২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক সংঘাত পাকিস্তানের সামনে নতুন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। একটি মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ওই সংঘর্ষের পর পাকিস্তান বুঝতে শুরু করেছে, শুধু পরমাণু অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভারতকে সবসময় ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই পাকিস্তানের সামরিক কৌশলে এখন প্রচলিত অস্ত্র এবং সেনাশক্তির গুরুত্ব বাড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। এর জবাবে ভারত অপারেশন সিঁদুর শুরু করে। পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি পরিকাঠামোয় হামলা চালায় ভারত। এরপর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়। এই সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা কী ছিল, তা নিয়েই আলোচনা চলছে। রিপোর্টের দাবি, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র ভারতকে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারেনি। একইসঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পরও ইসলামাবাদকে কোনও দ্রুত ও নির্ণায়ক সুবিধা এনে দিতে পারেনি।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে পরমাণু অস্ত্রের গুরুত্ব কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর একটি উদাহরণ হিসেবে ২০২৬ সালে পাকিস্তানের সরকারি প্রচারের ধরন তুলে ধরা হয়েছে। মে মাসে ২০২৫ সালের সংঘাতের প্রথম বর্ষপূর্তি ‘মার্কা-এ-হক’ নামে পালিত হয়। সেখানে পাকিস্তানের সামরিক সাফল্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ১৯৯৮ সালের পরমাণু পরীক্ষার স্মরণে ‘ইয়ৌম-এ-তাকবির’ এবার তুলনামূলক ভাবে কম গুরুত্ব পেয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি।
ইসলামাবাদের বিভিন্ন প্রচারমূলক পোস্টার ও হোর্ডিংয়েও নাকি এই পরিবর্তন দেখা গেছে। সেখানে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে সেনা, সামরিক নেতৃত্ব এবং যুদ্ধক্ষেত্রের সাফল্যকে বেশি তুলে ধরা হয়েছে। এর পেছনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক স্বার্থও কাজ করতে পারে বলে রিপোর্টের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর জনপ্রিয়তা ও ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই পরিস্থিতিতে পরমাণু শক্তির প্রচারের চেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের সাফল্য দেখানো জনমত তৈরিতে বেশি কার্যকর হতে পারে।
{{/usCountry}}ইসলামাবাদের বিভিন্ন প্রচারমূলক পোস্টার ও হোর্ডিংয়েও নাকি এই পরিবর্তন দেখা গেছে। সেখানে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে সেনা, সামরিক নেতৃত্ব এবং যুদ্ধক্ষেত্রের সাফল্যকে বেশি তুলে ধরা হয়েছে। এর পেছনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক স্বার্থও কাজ করতে পারে বলে রিপোর্টের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর জনপ্রিয়তা ও ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই পরিস্থিতিতে পরমাণু শক্তির প্রচারের চেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের সাফল্য দেখানো জনমত তৈরিতে বেশি কার্যকর হতে পারে।
{{/usCountry}}এদিকে পাকিস্তান প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াচ্ছে। নতুন আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ড তৈরির মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রচলিত অস্ত্রের দিকে বাড়তি জোর দেওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
রিপোর্টে পাকিস্তানের ‘ফুল-স্পেকট্রাম ডিটারেন্স’ নীতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই নীতির মূল ধারণা ছিল, পরমাণু অস্ত্রের ভয় ভারতকে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখবে। কিন্তু ২০২৫ সালের সংঘাত সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আরও একটি বড় সমস্যা উঠে এসেছে। পাকিস্তান যদি সাধারণ অস্ত্র দিয়ে পাল্টা হামলা চালায়, ভারত সেটিকে বড় ধরনের বা পরমাণু হামলার প্রস্তুতি হিসেবে ভুল বুঝতে পারে। এই আশঙ্কা সংকটকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। মে ২০২৫-এর সংঘাতের সময় পাকিস্তানের পরমাণু কমান্ড কাঠামো নিয়ে আলোচনাও প্রকাশ্যে আসে। এতে বোঝা যায়, পরিস্থিতি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক হস্তক্ষেপে সংঘাত থামে।
সব মিলিয়ে রিপোর্টের মূল বার্তা হল, পরমাণু অস্ত্র কোনও দেশের নিরাপত্তার সব সমস্যার সমাধান নয়। বরং ভুল বোঝাবুঝি, সামরিক চাপ এবং বড় সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা তাই ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে।