...
...
Next Story

Pakistan Drone Smuggling Attempt: পাকিস্তান থেকে ড্রোনে পাচার! রাজস্থানে মিলল ৭.৭৫ কেজি আরডিএক্স, বোমা ও পিস্তল

ঘটনাটি ১২ অক্টোবর রাত থেকে ১৩ অক্টোবর ভোরের মধ্যে। শ্রীগঙ্গানগর জেলার রাওলা এলাকার ১২ কেডি গ্রামের কাছে একটি মাঠে পর পর তিনটি ড্রোন থেকে প্যাকেট ফেলা হয় বলে অভিযোগ। এলাকাটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে।

Published on: Oct 15, 2026, 11:35:09 IST
Advertisement

সীমান্তের ওপার থেকে ড্রোনে করে মাদক পাচার হচ্ছে বলে সন্দেহ পুলিশের। সেই সূত্র ধরেই চলছিল নজরদারি। কিন্তু তল্লাশি চালিয়ে যা মিলল, তাতে চোখ কপালে তদন্তকারীদের। মাদকের বদলে উদ্ধার হল বিস্ফোরক, তৈরি আইইডি, পিস্তল এবং কয়েকশো কার্তুজ। গোটা চালানটি পাকিস্তান থেকে ড্রোনের মাধ্যমে ভারতে পাঠানো হয়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগর জেলার ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের কাছে এই ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন পঞ্জাবের দুই যুবক। তাঁদের জেরা করে আরও বড় কোনও জঙ্গি নেটওয়ার্কের সন্ধান মেলে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, আসন্ন উৎসবের মরসুমে অথবা পঞ্জাবের নির্বাচনের আগে বড়সড় নাশকতার ছক কষা হয়ে থাকতে পারে। তবে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য এখনও চিহ্নিত করা যায়নি।

তিন ড্রোনে বিস্ফোরকের চালান

সীমান্তের ওপার থেকে ড্রোনে করে মাদক পাচার হচ্ছে বলে সন্দেহ পুলিশের
সীমান্তের ওপার থেকে ড্রোনে করে মাদক পাচার হচ্ছে বলে সন্দেহ পুলিশের

ঘটনাটি ১২ অক্টোবর রাত থেকে ১৩ অক্টোবর ভোরের মধ্যে। শ্রীগঙ্গানগর জেলার রাওলা এলাকার ১২ কেডি গ্রামের কাছে একটি মাঠে পর পর তিনটি ড্রোন থেকে প্যাকেট ফেলা হয় বলে অভিযোগ। এলাকাটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে। ড্রোনগুলি পাকিস্তানের ভিতরে প্রায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের জায়গা থেকে উড়ে এসেছিল বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান তদন্তকারীদের।

আগে থেকেই ওই এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছিল রাজস্থান পুলিশের অ্যান্টি নারকোটিক্স টাস্ক ফোর্স বা এএনটিএফ। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে মাঠ থেকে প্যাকেটগুলি সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন দুই যুবক। সেই সময়ই তাঁদের ধরে ফেলেন টাস্ক ফোর্সের কর্মীরা।

ধৃতদের নাম লাখবিন্দর এবং সুখবিন্দর। দু’জনেরই বয়স প্রায় ১৯ বছর। লাখবিন্দর ফিরোজপুরের বাসিন্দা। তাঁর আত্মীয় সুখবিন্দরের বাড়ি জলন্ধরে। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁরা প্রায় এক মাস ধরে ওই এলাকায় কৃষিশ্রমিকের পরিচয়ে থাকছিলেন। পাশাপাশি সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলির গতিবিধির উপরেও নজর রাখছিলেন বলে সন্দেহ।

প্যাকেটে ৭.৭৫ কেজি আরডিএক্স

রাজস্থান এএনটিএফের আইজি বিকাশ কুমার জানিয়েছেন, বোমাগুলি প্রায় প্রস্তুত অবস্থায় ছিল। বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সার্কিটগুলি যুক্ত করলেই সেগুলি সক্রিয় করা যেত বলে দাবি তাঁর। বিস্ফোরকের সঙ্গে ধাতব টুকরোও রাখা হয়েছিল। বিপদের গুরুত্ব বুঝে বিশেষ বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ডেকে পাঠানো হয়।

প্যাকেটগুলি এমন ভাবে মোড়া ছিল, যাতে সহজে শনাক্ত করা না যায়। একাধিক স্তরের আবরণ থাকায় প্রশিক্ষিত কুকুরের পক্ষেও বিস্ফোরকের গন্ধ পাওয়া কঠিন হতে পারত বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

পঞ্জাবের থানায় গ্রেনেড হামলার যোগ?

তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র সামনে এসেছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর পঞ্জাবের ফাজিলকা জেলার জলালাবাদ থানায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায়ও ওই দুই যুবককে খুঁজছিল পুলিশ। ফলে দুটি ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতেরা আরএস নামে এক আত্মীয়ের নির্দেশে বিস্ফোরকের চালান সংগ্রহ করতে এসেছিলেন। সীমান্তের ওপারে থাকা উমর চাচা, ডুঙ্গার চাচা এবং শাহ পাঠান নামে তিন ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ছিল বলেও সন্দেহ। সমাজমাধ্যম এবং সম্মেলন কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হত বলে জানা গিয়েছে। তবে ওই ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভূমিকা এখনও সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয়।

জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ এবং রাজস্থান পুলিশের সন্ত্রাসদমন শাখা তদন্তে যোগ দিয়েছে। বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন, অস্ত্র আইন এবং বিস্ফোরক সংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, মাদক পাচারের সূত্র ধরে বড়সড় নাশকতার সম্ভাব্য ছক সামনে এসেছে রাজস্থানে। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক কোথায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল, কারা এর পিছনে রয়েছে এবং পঞ্জাবের গ্রেনেড হামলার সঙ্গে এর যোগ কতটা, এখন সেই উত্তরই খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks