সদ্য কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বারতের সফরে এসেছিলেন। সেই সময় কানাডা ও ভারতের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যে চুক্তি অনুযায়ী ভারতকে, কানাডা ইউরেনিয়াম সরবরাহ করে ভারতের অসামরিক নিউক্লিয়ার রি অ্যাক্টারের ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। এই ইউরেনিয়ামের চুক্তিই পাকিস্তানের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে। আজ ইসলামাবাদের তরফে এই চুক্তি নিয়ে মুখ খোলেন সেদেশের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি।
পাকিস্তানের তরফে একটি বিবৃতিতে একাধিক অনুমান প্রকাশ করা হয়েছে। ভারত-কানাডার ইউরেনিয়াম নিয়ে এই চুক্তিতে গভীর 'উদ্বেগ' প্রকাশ করে ইসলামাবাদের বার্তা, যে নিশ্চিত বহিরাগত ইউরেনিয়াম সরবরাহ ভারতকে সামরিক উদ্দেশ্যে অভ্যন্তরীণ মজুদ ব্যবহার করার সুযোগ করে দিতে পারে, যা সম্ভাব্যভাবে বিভাজন পদার্থের(বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া যায় এমন কিছুর উপযোগী) মজুদ সম্প্রসারণ করতে পারে এবং দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। এই চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের চিন্তার শেষ নেই! তারা, ভারতের ১৯৭৪ সালের পারমাণবিক পরীক্ষার কথা উল্লেখ করে বলেছে যে পরীক্ষায় ব্যবহৃত প্লুটোনিয়াম শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে কানাডার সরবরাহকৃত একটি চুল্লি থেকে এসেছিল, যা নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপ তৈরির দিকে পরিচালিত করে।
সোজা কথায়, পাকিস্তানের ভয়, ভারত যদি ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার বাড়িয়ে নেয়, তাহলে তা সামরিক কাজে ব্যবহার করতে পারে। তাতে ভারতের ‘পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের বৃদ্ধি হতে পারে’, আশঙ্কায় ভুগছে পাকিস্তান। এর আগে ভারত ও কানাডার মধ্যে ইউরেনিয়াম নিয়ে বিশেষ একটি চুক্তি হয়। চুক্তির অধীনে, কানাডার ক্যামেকো কর্পোরেশন ২০২৭ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতের পারমাণবিক শক্তি বিভাগকে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ পাউন্ড (১১,০০০ টন) ইউরেনিয়াম আকরিক ঘনীভূত অবস্থায় সরবরাহ করবে। এই জ্বালানি ভারতের অসামরিক পারমাণবিক চুল্লিগুলিকে (রিঅ্যাক্টারগুলিকে) সমর্থন করবে এবং ২০৩১ সালের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২২ গিগাওয়াটে উন্নীত করতে সহায়তা করবে। চুক্তি অনুযায়ী, ছোট মডুলার চুল্লি এবং উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করবে দুই দেশ।