অপারেশন সিঁদুর নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল পাকিস্তান। ভারতীয় সেনার অভিযানের নানা দিক তুলে ধরা এই তথ্যচিত্র প্রকাশ্যে আসার পর গভীর রাতে বিবৃতি দিয়েছেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ।

ডিসকভারি চ্যানেলের তথ্যচিত্রটির নাম ‘Declassified: Operation Sindoor’। ১৫ অগস্ট এটি সম্প্রচারিত হয়েছে। দুই পর্বের এই তথ্যচিত্রে ভারতের সামরিক নেতৃত্ব, অভিযানে যুক্ত আধিকারিক, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং সাংবাদিকদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তথ্যচিত্রটি অপারেশন সিঁদুরের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে ৮৮ ঘণ্টার সামরিক অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে।
এই তথ্যচিত্র নিয়েই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আহমেদ শরিফ। মঙ্গলবার গভীর রাতে সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্ট করেন তিনি। সেখানে তথ্যচিত্রটিকে একই সঙ্গে ‘ট্র্যাজেডি এবং কমেডি’ বলে কটাক্ষ করেন পাক সেনার মুখপাত্র। শরিফের অভিযোগ, তথ্যচিত্রে ঘটনার নিরপেক্ষ বা পূর্ণাঙ্গ ছবি তুলে ধরা হয়নি। তাঁর দাবি, বাছাই করা সাক্ষাৎকার, আবেগঘন বর্ণনা এবং বলিউডের ধাঁচের দৃশ্যপট ব্যবহার করে পুরনো ঘটনাকে নতুন ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, তথ্যচিত্রের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার একটি ‘ঘরোয়া ভাবে গ্রহণযোগ্য’ সংস্করণ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। অপারেশন সিঁদুর শুরু হয়েছিল পহেলগাঁও হামলার পর। ২২ এপ্রিল ২০২৫ পহেলগাঁওয়ের বৈসরন এলাকায় জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে এক জন নেপালের নাগরিকও ছিলেন। এরপর ৭ মে ভারত অপারেশন সিঁদুর শুরু করে বলে সরকারি ভাবে জানানো হয়েছিল।
ডিসকভারি-র তথ্যচিত্রে এই অভিযানের পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং বাস্তবায়নের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। নির্মাতাদের দাবি, ভারতের সামরিক নেতৃত্ব এবং মাটিতে থাকা আধিকারিকদের বক্তব্যের মাধ্যমে এতদিনের প্রকাশ্য বয়ানের বাইরে গিয়ে সেই সময়ের নানা সিদ্ধান্ত ও পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
{{/usCountry}}ডিসকভারি-র তথ্যচিত্রে এই অভিযানের পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং বাস্তবায়নের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। নির্মাতাদের দাবি, ভারতের সামরিক নেতৃত্ব এবং মাটিতে থাকা আধিকারিকদের বক্তব্যের মাধ্যমে এতদিনের প্রকাশ্য বয়ানের বাইরে গিয়ে সেই সময়ের নানা সিদ্ধান্ত ও পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
{{/usCountry}}তবে পাকিস্তানের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। আহমেদ শরিফের দাবি, ভারত এই তথ্যচিত্রের মাধ্যমে নিজেদের ব্যর্থতাকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। তাঁর আরও অভিযোগ, কোনও সিনেমাটিক পুনর্গঠন ঘটনার প্রকৃত সময়ক্রম বদলাতে পারে না।
এমনকি তিনি দাবি করেছেন, বিমান হারানোর ঘটনা, সেনা হতাহতের সংখ্যা এবং সংঘর্ষের প্রকৃত চরিত্রও কোনও তথ্যচিত্রের মাধ্যমে আড়াল করা সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য, এসব বিষয় নিয়েই নাকি ভারতের প্রকাশ্য বয়ানের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির পার্থক্য রয়েছে।
পাক সেনার এই বক্তব্যে গত বছরের ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের বয়ানও নতুন করে সামনে এসেছে। ইসলামাবাদ ওই সংঘর্ষকে ‘মারকা-এ-হক’ নামে উল্লেখ করে থাকে। আহমেদ শরিফের দাবি, এক বছরেরও বেশি সময় পরেও ভারত নাকি সেই সংঘর্ষের ‘বাস্তবতা’ মেনে নিতে চাইছে না।
তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের আলাদা করে কোনও প্রচার তৈরি করার প্রয়োজন নেই। সামরিক অভিযানের নথি, যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং পরবর্তী সময়ে ভারতের বিভিন্ন বক্তব্যই নাকি প্রকৃত পরিস্থিতির প্রমাণ।
অন্য দিকে, ভারতীয় দিকের তথ্যচিত্রে অপারেশন সিঁদুরকে পহেলগাঁও হামলার জবাবে নেওয়া একটি পরিকল্পিত সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। নির্মাতাদের মতে, এই ৮৮ ঘণ্টার অভিযানের কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং বাস্তবায়ন সম্পর্কে আগে প্রকাশ্যে না আসা কিছু তথ্যও দর্শকদের সামনে আনা হয়েছে।
ফলে তথ্যচিত্র প্রকাশের পর ভারত-পাকিস্তানের পাল্টাপাল্টি বয়ান ফের সামনে এসেছে। এক দিকে ভারতের অভিযানের অন্তরালের তথ্য তুলে ধরার দাবি। অন্য দিকে পাকিস্তানের অভিযোগ, ঘটনাকে একতরফা ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ‘Declassified: Operation Sindoor’ এখন শুধু একটি তথ্যচিত্র নয়। এটি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে অপারেশন সিঁদুরের বয়ান নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক ও সামরিক বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।