আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তানের হম্বিতম্বির অন্ত নেই! এদিকে, পাকিস্তানের অধিকৃত কাশ্মীর বিক্ষোভের আগুনে উত্তাল। সেই বিক্ষোভ ১৯ দিনে পড়েছে শনিবার। গোটা একটা এলাকা সেখানে ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে। এমনই রিপোর্ট মিডিয়া মারফৎ উঠে আসছে। ইতিমধ্যেই আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান্স ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই, বলে বার্তা দিয়েছেন। তাতে কম অস্বস্তিতে পড়েনি ইসলামাবাদ! তারই মাঝে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে বিদ্রোহ দমনে সচেষ্ট শেহবাজ সরকার।
সদ্য, আমেরিকা-ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার আলোচনায় অংশ নিতে সুইৎজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। সঙ্গে রয়েছেন পাকিস্তানের সেনার সর্বেসর্বা সেদেশের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। এদিকে, ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ১৯তম দিনে পদার্পণ করায় পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) শনিবারও অশান্তিতে জর্জরিত ছিল। সিএনএন-নিউজ ১৮র খবর অনুসারে, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর,যা ‘আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর’ নামেও পরিচিত, সেখানে পাকিস্তান এমন এক ব্যবস্থা আরোপ করেছে যাকে বিক্ষোভকারীরা ‘সম্পূর্ণ খাদ্য অবরোধ’ হিসেবে অভিহিত করছেন, একই সাথে সেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রয়েছে এবং প্রধান সড়কগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে বলে রিপোর্ট দাবি করছে।
ওই প্রতিবেদন বলছে, পিওকে জুড়ে এই বিধিনিষেধগুলো পুরো অঞ্চলজুড়ে দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে,সেই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি ও জনমনে ক্ষোভ বৃদ্ধির খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ এবং ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (জ্যাক)-র সমর্থকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যেই এই নতুন ঘটনাপ্রবাহ সামনে এসেছে, উল্লেখ্য, চলমান প্রতিবাদ আন্দোলনের প্রধান মুখ হিসেবে এই কমিটি আত্মপ্রকাশ করেছে। বিক্ষোভের নেতারা দাবি করছেন যে, সেনাবাহিনী-পরিচালিত অভিযান শুরুর পর থেকে ১,৪৩৫ জনেরও বেশি কাশ্মীরিকে হয় আটক করা হয়েছে, নয়তো তাঁরা নিখোঁজ রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ যখন জেএএসি-র সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তু করা অব্যাহত রেখেছে, ঠিক তখনই এই গ্রেফতারের ঘটনাগুলো ঘটল, অথচ সংগঠনটির নেতারা আন্দোলন থেকে সরে আসার জন্য সৃষ্ট চাপ প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেএএসি-র নেতারা তাঁদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার এবং পাকিস্তানের পক্ষ থেকে চালানো তথাকথিত সামরিক আগ্রাসনের মুখে নতি স্বীকার না করার অঙ্গীকার করেছেন। অঞ্চলের ৪৫ সদস্যের বিধানসভার ২৭ জুলাইয়ের নির্বাচনে শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষণের বিরুদ্ধে জেএএসি -এর ডাকা ৯ জুনের ধর্মঘটের প্রাক্কালে এই অস্থিরতা শুরু হয়। আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান লিয়াকত আলী মালিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, এই অস্থিরতার সময় চারজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত, ৯৭ জন আহত এবং ৫১৫ জন মানুষকে আটক করা হয়েছে।