দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে বড় পদক্ষেপ পাকিস্তানের। প্রথম বার নিজেদের তৈরি আকাশ থেকে আকাশে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করল পাকিস্তান। ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম ‘ফা'আজ’ (Fa’az)। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দাবি, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র দূরপাল্লার আকাশপথের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর ফলে পাকিস্তান বায়ুসেনার (PAF) যুদ্ধ করার ক্ষমতা এবং কৌশলগত নমনীয়তা আরও বাড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরীক্ষা সফল হলে আমেরিকা ও চিনের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের উপর পাকিস্তানের নির্ভরতা কমানোর পথ খুলে যেতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার আকাশপথে সামরিক ভারসাম্য নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।

৩ নভেম্বর মঙ্গলবার ফা'আজের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়। পরের দিন ৪ নভেম্বর বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সংবাদমাধ্যম শাখা আইএসপিআর। তাদের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটিতে অত্যাধুনিক টার্মিনাল গাইডেন্স ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি পৌঁছেও সেটিকে নির্ভুল ভাবে অনুসরণ করে আঘাত হানার প্রযুক্তি রয়েছে এই ক্ষেপণাস্ত্রে। পরীক্ষার সময় পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদেরা। তাঁদের প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির।
কতটা শক্তিশালী ফা'আজ?
এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রকৃত পাল্লা, সর্বোচ্চ গতি এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করেনি পাকিস্তান। তবে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফা'আজ সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ১০০ কিলোমিটারের বেশি হতে পারে। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় শব্দের গতির ৩.৫ গুণ পর্যন্ত বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এগুলি নির্মাতা সংস্থার প্রকাশিত তথ্য। পরীক্ষায় সেই সক্ষমতা পুরোপুরি প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ফা'আজের দুটি সংস্করণের কথা প্রকাশ্যে এসেছে। একটি ফা'আজ-আরএফ। এতে রয়েছে অ্যাক্টিভ রেডার গাইডেন্স প্রযুক্তি। অন্যটি ফা'আজ-আইআইআর। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ইমেজিং ইনফ্রারেড প্রযুক্তি। প্রথমটি রেডার ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুকে চিহ্নিত করে। দ্বিতীয়টি শত্রু বিমানের তাপের উপস্থিতি শনাক্ত করে লক্ষ্য অনুসরণ করতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের অনুমান, পরীক্ষায় ফা'আজ-আইআইআর সংস্করণটি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
কোন বিমান থেকে ছোড়া হল ক্ষেপণাস্ত্র?
{{/usCountry}}ফা'আজের দুটি সংস্করণের কথা প্রকাশ্যে এসেছে। একটি ফা'আজ-আরএফ। এতে রয়েছে অ্যাক্টিভ রেডার গাইডেন্স প্রযুক্তি। অন্যটি ফা'আজ-আইআইআর। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ইমেজিং ইনফ্রারেড প্রযুক্তি। প্রথমটি রেডার ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুকে চিহ্নিত করে। দ্বিতীয়টি শত্রু বিমানের তাপের উপস্থিতি শনাক্ত করে লক্ষ্য অনুসরণ করতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের অনুমান, পরীক্ষায় ফা'আজ-আইআইআর সংস্করণটি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
কোন বিমান থেকে ছোড়া হল ক্ষেপণাস্ত্র?
{{/usCountry}}পাকিস্তানের প্রকাশিত পরীক্ষার ভিডিয়োয় জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছুড়তে দেখা গিয়েছে। এই যুদ্ধবিমান পাকিস্তান ও চিনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি। ফলে ফা'আজ ক্ষেপণাস্ত্র জেএফ-১৭-এর সঙ্গে যুক্ত করা গেলে পাকিস্তানের নিজস্ব যুদ্ধবিমান এবং দেশীয় অস্ত্রের সমন্বয় আরও বাড়বে। যদিও কোন কোন যুদ্ধবিমানে ভবিষ্যতে এটি ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি ইসলামাবাদ।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২৩ সালে তুরস্কের ইস্তানবুলে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে ফা'আজের দুটি সংস্করণের মডেল প্রথম প্রকাশ্যে আনা হয়েছিল। পাকিস্তানের ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্টিফিক কমিশনের অধীনে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এত দিন পর্যন্ত আকাশ থেকে আকাশে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে আমেরিকার এআইএম-১২০ অ্যামরাম এবং চিনের পিএল সিরিজের অস্ত্রের উপর নির্ভর করতে হত পাকিস্তানকে। দেশীয় ফা'আজ সেই নির্ভরতা কমাতে পারে।
ভারতের জন্যও এই পরীক্ষা নজরে রাখার মতো। ভারতের হাতে রয়েছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র। পাশাপাশি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও চলছে। পাকিস্তানের ফা'আজ প্রকল্প কতটা সফল হয়, তা নির্ভর করবে পরবর্তী পরীক্ষা, যুদ্ধবিমানের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ এবং পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনের উপর। শুধু একটি সফল পরীক্ষার ভিত্তিতে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে যুদ্ধের ময়দানে পরীক্ষিত অস্ত্র বলা যাবে না। তবে নিজেদের প্রযুক্তিতে আকাশযুদ্ধের অস্ত্র তৈরির পথে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা পর্যবেক্ষকেরা।