পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ফের উত্তেজনার আবহ। জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ২৭ সেপ্টেম্বর বড় মিছিলের ডাক দিয়েছে। সেই কর্মসূচির আগেই বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীর একাধিক প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় বসানো হয়েছে একের পর এক পণ্যবাহী কন্টেনার। মোতায়েন করা হচ্ছে হাজার হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী। সব মিলিয়ে রবিবারের কর্মসূচির আগে কার্যত দুর্গে পরিণত হচ্ছে ইসলামাবাদ।
পুলিশ সূত্রের খবর, রাজধানীতে প্রায় ১,০০০টি কন্টেনার এনে বিভিন্ন রাস্তা ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। ইসলামাবাদে ২২ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশের পঞ্জাব প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলিতেও অতিরিক্ত বাহিনী রাখা হচ্ছে। বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে খাইবার পাখতুনখোয়ার দিকের রাস্তাগুলিতে, কারণ ওই প্রদেশে পিটিআইয়ের সরকার রয়েছে এবং সেখান থেকেই বড় সংখ্যায় কর্মী-সমর্থক রাজধানীর দিকে আসতে পারেন।
শুধু পুলিশ মোতায়েন নয়, ইসলামাবাদে জমায়েতের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। প্রশাসন দুই মাসের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে। পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, সভা এবং বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ সংক্রান্ত আইনেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
পিটিআই অবশ্য কর্মসূচি থেকে সরে আসার কথা জানায়নি। দলটির ঘোষিত কর্মসূচির মূল দাবি ইমরান খানের মুক্তি। এর পাশাপাশি সংবিধানের মর্যাদা এবং আইনের শাসনের প্রশ্নও তারা সামনে আনছে। দলের চেয়ারম্যান গওহর খান সম্প্রতি আইনজীবীদের উদ্দেশে আন্দোলনে সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন। পিটিআইয়ের নতুন কৌশল কী হবে, তা শুক্রবার ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
এ দিকে মিছিলের আগে ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতার নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে লাহৌরে তাঁর বোন আলিমা খানকে ৩০ দিনের জন্য আটক করা হয়। তার পর তাঁর আরও দুই বোনকেও আটক করা হয়েছে বলে পিটিআই দাবি করেছে। প্রশাসনের তরফে এই আটকের আইনি ভিত্তি হিসাবে জনশান্তি রক্ষার আইন ব্যবহার করা হয়েছে।
{{/usCountry}}এ দিকে মিছিলের আগে ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতার নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে লাহৌরে তাঁর বোন আলিমা খানকে ৩০ দিনের জন্য আটক করা হয়। তার পর তাঁর আরও দুই বোনকেও আটক করা হয়েছে বলে পিটিআই দাবি করেছে। প্রশাসনের তরফে এই আটকের আইনি ভিত্তি হিসাবে জনশান্তি রক্ষার আইন ব্যবহার করা হয়েছে।
{{/usCountry}}পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে হাসপাতালগুলিকেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। ইসলামাবাদের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে সম্ভাব্য বড় সংখ্যায় আহতের চিকিৎসার জন্য শয্যা খালি রাখা এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কিছু রোগীর পূর্বনির্ধারিত অস্ত্রোপচার পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে।
অন্য দিকে, নিরাপত্তার জন্য কন্টেনার ব্যবহারে পরিবহণ ব্যবস্থাতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। পণ্যবাহী গাড়ির চালক ও কর্মীদের আটকে রাখার অভিযোগ তুলেছে অল পাকিস্তান গুডস অ্যালায়েন্স। তাদের দাবি, ইসলামাবাদ ও পঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২,৭০০টি গাড়ি আটক করা হয়েছে এবং তার মধ্যে ওষুধ, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য বহনকারী গাড়িও রয়েছে।
সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে সমঝোতার কোনও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। ডন-এর প্রতিবেদনে সরকারি ও রাজনৈতিক সূত্রের কথা উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ইমরান ও তাঁর স্ত্রীকে জেল থেকে অন্যত্র সরানো বা পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগের মতো কিছু ‘আস্থা তৈরির’ প্রস্তাব নিয়ে পর্দার আড়ালে কথা হয়েছে। তবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন কোনও প্রস্তাবের কথা অস্বীকার করেছেন।
ফলে রবিবারের মিছিল ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন, পিটিআই কী ভাবে রাজধানীতে পৌঁছবে এবং প্রশাসনের জারি করা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়। ইসলামাবাদের রাস্তায় কন্টেনারের প্রাচীর এবং বিপুল নিরাপত্তা মোতায়েন ইতিমধ্যেই বুঝিয়ে দিয়েছে, ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে ঘিরে পাকিস্তান সরকার কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না।