PoK Leader Message to India: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) চলতে থাকা অশান্তির মধ্যে ভারতের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানালেন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) নেতা সর্দার অমন খান। তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভ দমনে পাকিস্তান প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের ফলে ওই অঞ্চলে কার্যত অর্থনৈতিক অবরোধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খাদ্য, ওষুধ-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) খুলে দেওয়ার এবং ভারতের তরফে মানবিক সাহায্য পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে সর্দার অমন খানকে বলতে শোনা যায়, পিওকের সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। তাঁর দাবি, খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই ভারতের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন তাঁরা। তাঁর কথায়, 'আমাদের ভারতের সাহায্য প্রয়োজন। খাদ্যসামগ্রীর অভাব রয়েছে। আমাদের পাশে দাঁড়ান।'
রাওয়ালাকোটের ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমন খান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, তাঁরা কি নিয়ন্ত্রণরেখার দিকে এগোতে চান? জবাবে জনতার একাংশ সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দেন। তিনি আরও বলেন, যদি মানুষের ন্যায্য দাবির জবাবে গুলি চালানো হয়, তবে আন্দোলনকারীদের সামনে অন্য পথও খোলা থাকবে।
জেএএসি নেতার দাবি, পাকিস্তান প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে পিওকের সাধারণ মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পুঞ্চ ও ডোডা সেক্টরের এলওসি খুলে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সাধারণ মানুষের যেন ভারতে আসার সুযোগ থাকে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। প্রথমে স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্কার এবং জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও, পরে তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। বিভিন্ন বিক্ষোভে ‘পিওকে পাকিস্তানের অংশ নয়’ এবং ‘আমরা স্বাধীনতা চাই’—এই ধরনের স্লোগানও শোনা গিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
{{/usCountry}}গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। প্রথমে স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্কার এবং জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও, পরে তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। বিভিন্ন বিক্ষোভে ‘পিওকে পাকিস্তানের অংশ নয়’ এবং ‘আমরা স্বাধীনতা চাই’—এই ধরনের স্লোগানও শোনা গিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
{{/usCountry}}বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পিওকের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে স্পষ্ট করে তুলেছে। তাঁদের দাবি, ওই অঞ্চলের প্রশাসনের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত এবং ইসলামাবাদের উপর নির্ভরশীল। ফলে স্থানীয় মানুষের অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে।
এদিকে, গত ৫ জুন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পাকিস্তান সরকার। সংগঠনটিকে ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করার পর থেকেই নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার হয়েছে বলে অভিযোগ। জেএএসি-র দাবি, এই অভিযানের ফলে বহু মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।
তবে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে পৃথকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। একইভাবে, খাদ্য ও ওষুধের সংকট বা অর্থনৈতিক অবরোধের দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে পিওকের পরিস্থিতি ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে নজর রাখা হচ্ছে।