ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় কেঁপে উঠল পাকিস্তান। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় ঘটনাটি ঘটে গত ২ এপ্রিল গভীর রাতে। ডোমেল তেহসিলে একটি থানা লক্ষ্য করে একটি গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ হয়। সেই বিস্ফোরণে তিন নারী ও এক শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পাক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী বিস্ফোরক বোঝাই গাড়িটিকে থানার দেয়ালে ধাক্কা দেয়। বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে দূরদূরান্ত পর্যন্ত এর প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছিল।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বিস্ফোরণে থানা ভবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সঙ্গে আশেপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ির ছাদ ও দেয়ালও ধসে পড়েছে। প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে, ধ্বংসস্তূপের চাপা পড়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্ধারকারী দল গভীর রাত পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। হামলায় অন্তত চার পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পরপরই এলাকায় ভারী গোলাবর্ষণ শুরু হয়। এর জেরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ মনে করছে, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল থানা। থানাটিক পুরোপুরি ধ্বংস করে নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষতি করাই ছিল এই হামলার আসল উদ্দেশ্য। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকেও অতিরিক্ত দল ডেকে আনা হয় সেখানে।
বান্নু জেলা বেশ কিছুদিন ধরেই জঙ্গিদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। শুধু বান্নু নয়, খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালোচিস্তান প্রদেশ জুড়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের ওপর হামলা বেড়েছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে চলমান সংঘাতের জেরে এই প্রদেশগুলিতে উত্তেজনা চরমে। এহেন পরিস্থিতিতে এই হামলাগুলি চালানো হচ্ছে। ইসলামাবাদ বারবার অভিযোগ করে আসছে যে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) মতো সংগঠনগুলি আফগান মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। যদিও ইসলামাবাদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তালিবান। বরং পাকিস্তানের নির্বিচারে হামলার পালটা জবাব দিচ্ছে আফগান বাহিনী।