...
...
Next Story

Pakistan's Lunar Mission: চাঁদের পথে পাকিস্তান, ২০২৯-এ প্রথম লুনার রোভার ‘Jinnah-1’! ভরসা চিন

‘Jinnah-1’ নামের এই রোভারটি চিনের সহযোগিতায় চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে পাঠানো হবে। পাকিস্তানের মহাকাশ সংস্থা SUPARCO জানিয়েছে, এই মিশনের মাধ্যমে চাঁদের পৃষ্ঠের ভূতত্ত্ব এবং ভবিষ্যৎ চন্দ্র গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

Published on: Aug 14, 2026, 13:51:03 IST
Advertisement

চন্দ্র অভিযানে এবার নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছে পাকিস্তান। ভারত চন্দ্রযান কর্মসূচির মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে একাধিক সাফল্য অর্জনের দুই দশকেরও বেশি সময় পর পাকিস্তান ২০২৯ সালে প্রথম চন্দ্রযান বা লুনার রোভার পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ‘Jinnah-1’ নামের এই রোভারটি চিনের সহযোগিতায় চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে পাঠানো হবে। পাকিস্তানের মহাকাশ সংস্থা SUPARCO জানিয়েছে, এই মিশনের মাধ্যমে চাঁদের পৃষ্ঠের ভূতত্ত্ব এবং ভবিষ্যৎ চন্দ্র গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

চন্দ্র অভিযানে এবার নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছে পাকিস্তান। (AFP)
চন্দ্র অভিযানে এবার নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছে পাকিস্তান। (AFP)

‘Jinnah-1’ স্বাধীনভাবে চাঁদের পথে রওনা দেবে না। এটি চিনের Chang’e-8 মিশনের অংশ হিসেবে চাঁদে পৌঁছবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৯ সালে চিনের ওই মিশনের সঙ্গে পাকিস্তানের রোভারটিও চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবে। এরপর দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাবে রোভারটি।

চাঁদের দক্ষিণ মেরু বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত দুর্গম এবং এখানে স্থায়ী ছায়ায় থাকা কিছু এলাকায় জলীয় বরফ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের ঘাঁটি তৈরি বা দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে এই জলীয় বরফ গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে। ফলে পাকিস্তানের প্রথম চন্দ্র মিশন এমন একটি অঞ্চলকে লক্ষ্য করছে, যেটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

ইসলামাবাদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘Jinnah-1’ নামটি ঘোষণা করে SUPARCO। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশজুড়ে একটি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রোভারের নাম চাওয়া হয়েছিল। সেখানে প্রায় ৪,০০০টি প্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে সাতজন একই নাম—‘Jinnah-1’—প্রস্তাব করেছিলেন। পরে লাকি ড্রয়ের মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।

রোভারটির মূল লক্ষ্য হবে চাঁদের পৃষ্ঠের ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানো। বিশেষ করে দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের পরিবেশ, মাটি ও শিলার গঠন এবং ভবিষ্যৎ চন্দ্র গবেষণার সম্ভাবনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবে ‘Jinnah-1’।

চিনের Chang’e-8 মিশনের সঙ্গে পাকিস্তানের সহযোগিতার ঘোষণা হয়েছিল ২০২৪ সালে। সেই সময় পাকিস্তান এটিকে দেশের মহাকাশ কর্মসূচির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছিল। এবার ২০২৯ সালের পরিকল্পিত উৎক্ষেপণের মাধ্যমে পাকিস্তান প্রথমবারের মতো চন্দ্রপৃষ্ঠে নিজস্ব রোভার পরিচালনার সুযোগ পাবে।

তবে এই মিশনের সঙ্গে ভারতের চন্দ্র অভিযানের তুলনাও স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসছে। ভারত ইতিমধ্যেই চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে সফল অবতরণ করে ঐতিহাসিক নজির তৈরি করেছে। চন্দ্রযান-৩-এর মাধ্যমে ভারত এই কঠিন অঞ্চলে সফলভাবে সফট ল্যান্ডিং করা বিশ্বের প্রথম দেশ হয়েছে। পাকিস্তানের Jinnah-1 মিশন সেই অর্থে ভারতের বহু বছরের মহাকাশ গবেষণার তুলনায় অনেক পরে শুরু হচ্ছে।

তার পরেও পাকিস্তানের জন্য এই মিশনের গুরুত্ব কম নয়। কারণ প্রথমবারের মতো চাঁদের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে দেশটি। এখন নজর ২০২৯ সালের দিকে—‘Jinnah-1’ সত্যিই চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছে সফলভাবে গবেষণা শুরু করতে পারে কি না, সেটাই হবে পাকিস্তানের মহাকাশ কর্মসূচির বড় পরীক্ষা।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe