...
...
Next Story

এয়ার টু এয়ার মিসাইল পরীক্ষা পাকিস্তানের! ভারতের চিন্তা বাড়াবে ফা'আজ?

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দাবি, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র দূরপাল্লার আকাশপথের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর ফলে পাকিস্তান বায়ুসেনার (PAF) যুদ্ধ করার ক্ষমতা এবং কৌশলগত নমনীয়তা আরও বাড়বে।

Published on: Nov 5, 2026, 10:33:39 IST
Advertisement

দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে বড় পদক্ষেপ পাকিস্তানের। প্রথম বার নিজেদের তৈরি আকাশ থেকে আকাশে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করল পাকিস্তান। ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম ‘ফা'আজ’ (Fa’az)। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দাবি, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র দূরপাল্লার আকাশপথের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর ফলে পাকিস্তান বায়ুসেনার (PAF) যুদ্ধ করার ক্ষমতা এবং কৌশলগত নমনীয়তা আরও বাড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরীক্ষা সফল হলে আমেরিকা ও চিনের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের উপর পাকিস্তানের নির্ভরতা কমানোর পথ খুলে যেতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার আকাশপথে সামরিক ভারসাম্য নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।

প্রথম বার নিজেদের তৈরি আকাশ থেকে আকাশে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করল পাকিস্তান
প্রথম বার নিজেদের তৈরি আকাশ থেকে আকাশে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করল পাকিস্তান

৩ নভেম্বর মঙ্গলবার ফা'আজের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়। পরের দিন ৪ নভেম্বর বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সংবাদমাধ্যম শাখা আইএসপিআর। তাদের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটিতে অত্যাধুনিক টার্মিনাল গাইডেন্স ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি পৌঁছেও সেটিকে নির্ভুল ভাবে অনুসরণ করে আঘাত হানার প্রযুক্তি রয়েছে এই ক্ষেপণাস্ত্রে। পরীক্ষার সময় পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদেরা। তাঁদের প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির।

কতটা শক্তিশালী ফা'আজ?

এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রকৃত পাল্লা, সর্বোচ্চ গতি এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করেনি পাকিস্তান। তবে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফা'আজ সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ১০০ কিলোমিটারের বেশি হতে পারে। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় শব্দের গতির ৩.৫ গুণ পর্যন্ত বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এগুলি নির্মাতা সংস্থার প্রকাশিত তথ্য। পরীক্ষায় সেই সক্ষমতা পুরোপুরি প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

পাকিস্তানের প্রকাশিত পরীক্ষার ভিডিয়োয় জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছুড়তে দেখা গিয়েছে। এই যুদ্ধবিমান পাকিস্তান ও চিনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি। ফলে ফা'আজ ক্ষেপণাস্ত্র জেএফ-১৭-এর সঙ্গে যুক্ত করা গেলে পাকিস্তানের নিজস্ব যুদ্ধবিমান এবং দেশীয় অস্ত্রের সমন্বয় আরও বাড়বে। যদিও কোন কোন যুদ্ধবিমানে ভবিষ্যতে এটি ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি ইসলামাবাদ।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২৩ সালে তুরস্কের ইস্তানবুলে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে ফা'আজের দুটি সংস্করণের মডেল প্রথম প্রকাশ্যে আনা হয়েছিল। পাকিস্তানের ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্টিফিক কমিশনের অধীনে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এত দিন পর্যন্ত আকাশ থেকে আকাশে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে আমেরিকার এআইএম-১২০ অ্যামরাম এবং চিনের পিএল সিরিজের অস্ত্রের উপর নির্ভর করতে হত পাকিস্তানকে। দেশীয় ফা'আজ সেই নির্ভরতা কমাতে পারে।

ভারতের জন্যও এই পরীক্ষা নজরে রাখার মতো। ভারতের হাতে রয়েছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র। পাশাপাশি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও চলছে। পাকিস্তানের ফা'আজ প্রকল্প কতটা সফল হয়, তা নির্ভর করবে পরবর্তী পরীক্ষা, যুদ্ধবিমানের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ এবং পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনের উপর। শুধু একটি সফল পরীক্ষার ভিত্তিতে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে যুদ্ধের ময়দানে পরীক্ষিত অস্ত্র বলা যাবে না। তবে নিজেদের প্রযুক্তিতে আকাশযুদ্ধের অস্ত্র তৈরির পথে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা পর্যবেক্ষকেরা।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks