ইরান যুদ্ধ বন্ধ করার উপায় নিয়ে রবিবার পাকিস্তানে আলোচনা করেছে তুরস্ক, মিশর ও সৌদি আরব। সূত্র উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে নানা প্রস্তাব নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে এই দেশগুলির মধ্যে। উল্লেখ্য, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। এই আবহে ইসলামাবাদে মুসলিম দেশগুলির আলোচনা হয়। এই বৈঠক শেষে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর বিদেশমন্ত্রীরা দ্রুত ও স্থায়ীভাবে এই অঞ্চলে যুদ্ধ শেষ করার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এদিকে এই বৈঠকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। এই বৈঠকের আগে মিশর, তুরস্ক এবং সৌদির বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষীয় বৈঠকও করেন ইসহাক দার।

ইসহাক দার বলেন, সব পক্ষই পাকিস্তানের ভূমিকার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে এবং চিন এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, পাকিস্তানে বৈঠক করা দেশগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত কিছু প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে সুয়েজ খালের মতো ফি কাঠামোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাকিস্তানি সূত্রের মতে, তুরস্ক, মিশর এবং সৌদি আরব এই জলপথের মাধ্যমে তেলের প্রবাহ পরিচালনা করার জন্য একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করতে পারে। সেই কনসোর্টিয়ামে নাকি পাকিস্তানকে যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। যদিও ইসলামাবাদ বলেছে যে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই কনসোর্টিয়ামে যোগ দেবে না।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তুরস্কের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, আঙ্কারার অগ্রাধিকার ছিল যুদ্ধবিরতি। সূত্রটি বলেছে, জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সবপক্ষের মধ্যে আস্থা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে রবিবার ইসহাক দার তুর্কি ও মিশরীয় রাষ্ট্রপতিদের সঙ্গেও পৃথকভাবে আলোচনা করেছিলেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স'-এ পোস্ট করে দাবি করেন যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাকিস্তানি পতাকাবাহী আরও ২০টি জাহাজকে যাওয়ার অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে ইরান। যদিও ইসলামাবাদের এই বৈঠকের পরও আমেরিকা এবং ইরানের সংঘাত থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।