পাকিস্তানের লাহোর থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে নারোয়াল জেলা। সেখানে সিরাজ গ্রাম। এই গ্রামেই ১০০০ স্কোয়ার কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন মন্দির। সেই মন্দির সদ্য ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। সরব হয়েছে, পাকিস্তান মহিসা মিল্লাত পার্টি, কয়েকজন স্থানীয় ও কয়েকজন হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য। এই মন্দির ভাঙা নিয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রক সরব হতেই পাল্টা নিজেদের মতো করে যুক্তি সাজাতে শুরু করেছে শেহবাজ শরিফের পাকিস্তান।

অভিযোগ, পাকিস্তানে নিষিদ্ধ কট্টরপন্থী সংগঠন তেহরিক-এ-লাব্বিয়াক, ওই প্রাচীন হিন্দু মন্দিরের জায়গা দখল করতে চাইছে। তারা তাদের কোনও কাজে তা লাগাতে চায়। পাকিস্তানে এই মন্দির ভাঙার অভিযোগের ঘটনায় সদ্য সরব হয় ভারত। ভারতের তরফে বিদেশমন্ত্রকের তরফে তুমুল সমালোচনা উঠে এসেছে পাকিস্তানে এই মন্দির ভাঙার ঘটনার। দিল্লি সাফ বলেছে, ঘটনার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত করা হোক। পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে মন্দিরটি পুনরুদ্ধার বা পুনর্নির্মাণের জন্য অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছে নয়াদিল্লি। দিল্লি সাফ বলেছে, এই ঘটনা পাকিস্তানে চলা সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারকে মনে করাচ্ছে।
এরপর পাকিস্তানের পিঠ বাঁচানোর খেলা শুরু হয়েছে! পাকিস্তানের দাবি, সেদেশে এই মন্দির ভাঙা হয়নি, বরং বৃষ্টিতে এই মন্দির ভেঙে গিয়েছে। তবে তথ্য বলছে, পাকিস্তানের এই দাবির নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু ফাঁকফোকড়। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র সজ্জাদ হায়দর খান দাবি করেছেন, ওই মন্দির গত ২১ জুলাই বৃষ্টির জেরে ভেঙে গিয়েছে। এদিকে, মন্দির ভাঙার ঘটনার অভিযোগ ওঠে ২১ আগস্টে। ফলত, পাকিস্তানের সরকার যে তারিখে মন্দির ভাঙার ঘটনার দাবি করছে, তার ঠিক একমাস পরে মন্দির ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ। ভারত, ও পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন এই মন্দির ভাঙা নিয়ে সরব হতেই, পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানায়, ‘ভারতের ছড়ানো মিথ্যা প্রচারণার বিপরীতে, ২১ জুলাই প্রবল বর্ষণের ফলে মন্দিরটির কাঠামোর ক্ষতি হয়েছিল।’ পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক আরও বলছে, ‘স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই বৃষ্টিজনিত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেছে এবং ভবনটি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’তবে পাকিস্তান বলছে, ‘তাই এটি লজ্জাজনক যে, ভারত তথ্য বিকৃত করছে এবং সস্তা কৌশল অবলম্বন করছে।’ ১০০ থেকে ১২৫ বছরের সেই পুরনো মন্দির কেন এতকালেও পাকিস্তান রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারেনি, সেই প্রশ্নের জবাব যদিও ইসলামাবাদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি!