সিন্ধু সভ্যতার (Indus Valley Civilisation) উত্তরাধিকার নিয়ে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক দাবিকে তীব্র ভাষায় খারিজ করে দিল ভারত। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, যে দেশ কয়েক দশক ধরে ধর্মীয় মৌলবাদকে উৎসাহ দিয়ে এসেছে, তারা কোনও বহুত্ববাদী সভ্যতার উত্তরাধিকার দাবি করতে পারে না। নয়াদিল্লির মতে, ইতিহাসকে রাজনৈতিক প্রচার বা ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে বদলে দেওয়া যায় না; একটি সভ্যতার পরিচয় নির্ধারিত হয় তার ধারাবাহিকতা, প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ এবং জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভিত্তিতে।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাকিস্তানের দাবি সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে বলেন, 'আমি বিষয়টি স্পষ্ট করে বলতে চাই। যে দেশ কয়েক দশক ধরে ধর্মীয় মৌলবাদকে প্রশ্রয় দিয়ে এসেছে, তারা কোনও বহুত্ববাদী ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার দাবি করতে পারে না। সংখ্যালঘুদের প্রতি তাদের আচরণের ইতিহাসই দেখিয়ে দেয়, এই ধরনের দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং তা কৃত্রিম বলেই মনে হয়।'
ভারতের বক্তব্য, সিন্ধু সভ্যতা ছিল বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন নগরসভ্যতা, যার ভিত্তি ছিল বহুত্ববাদ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং দীর্ঘ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। সেই ঐতিহ্যকে রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে নিজেদের বলে দাবি করলেই ইতিহাস বদলে যায় না। বরং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক রীতি এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে থাকা ঐতিহ্যই একটি সভ্যতার প্রকৃত পরিচয় বহন করে।
নয়াদিল্লির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান শুধু সিন্ধু সভ্যতাই নয়, সংস্কৃত ভাষা, ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য, শাড়ি, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, গয়না এবং ভারতের আরও নানা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নিজেদের বলে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তবে ভারতের মতে, এই ধরনের প্রচারমূলক উদ্যোগ বা রাজনৈতিক বার্তা ইতিহাসের প্রতিষ্ঠিত সত্যকে বদলাতে পারে না।
কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারতের এই প্রতিক্রিয়া শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক বিতর্কের জবাব নয়; বরং দেশের প্রাচীন সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থানও স্পষ্ট করেছে। ভারত মনে করে, হাজার হাজার বছরের নিরবচ্ছিন্ন সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা, সাহিত্য, দর্শন, ভাষা, শিল্পকলা এবং সামাজিক ঐতিহ্যই তার সভ্যতার ভিত্তি। সেই ঐতিহ্যের গ্রহণযোগ্যতার জন্য বাইরের কোনও স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই।
{{/usCountry}}কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারতের এই প্রতিক্রিয়া শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক বিতর্কের জবাব নয়; বরং দেশের প্রাচীন সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থানও স্পষ্ট করেছে। ভারত মনে করে, হাজার হাজার বছরের নিরবচ্ছিন্ন সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা, সাহিত্য, দর্শন, ভাষা, শিল্পকলা এবং সামাজিক ঐতিহ্যই তার সভ্যতার ভিত্তি। সেই ঐতিহ্যের গ্রহণযোগ্যতার জন্য বাইরের কোনও স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই।
{{/usCountry}}বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সভ্যতার উত্তরাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সীমারেখা বা বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না। ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা এবং গবেষণালব্ধ তথ্যই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই কোনও দেশের রাজনৈতিক প্রচারাভিযান বা সাংস্কৃতিক ব্র্যান্ডিং ইতিহাসের প্রতিষ্ঠিত তথ্যকে বদলে দিতে পারে না।
ভারতের বার্তা স্পষ্ট—দেশের সভ্যতাগত উত্তরাধিকার হাজার বছরের ইতিহাস, প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ এবং আজও জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। তাই ইতিহাস পুনর্লিখনের যে কোনও প্রচেষ্টা বাস্তবতাকে বদলাতে পারে না। নয়াদিল্লির মতে, ভারতের সভ্যতার শক্তি তার দীর্ঘ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায়, আর সেই উত্তরাধিকার কোনও রাজনৈতিক প্রচারণার মাধ্যমে অর্জন বা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।