ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যুতে সাম্প্রতিক মন্তব্য করার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। এক বিবৃতি দিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে 'উস্কানিমূলক' এবং 'দায়িত্বজ্ঞানহীন' বলে আখ্যা দিয়ে কড়া ভাষায় নিন্দা করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য কাশ্মীর প্রশ্নে আন্তর্জাতিক অবস্থানকে বিকৃতভাবে তুলে ধরছে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অনুকূল নয়।

পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক এক সরকারি বিবৃতিতে জানায়, ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য জম্মু ও কাশ্মীর সম্পর্কিত বাস্তব তথ্যকে বিকৃত করছে। তাদের দাবি, কাশ্মীর ইস্যু এখনও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধ এবং রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। সেই কারণে ভারতের একতরফা অবস্থানকে তারা প্রত্যাখ্যান করছে।
ইসলামাবাদের বক্তব্য, কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জনগণের ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত। পাকিস্তান দাবি করেছে, রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রস্তাব অনুযায়ী কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হওয়াই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ। একই সঙ্গে ভারতকে আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিপাক্ষিক প্রতিশ্রুতি মেনে চলার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।
উল্লেখ্য, কার্গিল বিজয় দিবসে রাজনাথ সিং বলেছছিলেন, পাকিস্তানের সাথে কথা হলে তা হবে শুধুমাত্র পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। যদিও ভারত বহুবার স্পষ্ট করেছে যে জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অভ্যন্তরীণ অংশ এবং এই বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের প্রশ্নই ওঠে না। নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের অবস্থান, পাকিস্তানকে যদি কোনও আলোচনা করতে হয়, তবে তা সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করার বিষয় নিয়েই হতে পারে।
ভারতীয় অবস্থানের বিপরীতে পাকিস্তান বরাবরই কাশ্মীর ইস্যুকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার চেষ্টা করে এসেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তারা এই বিষয়টি উত্থাপন করলেও ভারত বারবার জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয় এবং কোনও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার প্রয়োজন নেই।
{{/usCountry}}ভারতীয় অবস্থানের বিপরীতে পাকিস্তান বরাবরই কাশ্মীর ইস্যুকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার চেষ্টা করে এসেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তারা এই বিষয়টি উত্থাপন করলেও ভারত বারবার জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয় এবং কোনও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার প্রয়োজন নেই।
{{/usCountry}}বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের পর পাকিস্তানের এই প্রতিক্রিয়া অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। অতীতেও কাশ্মীর সংক্রান্ত ভারতীয় নেতাদের বক্তব্যের জবাবে ইসলামাবাদ একই ধরনের কড়া বিবৃতি দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদ, নিয়ন্ত্রণরেখায় সংঘর্ষ এবং কাশ্মীর প্রশ্নে মতবিরোধের কারণে কূটনৈতিক সম্পর্কও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতে পারেনি।
পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, পাকিস্তানের এই বিবৃতি মূলত তাদের দীর্ঘদিনের সরকারি অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি। অন্যদিকে, ভারতও কাশ্মীর প্রশ্নে নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসার ইঙ্গিত দেয়নি। ফলে এই ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য আগামী দিনেও বহাল থাকারই সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তানের কড়া প্রতিক্রিয়ার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পরিস্থিতির দিকেই নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।