একদিকে প্রতিবেশী ইরান যুদ্ধে লিপ্ত। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলছে পাকিস্তানের 'বন্ধু' আমেরিকার। আমেরিকা একা নয়, যুদ্ধে রয়েছে ইজরায়েলও। এই ইজয়ালের সঙ্গে আবার ইসলামাবাদের সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। ওদিকে, আবার, আফগানিস্তান সীমান্তে, ডুরান্ড লাইন নিয়ে বহুদিন ধরেই আফগানিস্তানের তালিবানের সঙ্গে পাকিস্তানের সংঘাত জারি রয়েছে। শুক্রবারও আফগানিস্তান দাবি করেছে, তারা পাকিস্তানে আঘাত হেনেছে। এরই মাঝে ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বে নানান পণ্যের সরবরাহ থমকে গিয়েছে। তারমধ্যে জ্বালানি একটি বড় বিষয়। তবে ইরান যুদ্ধের জেরে পাকিস্তানে মেডিসিনের সংকট দেখা দিয়েছে। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের রিপোর্ট এমনই দাবি করেছে।
ইরান, ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতের ফলে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে, যার ফলে পাকিস্তানের জীবনদায়ী ওষুধ, ওষুধের উপাদান আমদানির ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, এই পরিস্থিতি সাধারণ পাকিস্তানিদের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে যারা ইতিমধ্যেই উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং ব্যয়বহুল স্বাস্থ্যসেবার সাথে লড়াই করছেন। রিপোর্ট দাবি করছে, আর দেড় মাসের মতো ওষুধের কাঁচামালের সঞ্চয় পাকিস্তানের কাছে রয়েছে। রিপোর্চ বলছে, ক্যানসার ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় ভুগছেন এমন রোগীরা বিশেষভাবে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন যদি ঘাটতির কারণে দাম বৃদ্ধি পায় বা প্রাপ্যতা সীমিত হয়।
এছাড়াও শিশুদের জন্য তৈরি মেডিসিনও সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে পাকিস্তানে। সেদেশে বেবি ফর্মুলাও বিপুল পরিমাণে বাইরের দেশ থেকে আমদানি করা হয়। ফলত, সেই সেক্টরও বেশ চাপে রয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারীর সময়, বিশেষজ্ঞরা দেশটির স্থানীয়ভাবে সক্রিয় ওষুধ উপাদান তৈরির সীমিত ক্ষমতা সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন এবং সস্তা আমদানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করার ঝুঁকি তুলে ধরেছিলেন। তবে, প্রতিবেদন অনুসারে, স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতা জোরদার করার ক্ষেত্রে খুব কম অগ্রগতি হয়েছে, যার ফলে দেশটি বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে পাকিস্তান। আপাতত যুদ্ধের মাঝে এই বড় সংকট থেকে নিজেকে বাঁচাতে পাকিস্তান কোন পথে হাঁটে সেদিকে নজর সব মহলের।