ইরান যুদ্ধের আবহে পাকিস্তানে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানবাসীদের পেট্রোল ও ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানির ব্যবহার সীমিত আকারে করার জন্য বলেছে শেহবাজ শরিফের সরকার। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের পেট্রোল খরচও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সব সরকারি অফিসকে চারদিন খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া যেসব বিভাগে সম্ভব, সেখানে ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। পাকিস্তান সরকার আশঙ্কা করছে, তেল আমদানি কম হওয়ায় ভবিষ্যতে সংকট দেখা দিয়েছে। ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হলে আগামী দিনে সংকট আরও গভীর হতে পারে।
পাক সংবাদপত্র ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার প্রদেশগুলোকে পেট্রোলিয়ামের দাম কমানোর নির্দেশ দিয়েছে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা বিভাগও সব পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। সারাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে আইবিকে। এছাড়া পেট্রোল ও ডিজেল যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করার জন্য জনগণকে নির্দেশ দিয়েছে শেহবাজ সরকার। শেহবাজ শরিফ বলেন, যেকোনও পরিস্থিতির জন্য দেশকে প্রস্তুত থাকতে হবে। লোকজনকে গাড়ি 'পুলিং' করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৮ ডলারে পৌঁছেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। এদিকে গত ১৮ মার্চ কাতারে ইরানের হামলার পর থেকেই ভারতের মতো দেশে রান্নার গ্যাস (এলপিজি) ও প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) গভীর সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ ভারত নিজেদের মোট এলএনজি চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ (বার্ষিক প্রায় ২৭ মিলিয়ন টন) কেবল কাতার থেকে আমদানি করা হয়। এর আগে সম্প্রতি ইরানের 'পারস গ্যাস ক্ষেত্রে' ইজরায়েল হামলা চালিয়েছিল। এরই প্রতিশোধ নিতে কাতারে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এছাড়া সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতেও (ইউএই) হামলা চালিয়েছে ইরান। এর আগেই ইরান সৌদি, আমিরাতি এবং কাতারি নাগরিকদের তেল ও গ্যাস স্থাপনার এলাকা থেকে সরে যেতে বলে। এই সব পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হামালা চালানো হবে বলে আগম বার্তা দেয় ইরান। এই আবহে কাতারের মেসাইদ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স ও রাস লাফান শোধনাগার, সৌদি আরবের জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হোসন গ্যাস ক্ষেত্রে উড়ে যায় ইরানি মিসাইল।