Tulsi Gabbard on Pakistan: পাকিস্তানই আমেরিকার সবথেকে বড় পারমাণবিক 'বিপদ'! বিস্ফোরক ট্রাম্প-সমর্থক তুলসির

তুলসি গ্যাবার্ডের মতে, পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র আমেরিকার জন্য সবথেকে বড় বিপদ। কেন এমন দাবি করলেন ট্রাম্প সমর্থক এই নেত্রী? পড়ুন বিস্তারিত প্রতিবেদন। আর সেই মন্তব্যে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত হল বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Published on: Mar 18, 2026, 21:51:23 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও বিশ্ব নিরাপত্তা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন মার্কিন রাজনীতিক এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক তুলসি গ্যাবার্ড। তাঁর মতে, আমেরিকার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে সবথেকে বড় পারমাণবিক ‘বিপদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান। গ্যাবার্ডের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে, বিশেষ করে আমেরিকা ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক অন্দরমহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তুলসি গ্যাবার্ড। (ফাইল ছবি, সৌজন্যে পিটিআই)
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তুলসি গ্যাবার্ড। (ফাইল ছবি, সৌজন্যে পিটিআই)

তুলসি গ্যাবার্ডের বিস্ফোরক মন্তব্য

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বা রাজনৈতিক আলোচনায় তুলসি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে পাকিস্তানের পারমাণবিক ভাণ্ডার এবং সেই দেশের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমেরিকার জন্য চরম উদ্বেগের কারণ। তিনি মনে করেন, পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র যদি কোনওভাবে চরমপন্থী বা জঙ্গি গোষ্ঠীর হাতে পড়ে, তবে তা কেবল আমেরিকার জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে। গ্যাবার্ডের এই আশঙ্কা অমূলক নয় বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

কেন পাকিস্তানকে ‘বিপজ্জনক’ মনে করছেন গ্যাবার্ড?

গ্যাবার্ডের বক্তব্যের পেছনে বেশ কিছু জোরালো যুক্তি কাজ করছে। প্রথমত, পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা। সেই দেশে সরকার ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে ক্ষমতার লড়াই এবং দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় থাকা একাধিক জঙ্গি সংগঠন। তুলসি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রাগারের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।

আরও পড়ুন: India slams Pakistan on Islamophobia: ইসলামোফোবিয়ার মনগড়া গল্প তৈরিতে পটু, রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের মুখোশ খুলল ভারত

ট্রাম্পের নীতি ও গ্যাবার্ডের অবস্থান

ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুগামী হিসেবে পরিচিত তুলসি গ্যাবার্ডের এই মন্তব্যকে অনেকেই ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ বিদেশনীতির একটি আগাম বার্তা হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্প তাঁর আগের শাসনকালে পাকিস্তানের প্রতি কঠোর মনোভাব পোষণ করেছিলেন এবং দেশটিকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সাহায্যও কমিয়ে দিয়েছিলেন। গ্যাবার্ডের এই সাম্প্রতিক সুর চড়ানো প্রমাণ করে যে, ট্রাম্প যদি পুনরায় ক্ষমতায় আসেন, তবে পাকিস্তানের প্রতি আমেরিকার নীতি আরও কঠোর হতে পারে।

আরও পড়ুন: Afghanistan Pakistan War Latest Update: রাতের অন্ধকারে কাবুলের হাসপাতালে এয়ারস্ট্রাইক পাকিস্তানের, নিহত অন্তত ৪০০

ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব

তুলসির এই মন্তব্যে ভারতের অবস্থান পরোক্ষভাবে শক্তিশালী হয়েছে। ভারত দীর্ঘকাল ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদে তাদের মদত নিয়ে সরব হয়েছে। তুলসির মতো একজন প্রভাবশালী মার্কিন ব্যক্তিত্ব যখন একই সুরে কথা বলেন, তখন তা পাকিস্তানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচি যে একটি বড় অন্তরায়, তা আবারও প্রমাণিত হল।

আরও পড়ুন: Pakistan bowler no-ball row: ‘ক্রিকেটের ইতিহাসে সবথেকে বড় নো-বল’, পাকিস্তানি বোলারের কীর্তিতে হতবাক দুনিয়া

বিশ্ব নিরাপত্তা ও আমেরিকার ভূমিকা

তুলসি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, আমেরিকার উচিত তাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। তিনি মনে করেন, বিগত বছরগুলোতে আমেরিকা পাকিস্তানের ওপর যে পরিমাণ বিশ্বাস বা বিনিয়োগ করেছে, তার সঠিক প্রতিদান মেলেনি। বরং পাকিস্তান দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করে বারবার আমেরিকার স্বার্থে আঘাত হেনেছে। গ্যাবার্ডের মতে, এখন সময় এসেছে পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে গুরুত্ব সহকারে বিচার করার এবং প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার।

  • Ayan Das
    ABOUT THE AUTHOR
    Ayan Das

    অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More