যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল পাকিস্তান। তবে এবার এই যুদ্ধের মাঝে ইসলামাবাদের কার্যকলাপ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক এক মার্কিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান যখন দুই দেশের মধ্যে 'মধ্যস্থতাকারী হওয়ার ভান' করছিল, তখন নাকি তারা ইরানি সামরিক বিমান লুকিয়ে রেখেছিল নিজেদের বিমান ঘাঁটিতে। সম্ভাব্য মার্কিন বিমান হামলা থেকে রক্ষা করতেই নিজেদের দেশে ইরানি বিমান রাখার অনুমতি দিয়েছিল পাকিস্তান।

মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই ইরান তাদের অনেক বিমান পাকিস্তানের 'নূর খান এয়ারবেস'-এ নিয়ে যায়। সেই বিমানগুলির মধ্যে ইরানি বায়ুসেনার একটি আরসি-১৩০ বিমানও ছিল। এটি একটি গুপ্তচর বিমান। প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইসলামাবাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এই সংকটে পাকিস্তানের ভূমিকা পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে পাকিস্তানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানি কর্মকর্তা বলেন, নূর খান ঘাঁটি শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। ওই কর্মকর্তার মতে, সেখানে বিমানের বহর লুকিয়ে রাখা অসম্ভব। এদিকে সেই মার্কিন প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, যুদ্ধের সময় ইরান প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানেও তাদের বেসামরিক বিমান পাঠিয়েছিল। আফগান বেসামরিক বিমান চলাচলের এক কর্মকর্তার মতে, যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে মাহান এয়ারের একটি ইরানি বিমান কাবুলে অবতরণ করে এবং ইরানের আকাশসীমা বন্ধ থাকার পরে সেখানেই থেকে যায়। আফগান কর্মকর্তাদের মতে, পরে পাকিস্তান আফগানিস্তান আক্রমণ করলে বিমানটি ইরান সীমান্তের কাছে হেরাতে সরানো হয়। তবে তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এই অভিযোগকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন।