Pakistan Health Sector Update: পাকিস্তানের স্বাস্থ্যব্যবস্থার গভীর সংকট ফের প্রকাশ্যে এল রাজধানী ইসলামাবাদে। সরকারি হাসপাতালগুলিতে ভেন্টিলেটরের তীব্র অভাবের কারণে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সময়মতো চিকিৎসা মিলছে না। আইসিইউ-র প্রায় সমস্ত ভেন্টিলেটর সবসময়ই ভর্তি থাকায় নতুন রোগীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সেই অপেক্ষার মধ্যেই অনেক রোগীর মৃত্যু হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রবীণ সাংবাদিক আবিদ রজা কাজমির মৃত্যুর পর এই সংকট আবারও জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর আবিদ রজা কাজমিকে ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিমস)-এ ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখার পরামর্শ দেন। কিন্তু হাসপাতালে তখন আইসিইউ-র ১২টি ভেন্টিলেটরই অন্য রোগীদের দখলে ছিল। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিলেও তার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পাকিস্তানের সংবাদপত্র ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদের দুটি বৃহত্তম সরকারি হাসপাতাল—পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিমস) এবং পলিক্লিনিক হাসপাতাল—দুটিই ভেন্টিলেটর সংকটে ভুগছে। পিমসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. রানা ইমরান সিকান্দার জানিয়েছেন, হাসপাতালের বিভিন্ন আইসিইউ-তে ৯০টিরও বেশি ভেন্টিলেটর থাকলেও প্রায় সবসময়ই সেগুলি ব্যবহৃত অবস্থায় থাকে। ফলে জরুরি ভিত্তিতে নতুন রোগীদের ভেন্টিলেটর দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে পলিক্লিনিক হাসপাতালের মুখপাত্র ড. আবদুল জব্বার ভুট্টো জানিয়েছেন, তাঁদের হাসপাতালে থাকা ৩৫টি ভেন্টিলেটরও সারাক্ষণ রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। কোনও ভেন্টিলেটর খালি না থাকায় বহু সংকটজনক রোগীকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে অথবা অন্য হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না।
{{/usCountry}}অন্যদিকে পলিক্লিনিক হাসপাতালের মুখপাত্র ড. আবদুল জব্বার ভুট্টো জানিয়েছেন, তাঁদের হাসপাতালে থাকা ৩৫টি ভেন্টিলেটরও সারাক্ষণ রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। কোনও ভেন্টিলেটর খালি না থাকায় বহু সংকটজনক রোগীকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে অথবা অন্য হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না।
{{/usCountry}}স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে, এই পরিস্থিতির পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। পিমস হাসপাতালটি নির্মিত হয়েছিল এমন সময়ে, যখন ইসলামাবাদের জনসংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচ লক্ষের কাছাকাছি। বর্তমানে এই হাসপাতালকে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় পরিকাঠামো, শয্যাসংখ্যা, আইসিইউ সুবিধা এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের পর্যাপ্ত সম্প্রসারণ হয়নি।
এছাড়া বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। আইসিইউ-তে চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন প্রায় তিন লক্ষ পাকিস্তানি রুপি পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এই বিপুল ব্যয় বহন করা অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীরাও বাধ্য হয়ে সরকারি হাসপাতালের উপর নির্ভর করছেন, যার ফলে সেখানে চাপ আরও বাড়ছে।
চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, শুধু ভেন্টিলেটরের সংখ্যা বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। ভেন্টিলেটর পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স এবং প্যারামেডিক্যাল কর্মীরও তীব্র ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল ছাড়া অতিরিক্ত যন্ত্র বসিয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকাঠামো উন্নয়ন, জনবল নিয়োগ এবং সরকারি স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি না হলে পাকিস্তানের স্বাস্থ্যব্যবস্থার এই সংকট আগামী দিনে আরও গভীর হতে পারে।