Pakistan Boeing Plane Missing: পাকিস্তানের করাচিগামী একটি কার্গো বিমান রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার পর বড়সড় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে সে দেশের প্রশাসন। পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (পিএএ) জানিয়েছে, বিমানটিকে খুঁজে বের করতে একাধিক সরকারি সংস্থা সমন্বিতভাবে অভিযান চালাচ্ছে। বিমান সংস্থা কে-টু এয়ারওয়েজও জানিয়েছে, তারা পাকিস্তান সিভিল এভিয়েশন অথরিটি এবং সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে।
বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'আমাদের সহকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করছি।' নিখোঁজ বিমানটিতে কতজন ছিলেন, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ৯টা ১৮ মিনিট (পাকিস্তান সময়) নাগাদ করাচির দিকে উড়ে আসার সময় বিমানটির নেভিগেশন ব্যবস্থায় সমস্যার কথা জানানো হয়। এরপর বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল) থেকে পাইলটকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিমানটির সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় বিমানটি করাচি থেকে প্রায় ১৫৫ নটিক্যাল মাইল বা প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থান করছিল। রাডারের তথ্য অনুযায়ী, যোগাযোগ হারানোর আগে বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা Flightradar24-এর তথ্য বলছে, বিমানটির শেষ কয়েক মিনিটের গতিবিধি ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক। প্রথমে এক মিনিটেরও কম সময়ে প্রায় ৫,০০০ ফুট নিচে নেমে আসে বিমানটি। এরপর মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে আবার প্রায় ৬,০০০ ফুট ওপরে ওঠে। কিন্তু তারপরই ৩৬,৫৫০ ফুট উচ্চতা থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভয়াবহ গতিতে নিচে নামতে শুরু করে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১,১০০ ফুট উচ্চতায় ছিল এবং প্রতি মিনিটে প্রায় ২২,৪০০ ফুট গতিতে নিচে নামছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত দ্রুত অবতরণ কোনও স্বাভাবিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয় না এবং এটি গুরুতর প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা অন্য কোনও বড় সমস্যার সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে।
{{/usCountry}}সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১,১০০ ফুট উচ্চতায় ছিল এবং প্রতি মিনিটে প্রায় ২২,৪০০ ফুট গতিতে নিচে নামছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত দ্রুত অবতরণ কোনও স্বাভাবিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয় না এবং এটি গুরুতর প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা অন্য কোনও বড় সমস্যার সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে।
{{/usCountry}}নিখোঁজ বিমানটি ছিল একটি বোয়িং ৭৩৭-৪০০ পণ্যবাহী উড়োজাহাজ। এটি বোয়িংয়ের জনপ্রিয় ৭৩৭ সিরিজের একটি পুরনো মডেল এবং সাম্প্রতিক বিতর্কিত ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের তুলনায় দুই প্রজন্ম আগের। বিমানটি সিএফএম ইন্টারন্যাশনালের তৈরি ইঞ্জিনে চালিত ছিল, যা মার্কিন সংস্থা জিই অ্যারোস্পেস এবং ফ্রান্সের সাফরানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি।
ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি প্রথম ১৯৯৯ সালে রাশিয়ার অ্যারোফ্লটের জন্য যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে পরিষেবায় যুক্ত হয়েছিল। পরে ২০১২ সালে সেটিকে মালবাহী বিমানে রূপান্তর করা হয়। ২০২৪ সালে কে-টু এয়ারওয়েজ বিমানটিকে নিজেদের বহরে যুক্ত করে। এটি ছিল সংস্থাটির একমাত্র বিমান। গত ২৮ জুনের পর থেকে বিমানটি আর কোনও উড়ান পরিচালনা করেনি। সর্বশেষ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজাহ থেকে করাচির উদ্দেশে উড়ে যাওয়ার সময়ই সেটি নিখোঁজ হয়। বিমানটির সন্ধানে সমুদ্র ও আকাশপথে জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত বিমানটির অবস্থান বা সম্ভাব্য দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্তকারীরা রাডারের তথ্য, ফ্লাইট ডেটা এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন।