ১৯৪৭ সালের পর পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বসবাস শুরু করা শরণার্থীদের জন্য এই আসনগুলি সংরক্ষিত ছিল। আন্দোলন ঘিরে একাধিক এলাকায় হিংসার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তারক্ষী মিলিয়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত মাসেই জেএএসি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ইসলামাবাদ।
রাজনৈতিক দিক থেকেও এবারের নির্বাচন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কেন্দ্রীয় সরকারের শরিক হলেও পিওকের নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ছে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। অন্যদিকে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এই নির্বাচন বয়কট করেছে। ফলে নির্বাচনের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
{{/usCountry}}রাজনৈতিক দিক থেকেও এবারের নির্বাচন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কেন্দ্রীয় সরকারের শরিক হলেও পিওকের নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ছে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। অন্যদিকে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এই নির্বাচন বয়কট করেছে। ফলে নির্বাচনের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
{{/usCountry}}এদিকে, পিওকে নিয়ে ভারতের অবস্থান আগের মতোই স্পষ্ট। নয়াদিল্লির দাবি, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখের সমগ্র অঞ্চলই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তার অন্তর্ভুক্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীরও। ভারতের অভিযোগ, ওই অঞ্চল পাকিস্তান বেআইনিভাবে এবং জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। সম্প্রতি পিওকের আন্দোলন প্রসঙ্গে ভারত সরকার জানিয়েছিল, সেখানে জনগণের বিক্ষোভ পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ব্যর্থতা, শোষণ এবং দমননীতিরই ফল। পাশাপাশি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি পুলিশের বলপ্রয়োগ ও দমন-পীড়নেরও কড়া সমালোচনা করেছে নয়াদিল্লি।