আফগানিস্তানের সঙ্গে ফের সংঘাতে জড়াল পাকিস্তান। সীমান্তের গুলিস্তান এলাকায় আফগান তালিবান বাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানি নিরাপত্তারক্ষীদের গুলির লড়াই হয়েছে বলে দাবি ইসলামাবাদের। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, আফগান দিক থেকে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই চেষ্টা রুখে দিয়ে পাল্টা অভিযানে একাধিক আফগান তালিবান সদস্য নিহত হয়েছে। তবে হামলার সঠিক উদ্দেশ্য বা নিহতের সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। আফগান তালিবানের তরফেও তাৎক্ষণিক ভাবে এই অভিযোগের কোনও জবাব দেওয়া হয়নি।

এই ঘটনার মধ্যেই দুই দেশের সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কয়েক মাস তুলনামূলক শান্ত থাকার পর ফের মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান। পাকিস্তানের দাবি, আফগান ভূখণ্ড থেকে সীমান্ত পেরিয়ে হামলার চেষ্টা এবং ড্রোন হামলার মতো ঘটনা বাড়ছে। অন্য দিকে, তালিবান সরকার বরাবরই পাকিস্তানের এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। তাদের বক্তব্য, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ জঙ্গি সমস্যা সামাল দেওয়ার দায় আফগানিস্তানের নয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলা ঘিরে। বৃহস্পতিবার পাকিস্তান জানিয়েছে, আফগানিস্তানের ১০টি জায়গায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, ওই এলাকাগুলি থেকে ড্রোন উড়ানো এবং ড্রোন সংরক্ষণের কাজ চলছিল। পাকিস্তানের বক্তব্য, সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাব হিসাবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
তবে পাকিস্তানের এই দাবি নিয়ে আফগানিস্তানের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। আফগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিমান হামলায় সাধারণ মানুষেরও মৃত্যু হয়েছে। জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশনও তিন জন বেসামরিকের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে এক জন পুরুষ, এক জন মহিলা এবং একটি কিশোরী ছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে জঙ্গি দমনের নামে পাকিস্তানের বিমান হামলায় সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বরও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তান বিমান হামলা চালিয়েছিল। ইসলামাবাদ দাবি করেছিল, সেই অভিযানে ২৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। কিন্তু আফগান তালিবান এবং রাষ্ট্রসংঘের তরফে জানানো হয়, ওই হামলায় অন্তত তিন জন বেসামরিকের মৃত্যু হয়েছে। দুই পক্ষের বক্তব্যে এই ফারাকই পরিস্থিতির জটিলতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
{{/usCountry}}এর আগে ২১ সেপ্টেম্বরও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তান বিমান হামলা চালিয়েছিল। ইসলামাবাদ দাবি করেছিল, সেই অভিযানে ২৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। কিন্তু আফগান তালিবান এবং রাষ্ট্রসংঘের তরফে জানানো হয়, ওই হামলায় অন্তত তিন জন বেসামরিকের মৃত্যু হয়েছে। দুই পক্ষের বক্তব্যে এই ফারাকই পরিস্থিতির জটিলতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
{{/usCountry}}এরই মধ্যে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি পুলিশ কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। ওই ঘটনায় অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হন। পাকিস্তান এই ধরনের হামলার নেপথ্যে আফগানিস্তানে থাকা জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির যোগ থাকার অভিযোগ তুলেছে। তবে আফগান তালিবান সরকার বরাবরই তাদের ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানবিরোধী হামলায় মদত দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ফলে গুলিস্তানের সর্বশেষ সংঘর্ষ শুধু সীমান্তের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দুই দেশের দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগেরই নতুন প্রকাশ। এক দিকে পাকিস্তান সীমান্ত পারের জঙ্গি হামলার জবাব দেওয়ার কথা বলছে, অন্য দিকে আফগানিস্তান পাকিস্তানের বিমান হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত বলে দেখছে। দু’দেশের মধ্যে শান্তি ফেরানোর জন্য চিন, তুরস্ক, কাতার এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলি মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সেই উদ্যোগও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।